টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কলকাতায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সহ সাতটি ম্যাচ রয়েছে। বিশ্বকাপের ঢাকের কাঠি পড়ে গিয়েছে। তৈরি ইডেন গার্ডেনসও। ক্রিকেটের নন্দন কাননে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ইডেন গার্ডেন্স পরিদর্শন করে গেল আইসিসি-র প্রতিনিধিদল। কলকাতার এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম দেখে খুশি আইসিসি-র কর্তারা। বৃহস্পতিবার ইডেন পরিদর্শনে আসেন আইসিসি এবং বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নটা নাগাদ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ইডেনে আসেন। সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন। ফলে তদারকির দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব বাবলু কোলে এবং কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস।

সচিব বাবলু কোলের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা করেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিরা। এরপর দুপুর একটা একটু পরে আইসিসির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল ইডেনে প্রবেশ করে এই দলে ছিলেন মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং এবং সম্প্রচারকারী দলের সদস্যরা। মাঠ, গ্যালারি বিভিন্ন অংশ ছাড়াও ইডেনের বিভিন্ন জায়গা খতিয়ে দেখেন। সঙ্গে ছিলেন সিএবির পদাধিকারীরা।

সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, ইডেন অনেক পুরনো মাঠ এর আগে অনেক ইভেন্ট হয়েছে, ফলে নতুন করে কোন পরামর্শ দেয়নি, আইসিসি। তারা অত্যন্ত খুশি আমাদের এখানকার পরিকাঠামো দেখে।

কলকাতায় প্রথম খেলা ৭ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের বোধন শুরু হওয়ার কথা ছিল ইডেনে কিন্তু বাংলাদেশ খেলতে আসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তন দল হিসেবে স্কটল্যান্ডের নাম শোনা যাচ্ছে। ফলে দল পরিবর্তন হলেও বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা কমছে না। ইডেনে ইতালি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের মতো দল এখানে খেলতে আসছে। গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচ, একটি সুপার ৮-র ম্যাচ একটি ম্যাচ রয়েছে। একটি সেমিফাইনালও আছে তালিকায়।

এদিকে, বিশ্বকাপে খেলতে মুখিয়ে ক্রিকেটাররা। গত কয়েকদিন ধরে স্পষ্টভাবে এই কথা বলে এসেছেন মেহদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তরা। তাঁদের সেই ইচ্ছাকে কার্যত উপেক্ষা করছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ দল। এই নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর কী আলোচনা হয়েছে তাও গোপন রেখেছেন আসিফ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ক্রিকেটারদের আবেগ এবং ইচ্ছা নিয়ে কি ছেলেখেলা করছে বাংলাদেশ? বিসিবি কর্তা এবং ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর আসিফ নজরুল বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটার সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে তাঁদের মতামত। বৈঠকে কী বলেছেন ক্রিকেটাররা? সেই প্রশ্নের জবাব অবশ্য এড়িয়ে গিয়েছেন আসিফ। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ক্রিকেটারদের কথাটা খুবই ব্যক্তিগত। সেই কথা যদি আমি প্রকাশ্যে বলি, সেটা ঠিক নয়। এরকমটা হলে তো ওরা মন খুলে কথা বলতে পারবে না।” বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস এবং মেহদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তদের নাম উল্লেখ করেন আসিফ। উল্লেখ্য, মেহদি এবং নাজমুল দু’জনেই প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে বিশ্বকাপ খেলতে চান তাঁরা। ক্রিকেটারদের নাম উল্লেখ করে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “আজকের বৈঠকে আমরা ক্রিকেটারদের বুঝিয়েছি, ভারতে খেলতে যাওয়াটা কেন ঝুঁকিপূর্ণ। আমার মনে হয় ওরা সেটা বুঝেছে।” ভারতে বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের কী ক্ষতি হবে? চাঁচাছোলা ভঙ্গিতে আসিফে জবাব, “নিজের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করে তাদের বিপদের দিকে ঠেলে দিলে কী ক্ষতি হবে সেটা বুঝে নেওয়া দরকার। তাছাড়া কোনও দেশে তার নাগরিক সুরক্ষিত কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, অন্য কেউ নয়।” প্রশ্ন উঠছে, ক্রিকেটারদের খেলার ইচ্ছা নয়, দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকেই অগ্রাধিকার দিল বাংলাদেশ? তাহলে কি ক্রিকেটারদের খেলার ইচ্ছাকে একেবারে দমিয়ে দিচ্ছে বিসিবি? স্রেফ রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে ক্রিকেটারদেরকে হাতের পুতুলে পরিণত করা হচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন।





