Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি?‌ ১৫ বছরের ব্যর্থতা ফাঁস!‌ বেকারভাতার লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন ৬৫ লক্ষের বেশী!‌ অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে সংখ্যাটা?‌

পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক যুবতীদের জন্য ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য জেলায় জেলায় ক্যাম্পে লম্বা লাইন পড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে যুব সাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তিনি লিখেছেন, ‘যুব সাথী ও কিছু কথা!গতকাল রাত পর্যন্ত বেকার ভাতা পেতে প্রায় ৫৮ লাখ যুবক-যুবতী আবেদন জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ডায়মন্ড হারবার মডেলের দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। তারপরেই মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনা। আবেদনকারীর সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়াতে পারে বলে নবান্নের আশঙ্কা। কারণ এপ্রিলে সরকারকে ১১/১২ হাজার কোটি টাকা জোগাড় করতে হবে। ফলে বেকার ভাতার চাপে পাকা সরকারি চাকুরেদের ডিএ জুটবে না, এটা নিশ্চিত।’ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘তৃণমূল অবশ্য ৭০ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের ভাতার আবেদনকে অভূতপূর্ব সাফল্য বলে দেখাতে শুরু করেছে। কিন্তু এই একটি প্রকল্পই তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের ব‍্যর্থতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে। রাজ্যে যদি ৭০ লাখ মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতী ভাতার লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তো ধরে নেওয়া যায়, অন্তত আরও ৩০ লাখ আরও শিক্ষিত বেকার আছেন যাঁরা আত্মসম্মানের খাতিরে বেকার থাকলেও ভাতার লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েননি। তাই তৃণমূল সরকার যাওয়ার আগে ১ কোটি শিক্ষিত বেকার রেখে যাচ্ছে।’ ৭৫ লাখ পরিযায়ী শ্রমিক যারা ভিন রাজ্যে কাজ করছেন, তারাও বেকার। পাশাপাশি মাধ্যমিক অনুত্তীর্ণ বেকার যাঁরা রাজ্যে রয়ে গেছেন, তাঁদের সংখ্যাও প্রায় ৫০ লাখ। সব মিলিয়ে রাজ‍্যে বেকারের সংখ্যা কম করে সোয়া ২ কোটি বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘গত ১৫ বছর সরকার চালিয়ে তৃণমূলের এটাই সবচেয়ে বড় অবদান। ক্ষমতায় এসে তৃণমূল এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ তুলে দিয়েছিল। কারণ সেখানে প্রতি বছর বেকারেরা নাম লেখাতেন। যাওয়ার বেলায় বেকার ভাতা দিতে গিয়ে অন্তত নিজের ব‍্যর্থতাকে বেআব্রু করে দিয়েছে নবান্ন।’১৫ বছরে সরকারি চাকরি না হওয়া, বেসরকারি ক্ষেত্রে, পরিষেবা ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান না হওয়া সরকারের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করে বলেন, শিল্পে বিনিয়োগ নেই। স্বনিযুক্তি প্রকল্পেও বেকারেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ‘রাজ‍্যে বেকারদের অধিকাংশই মাধ্যমিক পাশ। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষার শ্মশান যাত্রা হয়েছে। সরকারি সাফল্যের ঢাক বলছে, এরাজ‍্যে শিক্ষিত বেকারদের রোজের দাম ৫০ টাকা। মাসে ১৫০০ টাকা। চূড়ান্ত অপমান। কিন্তু যাঁরা বেকার ভাতা পাবেন তাঁরা কি সবাই তাহলে তৃণমূলের ভোটার হয়ে গেলেন?’ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, কর্মহীনরা বলছেন, সরকারি টাকা যেমন তারা নেবেন, ভোটও বুঝে দেবেন। ‘বেকারদের এই বুঝে ভোট দেওয়ার সচেতনতাই মনে হয় বাংলার বাতাসে আওয়াজ তুলেছে, পাল্টানো দরকার।

অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে বলা যেতে পারে, বাংলায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্য বাজেটে ঘোষিত হয়েছিল ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। গত ১৬ তারিখ থেকে শুরু হয়েছিল নাম নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবারই সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আর এই প্রকল্পে আবেদনের মোট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৭৮। সরকারি তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩১৫টি আবেদন। জেলা ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে – ৭ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৭৬টি। তার পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ ৬ লক্ষ ০৬ হাজার ৩৬৫ এবং উত্তর ২৪ পরগনা ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩৪০। এক নজরে জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান –

বাঁকুড়া – ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৮৬৪
পুরুলিয়া – ৩ লক্ষ ০৪ হাজার ৬০৪
নদিয়া – ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ০৬১
হুগলি – ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬২৮
পূর্ব বর্ধমান – ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪১৫
পশ্চিম মেদিনীপুর – ২ লক্ষ ৯০ হাজার ৪৮৫
হাওড়া – ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৩৫
পূর্ব মেদিনীপুর – ৩ লক্ষ ০৮ হাজার ৭০৮
বীরভূম – ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ০৭৪
জলপাইগুড়ি – ২ লক্ষ ১২ হাজার ১৬২
কোচবিহার – ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৯৯
পশ্চিম বর্ধমান – ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৯০
মালদহ – ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৬২৪
উত্তর দিনাজপুর – ১ লক্ষ ৯০ হাজার ৪৯২
দক্ষিণ দিনাজপুর – ১ লক্ষ ২৬ হাজার ০৭০
কলকাতা – ১ লক্ষ ৬২ হাজার ০৬০
আলিপুরদুয়ার – ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৭০৩
দার্জিলিং – ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৭২৭
ঝাড়গ্রাম – ৮৫ হাজার ০৬৫
কালিম্পং – ২০ হাজার ৪৩৯

উপরে দেওয়া তথ্য বৃহস্পতিবার সন্ধে পর্যন্ত। কিন্তু দিনের শেষে পৌনে ন’টার রিপোর্ট বেরোতেই দেখা গেল, সংখ্যাটা আরও খানিকটা বেড়ে হয়েছে ৬৫ লক্ষ ৫৭৯। এবং এটিই চূড়ান্ত। অন্যদিকে, সূত্রের খবর অনলাইনে বেকার ভাতার আবেদনের সংখ্যাটা ২৫ লক্ষ ছুঁইছুঁই। মোট কথা, অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে বলা যেতে পারে, বাংলায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles