‘মহারানি গ্রেট এসকেপ’ পরিষেবা। ১০৬ বছরের প্রাচীন সেই ইতিহাস আবার ফিরছে ‘মহারানি গ্রেট এসকেপ’ পরিষেবার হাত ধরে। দার্জিলিংয়ে চাঁদনি রাতে চা পাতা তুলতে দেখা যাবে টয়ট্রেন থেকে! পর্যটকদের জন্য বড় উপহার হিমালয়ান রেলের। চাঁদনি রাতে জ্যোৎস্নায় ভেসে পাহাড়ের গা বেয়ে ট্রেন সফর করতে চান! চা পাতা তুলতে দেখতে চান? মোটেও হেয়ালি নয়। পর্যটক টানতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) এমনই অভিনব রোমান্টিক সফরসূচি সাজিয়েছে। চাঁদনি রাতে জ্যোৎস্নায় ভেসে পাহাড়ের গা বেয়ে ট্রেন সফর করতে চান! চা পাতা তুলতে দেখতে চান? মোটেও হেয়ালি নয়। পর্যটক টানতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) এমনই অভিনব রোমান্টিক সফরসূচি সাজিয়েছে। কোচবিহারের মহারানি ইন্দিরা দেবীর স্মৃতিতে প্রকল্পের নামকরণ হয়েছে ‘মহারানি গ্রেট এসকেপ’৷ বিলাসবহুল চার্টার্ড ওই পরিষেবা মার্চ মাস থেকে প্রতি পূর্ণিমার রাতে মিলবে। ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯২০ সালে কোচবিহারের মহারাজ জিতেন্দ্র নারায়ণের স্ত্রী মহারানি ইন্দিরা দেবী শৈলশহরের উইন্ডমেয়ার হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। তিনি ছিলেন বরোদার মহারাজা তৃতীয় সয়াজিরাও গায়কোয়াড়ের মেয়ে। কিন্তু পাহাড়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একঘেয়েমি লাগায় বেরিয়ে আসতে চান। সুযোগ বুঝে ডিএইচআর-এর তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজারের সাহায্যে সেখান থেকে গোপনে বেরিয়েও যান। ওই সময় ডিএইচআরের ম্যানেজার ছিলেন আরজি এডিস। এরপর জ্যোৎস্নারাতে টয়ট্রেনে নিজের মতো করে পার্টির আয়োজন করেন মহারানি এবং কাউকে কিছু জানতে না-দিয়ে সমতলে নেমে আসেন৷ মার্চ থেকে সেটা উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। প্রতি পূর্ণিমার রাতে মিলবে অভিনব নস্টালজিক পরিষেবা। ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দার্জিলিং থেকে নির্দিষ্ট ট্রেন যাত্রা শুরু করবে। যাত্রার মাঝে পর্যটকদের তিনধারিয়া ওয়ার্কশপ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে। ট্রেনে তিব্বতি চায়ের পেয়ালায় চুমুক দেওয়ার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। রংটং থেকে সুকনা হয়ে গুলমায় যাত্রা শেষ হবে। সেখানে লোকসঙ্গীত ও নৃত্যের আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি থাকবে রাজকীয় ডিনারের ব্যবস্থা৷ বরাত ভালো থাকলে চাঁদনি রাতে জ্যোৎস্নায় চা পাতা তোলার দৃশ্য উপভোগের সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।
গরমের ছুটিতে যারা দার্জিলিংয়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছকে রেখেছেন, তাঁদের জন্য রোমাঞ্চকর অনেক কিছুই অপেক্ষা করছে। টয়ট্রেনের যাত্রার পাশাপাশি বনদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রেকিং, হাইকিং, গোর্খা জনজাতির খাওয়াদাওয়া, নাচগানের মতো আয়োজনও থাকবে। এমন অভিনব উদ্যোগ দেশে প্রথম বলেই দাবি ডিএইচআর কর্তৃপক্ষের। এমনিতেই ১৪৫ বছরের দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সম্মানপ্রাপ্ত৷ পাহাড়ের গা বেয়ে ‘কু ঝিক ঝিক’ আওয়াযে মন্থরগতিতে এগিয়ে চলার মজাই আলাদা। টি টিম্বার ট্রেইল পর্যটকদের পাহাড়ের প্রকৃতি ও চা-বাগানের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াবে। ওই পরিষেবার জন্য সিপাহিধুরা চা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেছে ডিএইচআর৷ সেটা চলবে সুকনা থেকে তিনধারিয়া পর্যন্ত৷ সুকনা থেকে সকালে চার্টার্ড টয়ট্রেন ছাড়বে৷ রংটংয়ে সিপাহিধুরা চা-বাগানের কাছে ট্রেন দাঁড়াবে৷ সেখানে চা-পাতা তোলা, চা-পাতার কারখানা, টি টেস্টিং সেন্টার দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা৷ সঙ্গে স্থানীয় গ্রামের খাবার, সামগ্রী কিনতে পারবেন৷ কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, “পর্যটকরা ঘন জঙ্গল, অর্কিড বাগান দেখবেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য বনকর্মী ও গাইড থাকবে।” ডিএইচআরের অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী বলেন, “হেরিটেজ টয়ট্রেনে এখানকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিবেশের সঙ্গে পর্যটকদের মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে এমন পরিকল্পনা।” ‘মহারানি গ্রেট এসকেপ’ ছাড়াও মিলবে বাঘিরা জঙ্গল ট্রেইল এবং টি টিম্বার ট্রেইল। এই চার্টার্ড পরিষেবা ইতিমধ্যে বাজিমাত করেছে ডিএইচআর৷ কার্শিয়াং বনবিভাগ সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ওই চার্টার প্রকল্প চলছে। বাঘিরা জঙ্গল ট্রেইলটি চলছে টুং থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত৷ সকাল ১০টায় পর্যটকরা ডাউহিলে একত্রিত হন৷ সেখান থেকে বনকর্মীদের সঙ্গে চলে দু’ঘণ্টার ট্রেকিং৷ ট্রেকিংয়ের মধ্যে রয়েছে ফরেস্ট মিউজিয়াম, হেভেন ভিউ পয়েন্ট এবং শতাব্দী প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ ঘুরে দেখা। এরপর সেখান থেকে কার্শিয়াং রেল স্টেশনে পৌঁছে যান পর্যটকরা। সেখান থেকে টয়ট্রেনে মহানদী হয়ে গিদ্দা পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেতাজি মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন পর্যটকরা। সেখান থেকে কার্শিয়াংয়ে ফেরা।





