বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, তখনই ঢাকার উদ্দেশে কূটনৈতিক বার্তা দিল নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-র নেতা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভারত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পাশে ভবিষ্যতেও থাকবে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা পোস্টে মোদী লেখেন, “বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনাব তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই জয় বাংলাদেশের মানুষের আপনার নেতৃত্বের উপর আস্থারই প্রমাণ। তিনি আরও যোগ করেন, “গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে ভারত ভবিষ্যতেও দৃঢ়ভাবে থাকবে। আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশায় রইলাম।” মোদীর বার্তা আসে এমন সময়ে, যখন বিএনপি দাবি করেছে তারা সংসদীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ আসনে জয়লাভ করেছে।। সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫১ আসনে বিজয়। বিএনপি’র প্রধান প্রতিপক্ষ জামাত জোট জয়লাভ করেছে ৭০ টি আসনে। অন্যান্যরা জয়ী হয়েছে ছয়টি আসনে।তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতে দলটি পরবর্তী সরকার গঠনের পথে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৮ মাস আগে গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের স্থলাভিষিক্ত সরকার বেছে নিতে। সেই অন্তর্বর্তী সরকারটির নেতৃত্বে ছিলেন মহম্মদ ইউনুস। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর এই অন্তর্বর্তী প্রশাসন দায়িত্ব নেয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র দল পরবর্তীতে ভেঙে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন। এই নির্বাচনকে অনেকেই দেখেছেন মূলত বিএনপি এবং তাদের প্রাক্তন মিত্র জামাত -এর মধ্যে সরাসরি লড়াই হিসেবে। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতি নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছে। ১৩তম সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ৮৪ দফা সংস্কার কর্মসূচি, ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’, কার্যকর করার প্রশ্নে ভোট নেওয়া হয়। গত ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। ১৭ বছরের বেশি সময় স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। জয়ের আবহেও তিনি দলীয় কর্মীদের বিজয় মিছিল এড়িয়ে দেশজুড়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক রদবদল এবং নয়াদিল্লির দ্রুত কূটনৈতিক বার্তা। দুই মিলিয়ে উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনের আগেই একাধিক জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল সরকার গড়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে বিএনপি এবং তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছেন অধিকাংশ বাংলাদেশি। তবে তাৎপর্যপূর্ণ হল, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে তারক রহমানের বিগত কয়েক বছরের যাত্রা ভারতীয় উপমহাদেশ তো বটেই গোটা পৃথিবীতেই বিরল। দলের বিপুল জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান বলেছেন বিজয় মিছিলের নামে কেউ যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে না পড়েন। আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজে সকলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির সূত্র বলছে, প্রায় দু’দর্শক পর ক্ষমতায় ফিরতে চলা দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই বিজয়কে ঘিরে উন্মাদনা যাতে কোন অশান্তির কারণ তৈরি না করে সে ব্যাপারে তিনি সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। বিএনপির এক কর্তা বলেন আমরা বদল চেয়েছিলাম বদলা নয়। ১৬-১৭ তারিখের মধ্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। নির্বাচনের আগেই একাধিক জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল সরকার গড়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে বিএনপি এবং তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছেন অধিকাংশ বাংলাদেশি। সেদিক থেকে বিএনপির জয় এবং তারেকের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে তারক রহমানের বিগত কয়েক বছরের যাত্রা ভারতীয় উপমহাদেশ তো বটেই গোটা পৃথিবীতেই বিরল। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক নির্বাসন জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। এর ৫ দিনের মাথায় বিএনপির চেয়ারপারসন তথা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রয়াত হন। তবে মায়ের প্রয়াণের শোককে শক্তিতে পরিণত করে তারেক এই প্রথম নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এবং দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকা এবং বগুড়ার দুটি আসনেই তারেক রহমান বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এবার তাঁর দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
যদিও সরকার প্রধান হওয়ার পথটি ছিল অত্যন্ত সমস্যা সঙ্কুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। সেই সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কিছু অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বড় ছেলেকে গ্রেফতার করে। প্রায় দু’বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক ছিলেন তারেক রহমান। সেই সময় তার ওপর কারাগারে অকথ্য নিপীড়ন নির্যাতন হয়। তাঁকে আদালতে পেশ করার সময় দেখা যেত কারাগারের অত্যাচারে তিনি রীতিমত কাবু হয়ে পড়েছেন। ২০০৮ সেপ্টেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে জামিন দেয়। এরপর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে তিনি লন্ডন চলে যান। এরই মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যান তারেকের ছোট ভাই। চিকিৎসা করাতে যাওয়া তারেক লন্ডনেই থেকে যান। বিএনপির অভিযোগ দেশে ফিরলে আওয়ামী লিগ সরকার তাঁকে জেলে আটকে রাখতো এই আশঙ্কায় তিনি দেশে ফেরেননি। সেই আশঙ্কা আরো জোরদার হয় তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার এবং কারাগারের একটি ছেলে বছরের পর বছর আটকে রাখার ঘটনায়। খালেদা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে থাকার অনুমতি দিয়েছিল হাসিনা সরকার। বিএনপি’র দাবি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে চিকিৎসা করতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। হাসিনা সরকার শত অনুরোধেও সেই সুযোগ না দেওয়ায় খালেদার মৃত্যুর পর বিগত সরকারের দিকে আঙ্গুল ওঠে।
তারেক বিদেশে এবং খালেদা কারাগারে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাকায় বিএনপি বড় ধরনের বিপর্যয় মুখে পড়ে বাংলাদেশে। সেই সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে খালেদা জিয়া দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছায় তার পুত্র তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। এর আগে তারিখ ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। নতুন দায়িত্ব পেয়ে লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দল পরিচালনা করে বাংলাদেশে বিএনপিকে সক্রিয় রাখেন তারেক। ১৭ বছর ধরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দল পরিচালনার এমন নজির গোটা বিশ্বে বিরল। পার্টির একাধিক বর্ষীয়ান নেতা বলছেন, তারেকের সবচেয়ে বড় অবদান হলো তিনি বিদেশে বসে দলের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এমনভাবে দল পরিচালনা করেছেন যে হাসিনা সরকারের দমন পীড়নের মুখেও বিএনপি ভেঙে যায়নি। শুধু লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোই নয়, দেশে একের পর এক মামলায় যেবার হতে হয়েছে খালেদা পুত্রকে। ২০০৪ সালে বিএনপি জমানায় চট্টগ্রামের দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় হাসিনা সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করে। ওই বছরই শেখ হাসিনা সবাই গ্রেনেড হামলার মামলাতেও তারেকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিল সাবেক আওয়ামী লিগ সরকার। এছাড়া দুর্নীতির গুচ্ছ মামলা তো ছিলই। এর মধ্যে দুটি মামলায় তারেকের যাবজ্জীবন কারাবাসে সাজা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলাগুলি থেকে তারেক রহমানকে মুক্তি দেয়। ফলে মামলা মুক্ত হয়ে তিনি দেশে ফেরেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর। বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তথা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের ছোটবেলা কাটে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিক্ষুব্ধ সেনাদের হাতে নিহত হওয়ার পর পরবর্তী সরকার তার পরিবারকে ক্যান্টনমেন্টের কোয়ার্টারে থাকার অনুমতি দিয়েছিল। স্কুল জীবন শেষ করে তারেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। তবে সেই কোর্স তিনি সম্ভবত শেষ করতে পারেননি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি সেনা শাসক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আটের দশকের মাঝামাঝি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারেক ভোটের কাজেও সংযুক্ত ছিলেন। তবে সক্রিয়ভাবে ভোটের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হন ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সেবার তিনি তাঁর মায়ের আসন গুলিতে নির্বাচন দেখভালের দায়িত্ব ছিলেন। খালেদা জিয়া সেবার পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। খালেদা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন ২০০১ সালে। ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি’র ওই সরকারের সময় তার এক সমান্তরালভাবে প্রশাসন চালাতেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল। তখন থেকেই তিনি দল পরিচালনায় মায়ের সহকারীর ভূমিকা পালন করেন। রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রতিকূলতা কাটিয়ে তারেক রহমান এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। এখন দেখার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেকে কিভাবে বাংলাদেশের মানুষের পাশে হাজির করেন।
নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির, ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে, তারেকের শপথ আগামী সপ্তাহে। আড়াই দশক পর বাংলাদেশের সরকার গঠন করতে চলেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে ৩৫ বছর পর দেশটিতে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকা বাংলাদেশ এবার নির্বাচিত সরকারের হাতে ফিরতে চলেছে। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ আসনে জয়লাভ করেছে।। সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫১ আসনে বিজয়। বিএনপি’র প্রধান প্রতিপক্ষ জামাত জোট জয়লাভ করেছে ৭০ টি আসনে। অন্যান্যরা জয়ী হয়েছে ছয়টি আসনে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে অধিকাংশ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করে উঠতে পারেনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন রিটানিং অফিসাররা লিখিতভাবে কমিশনকে ফলাফল না জানালে তারা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই সংঘটিত হয়েছিল গণভোট। গণভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে বিজয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ সংবিধান প্রশাসন বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদিতে ব্যাপক সংস্কারের পক্ষেই সাঈ দিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটের কুড়ি লাখ পঞ্চাশ হাজার ৪৫৮ জন ভোটার। ‘না’ ভোটে সায় দিয়েছেন ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৮। হলে বাংলাদেশের শুধু একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতে চলেছে তাই নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবেও দেশটি আমুল বদলে যেতে পারে। তবে গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে যে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার হওয়ার কথা সেগুলি হবে কিনা তা অবশ্যই নির্ভর করবে নতুন সংসদ এবং ক্ষমতাসীন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। বিএনপির সংস্কার প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের আপত্তির কথা নথিভুক্ত করে রেখেছে। বিএনপি তাদের প্রত্যাশা মতই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় সরকার গঠন নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা রইল না। ভোটের আগে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছিল। করে স্বয়ং জামায়াতের আমির জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়ায় এই জল্পনার সূত্রপাত হয়। তবে ভোটের তিন দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা খারিজ করে দেন। তারেক তাঁর বগুড়া এবং ঢাকা দুটি আসনেই বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে জামাইটি ইসলামী এখনো পর্যন্ত ৭০টি আসন পেলেও স্পষ্ট তাদের প্রাপ্ত আসন ১০০ ছাড়ানো কঠিন। মনে করা হয়েছিল একশোর বেশি আসন পেয়ে জামাত শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হবে। তবে প্রত্যাশামত আসন না পেলেও জামাতের শক্তি বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারা সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল ১৯৯১ সালের নির্বাচনে। শেষবার তাদের ভালো ফল ছিল ২০০১ সালের নির্বাচনে। এবার তারা পেয়েছিল ১৭ টি আসন। তবে সেই ফলাফল ছিল বিএনপির সঙ্গে জোট করে। এবার জামাত ১১টি দলের জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের অতীত ফলাফল বিচারে করলে জামাইতে ইসলামীর যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক সূত্রের খবর জামাতের আসন প্রত্যাশা মত না হলেও তারা ভোট পেয়েছে বিপুল পরিমাণে। ফলে গোটা বাংলাদেশেই তাদের প্রভাব এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা তৈরি করে নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তারেক রহমানের মা সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়া। এরপর তিনি আরো দুবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লিগ। সেই নির্বাচনে প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন আওয়ামী লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শেষবার পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল বিএনপির শেষ সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা। এরপর দু’বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছিল বাংলাদেশ। ২০০৮-এর নির্বাচনে বিপুল বিজয় হাসিল করে ক্ষমতায় ফেরে আওয়ামী লিগ। সেই থেকে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হাসিনা। এরপর দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকা বাংলাদেশ এবার নির্বাচিত সরকারের হাতে ফিরতে চলেছে।





