তৃণমূলেই পাঁচ বছর আগে যাকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে টিকিট পাবেন কি না সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। পরপর দু’দিন কালীঘাটে রুদ্ধদ্বার বৈঠক মমতা-অভিষেকের। ছিলেন IPAC-কর্তাও! প্রার্থী তালিকায় থাকবেন কারা? নবীন নাকি প্রবীণ — কোন পক্ষের উপর জোর দেবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব? দলীয় সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, একাধিক নাম বাছাই হয়ে গিয়েছে। মোটামুটি ভাবে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। নির্বাচন ঘোষণা হলেই সেই তালিকা প্রকাশ করে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়বে তৃণমূল। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের কাজ সুষ্ঠভাবে শেষ হলেই ভোট ঘোষণা করে দেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সুতরাং, হাতে সময় বড় অল্প। এই আবহে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে রাজ্য়ের শাসক-বিরোধী সব পক্ষ। কালীঘাটেও দফায় দফায় বসছে বৈঠক। তাতে আবার উপস্থিত থাকছেন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন। নির্বাচনকে মাথায় রেখে বুধ এবং বৃহস্পতিবার দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে কালীঘাটে। আলোচনার কেন্দ্র প্রার্থী তালিকা। এবার নিজ দলের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করতে চান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মর্মে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন তিনি। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনও। নবীন নাকি প্রবীণ — কোন পক্ষের উপর জোর দেবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব? দলীয় সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, একাধিক নাম বাছাই হয়ে গিয়েছে। মোটামুটি ভাবে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। নির্বাচন ঘোষণা হলেই সেই তালিকা প্রকাশ করে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়বে তৃণমূল। ২ মার্চ বাংলার জন্য ভোট ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। চলতি বছর তিন দফাতে হতে পারে বিধানসভা নির্বাচন। দক্ষিণবঙ্গে ভোট হতে পারে দু’দফায় এবং উত্তরবঙ্গে হতে পারে এক দফায়। সুতরাং, শাসক শিবির হোক বা বিরোধী শিবির। সময় খুব অল্প। বদলেছে সমীকরণ। তৃণমূলেই পাঁচ বছর আগে যাকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে টিকিট পাবেন কি না সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। আনা হতে পারে, নবীন এবং সেলিব্রিটি মুখেদেরও। ইতিমধ্যেই সেই মর্মে তৃণমূল ভবনে চালু হয়েছে বায়োডাটা জমা দেওয়ার বক্স। দলের যে কোনও সদস্য এই বক্সে নির্দিষ্ট বিধানসভা উল্লেখ করে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন। কিন্তু দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। তা হলে এখন আবার এই বক্সের অর্থ কী? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা আসলেই এক প্রকার। যার রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবে আইপ্যাক। তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হবে তালিকা।
এদিকে, বিজেপি প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডেটা জমা দিলেন দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে যে কোনও একটিতে প্রার্থী হতে চেয়েছেন তিনি। মেদিনীপুর, বীজপুর ও নিউটাউনের জন্য বায়োডেটা জমা দিয়েছেন তিনি। ভোটের আগে দিলীপ পত্নীর বায়োডাটা জমা ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। দিলীপ ঘোষ বলেন, “প্রার্থী হতে চেয়ে হাজার হাজার বায়োডাটা জমা পড়ছে। উনিও দিয়েছেন। দল ঠিক করবে কী করবে না করবে।” রিঙ্কু মজুমদার বলেন, “আমি বাইরের কর্মী নই। আমি সিপিএম-কংগ্রেস থেকে আসিনি। বিজেপি দিয়েই রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু, সেটাতেই শেষ।” রিঙ্কু মজুমদারের দাবি, “আমি মিসেস ঘোষ হয়েছি মাত্র কয়েক মাস হল! কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে নিউটাউনে থাকি। দলের কাজ করেছি। বিয়ে, ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আমার পরিকল্পনাতেই ছিল মানুষের জন্য কাজ করব! সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। আর সিভি তো অনেকেই জমা করছেন। আমার তো একটা রাজনৈতিক সত্ত্বাও আছে, আমি চাই লড়াই করতে, জিততে চাইব অবশ্যই।” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দলীয় দপ্তরে আসছে বহু জীবনপঞ্জি। অনেকেই নিজেদের ‘সিভি’ জমা দিচ্ছেন প্রার্থী হতে চেয়ে। অন্যদিকে বাইপাসের ধারে তৃণমূল দপ্তরেও বসেছে জীবনপঞ্জি জমা দেওয়ার বাক্স।
দাদু পদ্মনিধি ধর ছিলেন ডোমজুড়ের তিন বারের সিপিএম বিধায়ক। কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম মুখ। বাবা পীযূষ ধর সিপিএমের শিশুফ্রন্ট ‘কিশোরবাহিনীর’ রাজ্য সম্পাদক। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যোগ রয়েছে মা দীপিকা ঠাকুর চক্রবর্তীরও। এক কথায় গোটা পরিবারই ‘লাল ব্রিগেড’। আর সেই পরিবারের সন্তান বিতর্কের আবহে সিপিএমের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন? দীপ্সিতার দাবি, “সবাই তো বলছেন, আমি জল মাপছি। তবে এই গোটা ব্যাপারটাই আমি মজার ছলে নিয়েছি। কারণ জানি এমন কিছু ঘটছে না। প্রতীক-উরদা চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তো কোনও চিঠি দিয়েছি বলে মনে পড়ছে না। অন্য কোনও দলের সঙ্গে কথা বলছি এমনটাও নয়। তা হলে এটা কি সুপরিকল্পিত ভাবে ছড়ানো একটা খবর? এর নেপথ্যে একটা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।” চারিদিকে যখন সিপিএমের যুবনেতা-নেত্রীদের তৃণমূলে যাওয়া নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সেই আবহে দীপ্সিতা বলছেন অন্য কথা। তাঁর কথায়, “আমি খুব মজার ছলেই বলছি। যদি যেতেই হয় সমাজবাদী পার্টিতে যাব। তাতে লালও রয়েছে, সমাজবাদও রয়েছে।” প্রয়াত বাম-বিধায়ক পদ্মনিধি ধরের নাতনিকে নিয়ে আকস্মিক গুঞ্জন তৈরির নেপথ্যে বড় ফ্য়াক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনী টিকিট। সিপিএমে একটা গুঞ্জন ছিল, দীপ্সিতা ধর বিধানসভা ভোটে টিকিট পাবেন। তাও আবার হুগলির উত্তরপাড়া থেকে। অবশ্য, তাঁর বাড়িও খুব কাছাকাছি, বালির ঘোষপাড়া। গত লোকসভা নির্বাচনে দীপ্সিতা শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। উত্তরপাড়া বিধানসভা এই শ্রীরামপুর লোকসভারই অন্তর্গত। জিততে না পারলেও, ওই বিধানসভা কেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন দীপ্সিতা। সুতরাং, উত্তরপাড়ার প্রার্থী হিসাবে তিনি যে একেবারের সামনের সারিতে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। দলীয় সূত্রে খবর, সেই সিদ্ধান্তে বড় বদল আনার পথে সিপিএম। উত্তরপাড়ায় লড়তে পারেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্য়ায়। সাম্প্রতিক স্থানীয় একাধিক কর্মসূচিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তারপরেই বেড়েছে অস্বস্তি। যদিও নির্বাচনে লড়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল দীপ্সিতাকে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “সবটাই পার্টি ঠিক করবে।”





