RK NEWZ এরকম মানুষকে সবাই ভয় পায়। তখনই চেষ্টা করে ক্লেচ্ছার তকমা সেঁটে দেওয়ার। তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে এরকমই অভিযোগ উঠে এলো। দ্বিতীয় দফা ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছেন ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস অজয় পাল শর্মা, তাঁর উর্দিতে একের পর এক অভিযোগ সেঁটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গে দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে চর্চায় উত্তরপ্রদেশের ‘সিংঘম’ আইপিএস অজয় পাল শর্মা। যোগীরাজ্যের এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েই ‘দাবাং’ স্টাইলে ধমক-চমক শুরু করেছেন। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের পরিবারকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এবার তাঁর গোপন ভিডিও প্রকাশ করে সোশাল মিডিয়ায় অজয় পাল শর্মাকে মিষ্টি ভাষায় কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মহুয়ার পোস্ট ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক লাস্যময়ীর সঙ্গে ‘সিংঘম’! এর সঙ্গে সঙ্গেই মহুয়ার চরিত্র নিয়েও প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। অজয় পাল শর্মার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে গিয়ে সরাসরি তাঁর পরিবারের উদ্দেশে ধমক দিচ্ছেন জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক। ‘সিংঘম’কে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘সবাই কান খুলে শুনে রাখুন, কোনও ঝামেলা করলে এমন চিকিৎসা করব না…এখানে জাহাঙ্গিরের পরিবারের লোকজন আছে। তাদের বলছি, ওর লোকজন নাকি হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে শুনছি। ওকে বলে দেবেন এসব করলে আমি কিন্তু সব খবর নেব। পরে এমন করব তখন কেঁদেকেটেও লাভ হবে না।” তাঁর এই হুমকি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তৃণমূল কংগ্রেস এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে যোগীরাজ্যের এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে আনে। তার মধ্যে ছিল টাকার বিনিময়ে পোস্টিং, মহিলাদের সঙ্গে বিয়ের নামে প্রতারণা। একটি ভিডিও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে খোঁচা দিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, আলো-আঁধারি ঘেরা স্বল্পবসনা এক লাস্যময়ীর সঙ্গে নাচেগানে ব্যস্ত ‘সিংঘম’। তা পোস্ট করে মহুয়া তাঁকে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া’ সম্বোধন করে লিখেছেন, ‘দেখে ভালো লাগছে যে আপনি ফান্টা স্টাইলে ফূর্তি করতে ব্যস্ত। ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল থাকুন। আর মনে রাখবেন, বাংলায় সবসময়ে তৃণমূল। আরও একটি নাচের ভিডিও পোস্ট করে মহুয়া লিখেছেন, ‘আশা করি নাচের চেয়ে পেশা অর্থাৎ পুলিশিতে দক্ষ আপনি।’

সুষ্ঠু ভোট করাতে নতুন করে যে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন, তাতে প্রথম নাম ছিল অজয়ের। ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস লুধিয়ানার ভূমিপুত্র। পটীয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনি ডেন্টাল সার্জারি বা বিডিএস পাশ করেন। তবে ডাক্তারিকে পেশা না করে বেছে নেন পুলিশের উর্দি। বর্তমানে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। তৃণমূলের দাবি, কমিশন কি মনে করছে যে, ভোটে এমন কিছু ঘটবে যার জন্য ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’-কে আনতে হবে? না কি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ? ফলতায় অজয়ের ভূমিকা দেখে সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, ওই পুলিশ আধিকারিকে বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। তার পাল্টা বিজেপির অমিত মালবীয় এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘বার্তা পরিষ্কার: বহাল থাকবে আইনের শাসন, চলবে না হুমকি, অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে তাই সময় নষ্ট নয়।’’

বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বলে পরিচিত মহুয়া সরব। দাবি এক্স হ্যান্ডলে আইপিএস অফিসারকে উদ্ধৃত (মেনশন) করে একাধিক পুরুষসঙ্গে লিপ্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ও অসংখ্য বিতর্কে জড়িত মহুয়া লিখেছেন, ‘‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া— ফ্যান্টাকপ স্টাইলে তোমাকে আনন্দ করতে দেখে ভাল লাগছে। থাকো ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, বাংলা সর্বক্ষণ তৃণমূল।’’





