টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বেশি চর্চা ছিল অভিষেককে নিয়ে। চর্চার বিষয়বস্তু ছিল, ভারতীয় ওপেনারের বিধ্বংসী ফর্ম। সেই ছবিটা একেবারে পালটে যায় বিশ্বকাপ শুরু হতেই। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে যান। তারপর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিষেক। ভর্তি হন হাসপাতালে। গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেও অভিষেকের সংগ্রহ শূন্য। তারকা ওপেনারের ফর্ম নিয়ে সমালোচনা শুরু। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ১২ বলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হয়ে যান অভিষেক। বাড়ে সমালোচনার মাত্রা। টিম ম্যানেজমেন্ট বরাবর অভিষেকের পাশে থেকেছে। তাঁকে দলের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, ব্যর্থতা নিয়ে কোনও ভাবার দরকার নেই। আগের ম্যাচগুলোতে কী হয়েছে, সে’সব পুরো ভুলে যাও। জিম্বাবোয়ে ম্যাচ থেকে সব নতুন করে শুরু করো। সেই মন্ত্রকেই আত্মস্থ করে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ইনিংস শুরু করেন। প্রথমদিকের কয়েকটা ডেলিভারি ‘শান্ত’ থাকার পর চেনা ছন্দে ধরা দেন। বিশাল মাপের ছক্কা হাঁকান। ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সমালোচকদের জবাব দিয়ে দিলেন তরুণ তুর্কি। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিততে পারলে সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটা মসৃণ হবে ভারতের। তাই শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলেছেন সঞ্জু স্যামসনরা। পাওয়ার প্লে’তেই ৮০ রান তুলে ফেলে ভারত। ইশান কিষান, সূর্যকুমার যাদবরাও ঝোড়ো ব্যাটিং করছেন। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতোই বড় রান তুলতে পারে ভারত। বিরাট ব্যবধানে ভারত জিতলে তার কৃতিত্ব অনেকখানিই যাবে ‘কামব্যাক কিং’ অভিষেকের ঝুলিতে। প্রথম ইনিংসে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে মাঠ ছাড়ল মেন ইন ব্লু। বিশ্ব ক্রিকেটে তৈরি হল নতুন নজির। টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ রান ছিল ২১৮। যে ম্যাচে যুবরাজ সিং এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন, সেই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। ১৯ বছর ধরে অক্ষত থাকা সেই নজির ভেঙে খানখান হয়ে গেল হার্দিক পাণ্ডিয়া-অভিষেক শর্মাদের দাপটে। ২০ ওভার শেষে মেন ইন ব্লু থামল ২৫৬ রানে। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে এটাই সর্বোচ্চ রান। সর্বকালের রেকর্ড বইয়েও জায়গা করে নিল বৃহস্পতিবারের ম্যাচ। টি-২০ বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৬০ রানের নজির রয়েছে। সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিলেন সূর্যরা। ওপেন থেকে সরিয়ে এদিন তিন নম্বরে নামানো হয় ঈশান কিষানকে। নতুন ভূমিকাতেও সফল তিনি। ২৪ বলে ৩৮ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। তবে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর থেকে মেন ইন ব্লুর রানের গতি আরও বেড়ে যায়। ক্যাপ্টেনস নকে সূর্য করেন ১৩ বলে ৩৩ রান। হার্দিক পাণ্ডিয়া আর তিলক বর্মার ব্যাটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে বহু সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু মন্থর ব্যাটিংয়ের খোলস ঝেড়ে ফেলে তিলক করলেন ১৬ বলে ৪৪ রান। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করলেন হার্দিক। দিনকয়েক আগে এই জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধেই ২৫৪ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেটাই ছিল চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান। সেই নজির টপকে নতুন ইতিহাস লিখল মেন ইন ব্লু।





