Friday, May 1, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইডেন গার্ডেন্সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে দুর্ঘটনা!‌ বল লেগে আহত মহিলা, নিয়ে যেতে হল এসএসকেএমে

ইডেন গার্ডেন্সে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড এবং ইটালি। এই ম্যাচ চলাকালীন এক মহিলা দর্শক আহত হয়েছেন। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-ইটালি ম্যাচ দেখতে গিয়ে আহত হলেন এক মহিলা। তাঁর মুখে বল লাগে। স‌ঙ্গে সঙ্গে নাক দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করে। আহত ক্রিকেটপ্রেমীর পরিচয় জানা যায়নি। ইংল্যান্ডের ইনিংস চলাকালীন বল উড়ে আসে গ্যালারিতে। বল এসে সরাসরি ওই মহিলার মুখে লাগে। ছুটে যান স্টেডিয়ামে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্টেডিয়ামের মেডিক্যাল রুমে। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর প্রাথমিক শুশ্রূষা করেন। পরে আহত ক্রিকেটপ্রেমীকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। মহিলার নাকে গুরুতর চোট লেগেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ইডেনে ইটালিকে ২৪ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে পৌঁছে গিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে হ্যারি ব্রুকের দল করে ৭ উইকেটে ২০২। জবাবে ইটালির ইনিংস শেষ হয় ১৭৮ রানে। ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস ২২ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর ৩৪ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। তিনিই পেয়েছেন ম্যাচ অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার। ১১ জনের দল নিয়ে বিশ্বকাপে ইটালির ব‍্যাটার কাম্পোপিয়ানো। ইটালির কাম্পোপিয়ানো পরিবার ক্রিকেটের ভক্ত। তিন পুরুষ ধরে ক্রিকেটের সঙ্গে সখ্য। ইডেন গার্ডেন্সে ফুটবলের কথা তুলতেই প্রায় থামিয়ে দিলেন ইটালির ব্যাটার মার্কাস কাম্পোপিয়ানোর পরিবারের সদস্যেরা। খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামে বাজানো হল দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত। ইটালির সমর্থকেরা নিজেদের দেশের জাতীয় সঙ্গীতে গলা মেলালেন। পরে ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীতের সময় তাঁরাই গাইলেন গলা ছেড়ে! বিস্ময়ের শুরু ঠিক এখানেই। আগ্রহ তৈরি হল যাঁদের নিয়ে, তাঁরা ছিলেন সংখ্যায় ১১ জন। ইটালির জার্সি পরে খেলা দেখতে এসেছেন। অথচ ম্যাচের প্রথম বলে ফিল সল্ট চার মারতেই প্রায় লাফিয়ে উঠলেন সকলে! ওঁরা বেথ, ইজ়ি, বেলিন্ডা, জিয়ান্নি, গ্যাভিন, অনিতা। সকলে একই পরিবারের। ইটালির ক্রিকেটার মার্কাস কাম্পোপিয়ানোর পরিবারের সদস্য। কথা বলতে গিয়ে হল সমস্যা। উচ্চারণ ইংরেজদের মতো নয়। কিছুটা অন্য রকম। নিজে থেকেই কাজ সহজ করে দিলেন বেথ। মিডল অর্ডার ব্যাটারের স্ত্রী। মোবাইল নিয়ে সকলের নাম পরিচয় লিখে দিলেন। সকলে কাম্পোপিয়ানোর পরিবারের। ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন! ইংরেজরা চার-ছয় মারলে লাফাচ্ছেন! ইটালির সাফল্য চান না? ব্যাটারের বোন ইজ়ি বললেন, ‘‘চাই। অবশ্যই চাই। আসলে আমরা ইটালীয় হলেও তিন পুরুষ ধরে ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। ইংল্যান্ডও এখন আমাদের দেশ। আমরা ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত গাই। যে দেশে জন্ম, বড় হওয়া, সব কিছু— সে দেশের সাফল্যে ভাল তো লাগবেই।’’ কাম্পোপিয়ানো পরিবারের সদস্যেরা মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেও খেলা দেখেছেন। গ্রুপে ইটালির তিনটি ম্যাচ কলকাতায় হলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল মুম্বইয়ে। কোন শহর বেশি ভাল লাগল? কাম্পোপিয়ানোর মা বেলিন্ডা বললেন, ‘‘আমাদের কলকাতা বেশি ভাল লাগছে। মুম্বইয়ে গরম বেশি। এখানকার আবহাওয়া বেশ ভাল।’’ পাশ থেকে কাম্পোপিয়ানোর কাকিমা অনিতা বলে উঠলেন, ‘‘চারটে ম্যাচ চারটে শহরে হলে আরও ভাল লাগত আমাদের। তা হলে এই দেশটা আরও একটু ঘোরার সুযোগ হত। আপনাদের দেশটা খুব সুন্দর। এক একটা জায়গা একেক রকম।’’ কাম্পোপিয়ানো পরিবার অবাক করেই ছিল। দু’দলের সাফল্যই তাঁরা সমানতালে উদ্‌যাপন করছিলেন। উইকেট পড়লেও লাফিয়েছেন, ছক্কা হলেও! উপমহাদেশের ক্রিকেট মাঠে সমর্থনের এমন উভয় সত্তা বিরল। ইটালি তো ফুটবলের দেশ। তাঁদের বাড়ির ছেলে ক্রিকেটার হল কী করে? কাম্পোপিয়ানোর বাবা জিয়ান্নি বললেন, ‘‘আমার বাবা সাসেক্সের হয়ে ক্রিকেট খেলত। তখন থেকেই আমাদের পরিবারের প্রিয় খেলা ক্রিকেট। ছেলেও ছোট থেকে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী। আমরা ইংল্যান্ডে পাকাপাকি ভাবে থেকে গিয়েছি। ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসাটা নষ্ট হয়নি।’’ কাম্পোপিয়ানো কি পেশাদার ক্রিকেটার? জিয়ান্নি বললেন, ‘‘হ্যাঁ, ক্রিকেটই ওর পেশা। ও এখন সাসেক্সের দ্বিতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলে। তা ছাড়া সারে কাউন্টি ক্লাবের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিনশনিং কোচও। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের লেভেল থ্রি কোচ আমার ছেলে। যাদের বিরুদ্ধে খেলছে, তারা প্রায় সকলেই ওর পরিচিত।’’ ইটালীয় হলেও তাঁরা ফুটবল নিয়ে আগ্রহী নন। দেশের ফুটবলের অবস্থা তো ভাল নয়। আগামী বিশ্বকাপের যোগ্যতা এখনও অর্জন করতে পারেনি ইটালি। কী মনে হচ্ছে? কাম্পোপিয়ানোর কাকা গ্যাভিন প্রায় থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘‘ওনলি ক্রিকেট। ওনলি, ওনলি ক্রিকেট। ফুটবল নিয়ে এখন ভাবার সময় নেই আমাদের। পরে দেখা যাবে। এখন আমরা ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছাড়া কিছু ভাবতে চাই না। এত দূরে তো এসেছি সেরা মানের ক্রিকেট দেখার জন্যই।’’ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে জানতে চাইলেন গ্যাভিন। সূর্যকুমার যাদবদের জয়ের পর এখানকার সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও জানতে চাইলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles