আর অ্যাডভাইজারি নয়, এবার অ্যাকশন চাই। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে এ দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন, তিনি পরিষ্কার বলেছেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই তাঁর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইআরও ও এইআর-দেরও বার্তা শুভেন্দুর। শুভেন্দু বলেন, “নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ অধিকার আছে সোজাসুজি সাসপেন্ড এফআইআর করা। তাঁরা খুব ভদ্র আচরণ করে এই সরকারকে বলেছিল করতে। কিন্তু কমিশন করেনি। নির্বাচন কমিশনের উচিত সোজাসুজি অ্যাকশন নেওয়ার। অনেক হয়েছে। তারা অ্যাকশন নিক।” এরপরই কমিশনের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা, “আর কোনও অ্যাডভাইজারির মধ্যে থাকবেন না, পূর্ণ অধিকার আছে, FIR সাসপেন্ড করার। অ্যাকশন শুরু করুন।” অপরদিকে, তৃণমূল নেতা তন্ময় দাস বলেন,”আইন অনুযায়ী যা যা করার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্য সচিব নিশ্চিত ভাবে করবেন। কিন্তু এখানে রাজনীতির কোনও বিষয় নেই। দলের পক্ষ থেকে মন্তব্য করারও কোনও বিষয় নেই।” শুভেন্দু ERO ও AERO-দের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা এগুলো করবেন না। আপনি যদি বেআইনিভাবে অ্যাপ্রোচ করেন তাহলে তার দায়িত্ব আপনার। অরবিন্দ মিনা সহ যে ডিএম-রা আপনাদের পরামর্শ দিচ্ছেন, তাঁর অডিয়ো এখন পোর্টালে ঘুরছে। বিডিও-এসডিওদের কী বলছেন সব ঘুরছে। তাই ERO আর AERO-দের বলব ডিএমদের কোনও নির্দেশ ভার্চুয়ালি নেবেন না। লিখিত অর্ডার ছাড়া করবেন না। শুধু চাকরিই যাবে না, আপনাকে জেলেও থাকতে হবে।”
১৯৯০ সাল। গোটা দেশের নজর কেড়েছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। অযোধ্য়ায় বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের দাবিতে এক মাস থেকে ‘রাম রথযাত্রা’ করেছিলেন। বাবরি আক্রমণের বীজটা সেই দিনই পুঁতে দিয়েছিলেন আডবাণী। সেই সময় কেটে গিয়েছে। রামমন্দিরও তৈরি হয়ে গিয়েছে। দশক পুরনো অভিসন্ধির বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে বিজেপি। যুগ বদলেছে, সময় বদলেছে, নেতৃত্ব বদলেছে। বদলায়নি গেরুয়া শিবিরের কৌশল ও অভিসন্ধি। বদলায়নি রথযাত্রা। নির্বাচনকে মাথায় রেখে মার্চ মাসেই দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে রথযাত্রা করার চিন্তা করছে বাংলার গেরুয়া শিবির। দলের কৌশল, নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে সল্টলেকের কার্যালয়ে বসেছিল কোর কমিটির বৈঠক। তাতেই সিলমোহর পড়েছে রথযাত্রার ভাবনায়। সূত্রের খবর, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪ সালে বাংলার যে সকল কেন্দ্রে ভালো ফল হয়েছিল বিজেপির। সেই সকল এলাকা হয়েই হতে পারে রথযাত্রা। সেক্ষেত্রে মোট ১৫০টি বিধানসভা কেন্দ্র নজরে রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। রথযাত্রা মিটলেই কলকাতার ব্রিগেড প্য়ারেড গ্রাউন্ডে হবে জনসভা। যদিও পরীক্ষার মরসুম শেষ হলেও জনসভায় জোর দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকেই বিএসএফ-এর একটি কর্মসূচির জন্য বাংলায় আসছেন অমিত শাহ। সেই সময়েই এই নিয়ে হতে পারে সাংগঠনিক বৈঠক। ব্রিগেডের মাঠে বিজেপির জনসভার ভাবনা সফল হলে, তাতে প্রধান বক্তা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে গেরুয়া শিবির। কিন্তু এই জনসভা যে আদৌ কবে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত করে উঠতে পারেনি নেতৃত্ব। অবশ্য় শুধু কলকাতা নয়, শহরে ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটলেও উত্তরবঙ্গেও ব্রিগেডের মতোই জনসভা করতে পারে বিজেপি। বাংলার নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায়। মার্চ মাসের প্রথমেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। সুতরাং, প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও এবার দ্রুত সেরে ফেলতে হবে। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, চলতি মাসের মধ্যে বিধানসভাভিত্তিক প্রার্থী তালিকা জেলাগুলি থেকে নিয়ে দিল্লির কাছে পাঠাতে চায় রাজ্য বিজেপি। প্রতিটি আসনের জন্য তিনটি বিকল্প প্রার্থীকে বাছাই করবে বঙ্গের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারপর তা যাবে হাইকমান্ডের কাছে। সেখান থেকেই বাছাই হয়ে আসবে চূড়ান্ত তালিকা। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্য়ে সেই তালিকা কয়েক দফায় প্রকাশ করাও শুরু করে দিতে পারে বিজেপি।
মার্চ মাসে ব্রিগেড সমাবেশ করার ভাবনা বঙ্গ বিজেপির। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্চের এই ব্রিগেড সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসাবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে ব্রিগেড সমাবেশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, ব্রিগেড সমাবেশকে সফল করতে দক্ষিণবঙ্গের দলের একাধিক সাংগঠনিক জোন থেকে রথযাত্রা শুরু করবে বিজেপি। সেই সমস্ত রথ ব্রিগেডে আসবে। দোলযাত্রার পরই বাংলায় রথযাত্রা কর্মসূচি শুরু করে দেবে বিজেপি। পরীক্ষার মরশুম শেষ হলে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই জনসভা শুরু হয়ে যাবে। মোদি-শাহদের একাধিক জনসভা রয়েছে বাংলায়। তবে কলকাতা জোনে ব্রিগেডেই জনসভা করতে চাইছে বিজেপি। ব্রিগেডের সভায় জমায়েতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাকে নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে শিলিগুড়িতেও মোদিকে দিয়ে এটা বড় জনসভা করানোর পরিকল্পনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। এদিকে, চলতি মাসের মধে্যই বিধানসভাভিত্তিক প্রার্থী তালিকা জেলাগুলি থেকে নিয়ে দিল্লির কাছে পাঠিয়ে দিতে চায় রাজ্য বিজেপি। জেলা থেকে প্রতিটি আসনের জন্য তিনটি করে নাম দিয়ে মোট ২৯৪টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা জমা পড়বে রাজে্য। কিছু ক্ষেত্রে একাধিক নামও থাকতে পারে। রাজ্য বিজেপির তরফে তা কাটাছেঁড়া করে বিধানসভাপিছু তিনটি করে নাম দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফে বিভিন্ন এজেন্সি যারা সমীক্ষা করে আরও কিছু নাম পাঠাবে। কিংবা তাদের সমীক্ষার সঙ্গে জেলা পার্টির তরফে আসা নামগুলিও মিলিয়ে দেখা হবে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই কয়েক দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে দিল্লি। শনিবার বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সল্টলেক বিজেপি দপ্তরে। কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব, সহ-পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেব ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা এবং শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারীও ছিলেন। শুভেন্দু অবশ্য কিছুক্ষণের জন্য বৈঠকে থেকে অন্য কর্মসূচিতে যান। রথযাত্রা, ব্রিগেড সমাবেশ ও প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।





