আওয়ামী লিগ তাদের কর্মী সমর্থকদের ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়েছিল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার দল আশা করেছিল, সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুরাও ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করবে। বাস্তবে তেমন কিছু দেখা যায়নি। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল ভোটের দিন বুথে গেলে বা না গেলেও তাদের ওপর হামলা হতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তাদের ঢাকার সদর অফিসে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কন্ট্রোল রুম চালু করেছিল। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বৃহত্তম এই সংগঠন পাঁচটি ফোন নম্বর দিয়ে তাদের সমস্ত শাখাকে জানিয়ে দিয়েছিল কেউ ভোটদানে বাধা প্রাপ্ত হলে বা কাউকে জোর করে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হলে যেন কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করা হয়। ওই সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ জানিয়েছেন, তারা ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত অফিসে ছিলেন। একটিও অভিযোগ কোন জায়গা থেকে কেউ করেননি। সংগঠনের কর্তাই নন বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের অন্য সংগঠনগুলিও ভোটদানে বাধাদান ভোটের পর হামলা, আক্রমণের ঘটনার কোনও অভিযোগ করেননি। একাধিক সংগঠন বরং জানিয়েছে যে সব ধরনের আশঙ্কা মুক্ত হয়ে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুরা দলে দলে বুথে গিয়েছেন। আওয়ামী লিগ তাদের কর্মী সমর্থকদের ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়েছিল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার দল আশা করেছিল, সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুরাও ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করবে। বাস্তবে তেমন কিছু দেখা যায়নি। ঢাকায় হিন্দুদের সবচেয়ে বড় মহল্লা শাঁখারী বাজারে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় গোটা মহল্লা জুড়ে উৎসবের মেজাজ। হিন্দু নারী পুরুষ দলে দলে বুথে যাচ্ছেন। বুথ থেকে বেরিয়ে অনেকেই আত্মীয় বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন। সবমিলিয়ে সেখানে ছিল উৎসবের আমেজ। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ঢাকায় খবর এসেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বুথে গিয়েছিলেন। এমনও জানা গিয়েছে, তাদের বড় অংশ ভোট দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থীদের। ঢাকার শাঁখারী পাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই প্রকাশ্যে বলেছেন তারা অতীতে আওয়ামী লিগকে ভোট দিয়েছেন। এবার নির্বাচনে যেহেতু আওয়ামী লিগ অংশ নিতে পারেনি তাই তাদের কাছে মূল বিচার্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে জয়যুক্ত করা। সেই ভাবনা থেকে তারা বিএনপিকে বেছে নেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্রকুমার নাথ বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দল নই। তাই ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আমরা কোনও দলকে সমর্থনের কথা বলিনি। তবে সংগঠনের তরফে বলা হয়েছিল সংখ্যালঘুরা যেন মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে ভোটদান করেন।’ মণীন্দ্র কুমার নাথ বলছেন, ‘সেই ভাবনা থেকে সংখ্যালঘুরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন।’ একাধিক মহল মনে করছে আওয়ামী লিগ ভোট বয়কটের ডাক দিলেও দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। সংখ্যালঘুরা চেয়েছে একটি কোন রাজনৈতিক দলকে আশ্রয় করতে। কোন কোন মহল এমনও বলছে ভোটের চার পাঁচ দিন আগে বিএনপি’র পক্ষে পরিস্থিতি অনেকটা অনুকূল হয় সংখ্যালঘুরা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতারা বলছেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটেছিল। তারা আশা করছেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পার্টি ২০২৬-এর নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের বিএনপিকে সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে যদি তারা সরকার গড়তে পারে। জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব বৃদ্ধি সংখ্যালঘুদের চিন্তার কারণ হয়েছে। ওই দলটি ক্ষমতায় এলে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে পারে এমন আশংকা সংখ্যালঘুদের মধ্যে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতেই সংখ্যালঘুরা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়ে থাকতে পারে।





