RK NEWZ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে বাহিনী মোতায়েন রাখার সময়সীমা বাড়িয়ে নিয়েছিল বিজেপি। এ বার এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকার সময়সীমার বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের অবকাশ ঘটেনি। ভোটগণনা মিটে যাওয়ার পরেও অন্তত ৬০দিন বা দু’মাস কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে পশ্চিমবঙ্গে। জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরেও বেশ কিছু দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাজ্যে মোতায়েন রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ বার সে সময়সীমা আরও বেড়ে দু’মাস হচ্ছে বলে শাহের ঘোষণা। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে তথা আইনশৃঙ্খলা বহাল রাখতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ৬০ দিন পশ্চিমবঙ্গে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। বিজেপি যদি সরকার গড়তে না-পারে, তা হলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা মেনে তৃণমূলের সরকার কি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ৬০ দিন রাজ্যে থাকতে দেবে? সে প্রশ্ন ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ার ভুক্ত বিষয়। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এ নিয়েও যে, বাহিনী রাখার আগাম ঘোষণা করে শাহ কি পরোক্ষে এই বার্তাই আরও একবার দিয়ে রাখলেন যে, বিজেপি-ই সরকার গড়তে চলেছে? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে বাহিনী মোতায়েন রাখার সময়সীমা বাড়িয়ে নিয়েছিল বিজেপি। এ বার এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকার সময়সীমার বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের অবকাশ ঘটেনি। কারণ, শাহ প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ঘোষণাটি করেছেন। নির্বাচন কমিশনও তার বিরোধিতা করেনি। কিন্তু ভোটে যদি তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরে, তা হলে বাহিনী মোতায়েন রাখার এই ঘোষণা ঘিরে টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘‘ক্ষমতায় যে বিজেপি আসছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবু আমরা বাহিনী মোতায়েন রাখব। কারণ, আমরা হিংসায় বিশ্বাসী নই। হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূলের কর্মীরা হিংসার শিকার হন, আমরা তা-ও চাই না। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী ৬০ দিন ধরেই মোতায়েন রাখা হবে।’’ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তথা হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মাস দুয়েক রেখে দেওয়ার ভাবনা সম্পর্কে অনেকেরই আপত্তি নেই। কিন্তু প্রশ্নও উঠছে। বিজেপি যদি জয়ের বিষয়ে ‘আত্মবিশ্বাসী’ হয়, তা হলে তো এ বিষয়েও তারা নিশ্চিত যে, ৪ মে ফলঘোষণার পরে রাজ্যের পুলিশও বিজেপির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুলিশকে দিয়েই তো হিংসা ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন পড়বে কেন? সুকান্তের কথায়, ‘‘প্রথমে বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকে যে দলদাসত্বে অভ্যস্ত করে ফেলেছে, তাতে বিজেপি জেতার পরে ভোট পরবর্তী হিংসা শুরু হলে পুলিশ তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্তত এখনই সে বিষয়ে পুলিশের উপরে ভরসা রাখা যাচ্ছে না। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখাই একমাত্র পথ।’’ দলের কেন্দ্রীয় পদাধিকারী তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পর্যবেক্ষক অমিত মালবীয়ের সংযোজন, ‘‘সরকার বদলে যাবে, পুলিশ-প্রশাসন বিজেপির নিয়ন্ত্রণে আসবে, সে কথা ঠিক। কিন্তু তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হওয়া ওসি, আইসি-রা রাতারাতি বদলে যাবেন, এমনটা ধরে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাহিনী লাগবে।’’
অজয়পাল শর্মা কোনও নির্দেশ কাউকে দেননি। ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করতে কিছু মন্তব্য করেছিলেন। ‘সিংহম’ বিতর্কে ফলতার পুলিশ পর্যবেক্ষকের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের রাতে নিজের দফতরেই থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রথম দফার আগের রাতেও তিনি ছিলেন নিজের দফতরে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তার পরে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাতেই মনোজ বিভিন্ন এলাকায় যাবেন বলে কমিশন সূত্রে খবর। বুধবার ভোরে বৈঠকে করবেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে। পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পালের বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দাবি, স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে তিনি ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার সেই বিতর্ক আরও বাড়ে অজয়পালের কনভয়ের সামনে বিক্ষোভে। এই প্রসঙ্গে মনোজ বলেন, ‘‘অজয় পাল শর্মা সরাসরি কোনও নির্দেশ কাউকে দেননি। তিনি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে কিছু মন্তব্য করেন। তিনি নিজের সীমা জানেন।’’ এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ফলতার ঘটনায় চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন অজয়পাল। তবে সিইও দফতর নিজে থেকে রিপোর্ট চাইবে না। রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার রাতেই বিভিন্ন এলাকায় যাবেন সিইও মনোজ। সারা রাত নিজের দফতরে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্রও থাকবেন তাঁর সঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে সকল থানার ওসির সঙ্গে বৈঠকে বসছে কমিশন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে খবর। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করতে সব রকম পদক্ষেপ করা হবে। বুধবার ভোরে সব পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করবেন সিইও। মনোজ জানান, দ্বিতীয় দফার ভোটে কোনও রকম অশান্তি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সব আধিকারিক কমিশনের অধীনে রয়েছেন। প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ ভোট করানো তাঁদের কাজ। কাজ না-করলে কমিশন আগেও ব্যবস্থা নিয়েছে, আবার নেবে। এই দফার ভোটে ৩০ শতাংশ অতিস্পর্শকাতর বুথ। আগে যা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার চেয়ে আরও বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। মনোজ জানান, গভীর রাতে বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পর্যবেক্ষক যাওয়ার ঘটনায় কোনও অভিযোগ সিইও দফতরে জমা পড়েনি। ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করানোর জন্য কমিশনকে পদক্ষেপ করতে বলেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তিনি বলেন, ‘‘কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কাউকে হয়রানি করা হলে তৃণমূল আমাদের জানাক, তাঁর নাম দিক। আমরা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করব। পুলিশ আইন মেনে কাজ করছে। তার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ করলে ব্যবস্থা নেব।’’ প্রসঙ্গত, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, সোমবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েক জন জওয়ান গিয়েছিলেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সারা রাজ্য জুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষক সেই রিপোর্ট দিয়েছেন। সিইও মনোজের দাবি, ‘‘বাইকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে না বলে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ডিভিশন বেঞ্চ আমাদের নির্দেশ খারিজ করে দেয়নি। জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করাতে ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। আদালত তাতে মান্যতা দিয়েছে। দল বেঁধে বাইকে যাতায়াত (গ্রুপ রাইডিং) বন্ধ করে দিয়েছে।’’ রাজ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে বলেও জানান মনোজ।





