টি২০ বিশ্বকাপে রবিবার কলম্বোয় মুখোমুখি হচ্ছে ভারত এবং পাকিস্তান। ম্যাচে বাদ সাধতে পারে বৃষ্টি। শুক্রবার শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের আগেই জোর বৃষ্টি হতে পারে। টি২০ বিশ্বকাপে রবিবার কলম্বোয় মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত এবং পাকিস্তান। টালবাহানার পর অবশেষে এই ম্যাচ হয়েছে। সমর্থকদের উন্মাদনাও লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ পুরোপুরি হয়তো ভেস্তে যাবে না। তবে ম্যাচের মাঝে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫০-৬৫ শতাংশ। আকাশ পুরোপুরি মেঘলা থাকবে। ম্যাচের আগে বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ম্যাচ দেরিতে শুরু হলে অবাক হওয়ার থাকবে না। দুপুরের দিকেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলম্বোর পিচে সাধারণত স্পিনারেরাই সুবিধা পান। এখনও পর্যন্ত যে ক’টি ম্যাচ হয়েছে তার মধ্যে একটিতেই ২০০-র বেশি রান হয়েছে। কলম্বোয় ভারতের অস্ত্র তাদের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর পটেলরা। পাকিস্তানের হাতে থাকছে আবরার আহমেদ, শাদাব খান, উসমান তারিকের মতো বিকল্প। বৃষ্টি হলে দুই দলকেই নিজেদের কৌশল বদলাতে হবে। বোলিং পরিবর্তনে বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে। কারণ বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে একটি-দু’টি ওভারই ম্যাচের ফলাফল নির্ণয় করে দিতে পারে। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ভারত হারিয়েছে আমেরিকা এবং নামিবিয়াকে। পাকিস্তান জিতেছে নেদারল্যান্ডস এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে। রবিবার দুই দলের কাছেই তৃতীয় ম্যাচ। যারা জিতবে তারাই গ্রুপের শীর্ষে শেষ করার ব্যাপারে এগিয়ে থাকবে।
বড় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের থেকে অনেকটা এগিয়ে ভারত। সে এক দিনের বিশ্বকাপ হোক, বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপের সার্বিক পরিসংখ্যানে অনেকটাই পিছিয়ে পাকিস্তান। আট বারের সাক্ষাতে সাত বার হেরেছে তারা। কিন্তু রবিবার পরিস্থিতি আলাদা। এ বারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতের থেকে তিনটি ক্ষেত্রে এগিয়ে নামবেন সলমন আলি আঘারা। হাইব্রিড মডেলে এ বার পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলছে। তিনটি ম্যাচ কলম্বোর সিংহলিস স্পোর্টস ক্লাবে। একটি ম্যাচ হবে কলম্বোরই প্রেমদাসায়। ভারতের বিরুদ্ধে রবিবার প্রেমদাসায় খেলবে পাকিস্তান। বিশ্বকাপ শুরুর বেশ কয়েক দিন আগে কলম্বোয় পৌঁছে গিয়েছিল পাকিস্তান দল। সেখানে অনুশীলন করেছে তারা। শুরু থেকে একই হোটেলে রয়েছেন সলমনেরা। পাকিস্তান ছন্দ পেয়ে গেলে তারা ভয়ঙ্কর। এ বার বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে চুনকাম করে জিতেছে তারা। সেখানে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ফলে পাকিস্তান আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিল। এখানেও প্রথম দু’টি ম্যাচ জিতেছে তারা। প্রথম ম্যাচে চাপ থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচ হাসতে হাসতে জিতেছে পাকিস্তান। রানে ফিরেছেন বাবর আজ়ম। দু’টি ম্যাচ জিতে নক আউটে জায়গা প্রায় পাকা করে ফেলেছে পাকিস্তান। এখনও তাদের একটি ম্যাচ রয়েছে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে। ফলে ভারতের বিরুদ্ধে জিততে মরিয়া হয়ে নামবে তারা। ভারত সেখানে চোট-সমস্যায় খানিকটা হলেও জেরবার। ফলে পাকিস্তান যদি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলে, তা হলে চাপ হতে পারে ভারতের।
শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে যাওয়ায় সেখানকার পরিবেশ ও পিচ সম্পর্কে পাকিস্তান অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। সেখানে ইতিমধ্যেই দু’টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা। যদিও ভারতের বিরুদ্ধে অন্য মাঠে খেলা, তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না পাকিস্তানের। কারণ, শ্রীলঙ্কায় পিচের চরিত্র খুব একটা বদলায় না। প্রথম দুই ম্যাচ দেশের মাটিতে খেলে তার পর শ্রীলঙ্কায় যেতে হবে ভারতকে। খুব বেশি হলে দু’দিন অনুশীলনের সুযোগ পাবেন সূর্যেরা। তার মধ্যেই সেখানকার পরিবেশ ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে তাদের। ফলে কিছুটা হলেও সুবিধা থাকবে পাকিস্তানের। প্রতিপক্ষকে স্পিনের জালে ফাঁসিয়ে হারানোর পরিকল্পনা করে ভারত। এ বার সেই জালেই ফাঁসতে পারে তারা। রবিবার ভারতের বিরুদ্ধে চার বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলাতে পারে পাকিস্তান। আবরার আহমেদ ও মহম্মদ নওয়াজ়ের সঙ্গে জুড়েছেন শাদাব খান। টি-টোয়েন্টিতে তাঁর অভিজ্ঞতা কম নয়। পাকিস্তানের তুরুপের তাস উসমান তারিক। প্রথম বার ভারতের ব্যাটারেরা খেলবেন তাঁর বিরুদ্ধে। তারিকের বোলিং অ্যাকশন অদ্ভুত। দেখে মনে হয়, বল করার সময় কনুই ভাঙেন। কিন্তু আইসিসি তাঁর অ্যাকশন নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারিক। আগের ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁর বোলিংয়ের বৈচিত্র প্রচুর। পাশাপাশি দলের ওপেনার সাইম আয়ুবও নিয়মিত বল করেন। তা-ও আবার পাওয়ার প্লে-তে। সুতরাং পাঁচ স্পিনার নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে নামবে পাকিস্তান। নামিবিয়ার বিরুদ্ধেই স্পিন খেলতে সমস্যা হয়েছে ভারতের। একের পর এক উইকেট পড়েছে। রান তোলার গতি কমেছে। সেখানে পাকিস্তানের স্পিনারদের সামনে সমস্যায় পড়তে পারে ভারত। রবিবার কঠিন লড়াই সূর্যদের সামনে। অভিষেক শর্মার খেলা নিয়েও। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে টসের পর সূর্য বলেছেন, এক-দু’টি ম্যাচে না-ও পাওয়া যেতে পারে অভিষেককে। তিনি যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে না পারেন, তা হলে সমস্যা বাড়বে ভারতের। গত এক বছর ধরে অভিষেক দলের এক নম্বর ওপেনার। ধারাবাহিক ভাবে সাফল্য দিয়েছেন। সেই ব্যাটারকে নিয়ে চিন্তা বাড়ছে ভারতের।





