সুখী পুরুষ ও নারীর লক্ষণ একটি নাদুসনুদুস ভুঁড়ি। সেই ‘সুখ’-এর লক্ষণই হতে পারে অসুখের কারণ। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ-নারী উভয়েরই ‘মধ্যপ্রদেশ’- এ মেদ জমতে শুরু করে। কারও মেদ জমে তলপেটে, কারও পেটের উপরের অংশটি ফুলে শক্ত হয়ে যায়। তবে পুরুষদের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত ঢাউস একটা ভুঁড়ি বেশি দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আকারে বাড়তে থাকে। কারও পেটে জমা মেদ হয় তলতলে, নরম। কারও হয় একেবারে শক্ত। শক্ত বা নরম, কোন ধরনের ভুঁড়ি কোন সমস্যার ইঙ্গিতবাহী? পেটের রোগের চিকিৎসক জানাচ্ছেন, এই ভুঁড়িতেই লুকিয়ে বিপদ। বিশেষত শক্তপোক্ত মধ্যদেশটি আরও বিপজ্জনক। শক্ত হয়ে জমা মেদের বিপদ নিয়ে সচেতন করেছেন। কারণ, এমন মেদ হল ভিসেরাল ফ্যাটের ইঙ্গিতবাহী। ভিসেরা বলতে শরীরের মধ্যস্থ নরম প্রত্যঙ্গগুলিকে বোঝায়, যার মধ্যে লিভার, অগ্ন্যাশয়, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, সবই থাকে। তার উপর জমতে পারে এই ধরনের ফ্যাট। সমস্যা হল, ভিসেরাল ফ্যাট হরমোনের ওঠাপড়াকে প্রভাবিত করে, বিপাকক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও কম-বেশি হতে পারে। হার্টের পক্ষেও তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
পেটে জমা নরম বা থলথলে চর্বি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর, বলছেন চিকিৎসক। কারণ, এই ধরনের মেদ শুধু চামড়ার নীচে জমে। সাধারণত, বিপাকক্রিয়া বা বিপাকহারে তেমন কোনও প্রভাব ফেলে না। তবে হাত দিয়ে চাপ দিলে যদি পাকস্থলীর জায়গাটি শক্ত লাগে, তা হলে কিন্তু তা বিপদ সঙ্কেত। ভিসেরাল ফ্যাট জমতে পারে পাকস্থলী, অন্ত্র, অগ্ন্যাশয়ের উপরেও। গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গগুলি ফ্যাটে ভরে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই তার কার্যকারিতা কমে যায়। শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘জমে থাকা এই ধরনের ফ্যাট থেকে প্রদাহনাশক রাসায়নিক নির্গত হয়, যা দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ইনসুলিনের উপরেও প্রভাব ফেলে। এই হরমোনটি খাবারের শর্করাকে কোষে পৌঁছতে এবং তা থেকে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু ইনসুলিন ঠিক ভাবে কাজ না করলেই বিপদ, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তার প্রভাব পড়তে শরীরের অন্যান্য প্রত্যঙ্গেও।’’ চিকিৎসক জানাচ্ছেন, শুধু ওজনের কমা-বাড়া বা বিপাকহারে নজর রাখাই যথেষ্ট নয়, ভুঁড়িটিও পরখ করা জরুরি। শরীরচর্চা, প্রোটিন খাবার, পর্যাপ্ত ঘুমই পারে মধ্যদেশে মেদ জমা আটকাতে। আর সেটি না করতে পারলেই ঘটতে পারে বিপদ।
সুস্থ থাকতে সাধারণ ব্যায়াম ও খেলায় ভরসা। সুস্থ থাকা ছাড়া কোনও উপায় নেই। আর সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য ব্যায়ামে ভরসা। সারা দিনে অল্প হলেও ব্যায়াম করার চেষ্টা। সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার। মূলত পিলাটিজ। আর মানসিক প্রশান্তির জন্য যোগাসন করার চেষ্টা করি। পিলাটিজ এবং যোগাসনেই অত্যন্ত ফিট। এর পাশাপাশি হাঁটাহাঁটি, সাঁতার কাটা, ব্যাডমিন্টন ও বাস্কেটবল খেলাও রুটিনে। বলিউড তারকা থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের মধ্যে জনপ্রিয়তা বেড়েছে পিলাটিজ নিয়ে। সেনাবাহিনীর জন্য প্রথম এই প্রকার শরীরচর্চা শুরু করেন জোসেফ পিলাটিজ। পরবর্তী কালে সেই ব্যায়ামই নৃত্যশিল্পীদের ফিটনেসের কাজে লাগে। পেশির শক্তিবৃদ্ধি করার পাশাপাশি শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য, অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্য, সবের যত্ন নিতে পারে পিলাটিজ। কোর পেশিগুলিকে শক্তিশালী করে, পিঠের ব্যথা কমায়। মেরুদণ্ডের জোর বাড়ে। ব্যায়ামের নতুন ট্রেন্ডে পা মিলিয়ে উপকৃতও হতে পারেন।





