হালিম-কাবাব-শাহী টুকরার মৌতাতে মাতোয়ারা জাকারিয়া স্ট্রিট! রমজান মানেই জাকারিয়া স্ট্রিট। নাখোদা মসজিদের মিনারে যখন উৎসবের আলো জ্বলে ওঠে, তখন এই অঞ্চলটি যেন একখণ্ড লখনউ বা হায়দ্রাবাদ। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রমজানের আবহে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে তিলোত্তমার এই ঐতিহ্যবাহী কোণ। ধোঁয়া ওঠা কাবাব আর হালিমের গন্ধে ম ম করছে বাতাস। নাখোদা মসজিদের মিনারে যখন উৎসবের আলো জ্বলে ওঠে, তখন এই অঞ্চলটি যেন একখণ্ড লখনউ বা হায়দ্রাবাদ। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রমজানের আবহে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে তিলোত্তমার এই ঐতিহ্যবাহী কোণ। ধোঁয়া ওঠা কাবাব আর হালিমের গন্ধে ম ম করছে বাতাস। শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভোজনরসিকদের মূল গন্তব্য এখন জাকারিয়া স্ট্রিট। রমজানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হল এক বাটি গরম গরম হালিম। ডাল, মাংস আর গোপন মশলার দীর্ঘক্ষণের পরিশ্রমে তৈরি হয় এই রাজকীয় পদ। এখানকার কয়েক দশকের পুরনো দোকানগুলোর হালিম মুখে দিলেই পাবেন স্বর্গীয় তৃপ্তির স্বাদ। কাবাব প্রেমীদের কাছে ‘আদমস এনামেল’ এক তীর্থস্থান। সুতো দিয়ে পেঁচানো এই নরম তুলতুলে কাবাব জাকারিয়ার সিগনেচার ডিশ। মুখে দিলেই যেন মাখনের মতো মিলিয়ে যায়। এটি মিস করা অপরাধ। মুরগির পদের সন্ধানে থাকলে আপনাকে যেতে হবে দিলশাদ বা আমানত-এ। এখানকার ধোঁয়া ওঠা কাঠকয়লার আগুনে সেঁকা আফগানি চিকেন বা মালাই কাবাব স্বাদে অনন্য। মশলার তীব্রতা আর মাংসের রসালো ভাবের এক নিখুঁত মেলবন্ধন একমাত্র এখানেই পাবেন। বিশাল কড়াইয়ে ডুবো তেলে ভাজা মশলাদার মাছের নাম ‘মাহি আকবরি’। মাছের পেটি থেকে শুরু করে আস্ত চাকা মাছ, সবকিছুই মিলবে এখানে। এই মচমচে মাহি আকবরি জাকারিয়া স্ট্রিটের অন্যতম সেরা আকর্ষণ। একটু গ্রেভি দেওয়া পদ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য রয়েছে মুরগ চাঙ্গেজি। মাখন ও ক্রিম মিশ্রিত ঘন গ্রেভিতে ডোবানো চিকেনের টুকরোগুলো রুটি বা রুমালি পরোটার সঙ্গে স্বর্গীয় লাগে। এর রাজকীয় স্বাদ ভোলার মতো নয়। দিল্লির জামা মসজিদের মহব্বত কা শরবত এখন জাকারিয়ার গর্ব। ঠান্ডা দুধ, রূহ-আফজা আর তরমুজের কুচি দিয়ে তৈরি এই গোলাপি শরবত ইফতারের তৃষ্ণা মেটাতে সেরা। এক গ্লাস শরবতেই সারাদিনের ক্লান্তি নিমেষে উধাও হয়ে যায়। মিষ্টিমুখ ছাড়া ভোজন সম্পন্ন হয় না। ঘিয়ে ভাজা পাউরুটি, রাবড়ি আর জাফরানের মিশেলে তৈরি শাহী টুকরা অমৃতের সমান। সঙ্গে মাটির ভাঁড়ে জমে থাকা ঘন ক্ষীরের ফিরনি যেন উৎসবের পূর্ণতা আনে। এটি পরম তৃপ্তিদায়ক। সম্প্রীতির এক অনন্য আখ্যান জাকারিয়া স্ট্রিট। শুধু খাবারের জায়গা নয়, কলকাতার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক এই স্থান। জাত-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ এখানে ভিড় জমান শুধু স্বাদের টানে। এই মেলা মানুষের মিলনস্থল, যা কলকাতার সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ ও উজ্জ্বল করে তোলে।





