Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে গরম স্যুপ!‌ এক বাটি সব্জির স্যুপ শারীরিক অনেক সমস্যারই সমাধান

ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ভরপেট খাওয়ার আগে এক বাটি সব্জির স্যুপ শারীরিক অনেক সমস্যাই সহজ করে দিতে পারে। শীতের দিনে গরম স্যুপ খুবই আরামদায়ক। তবে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় যদি একই অভ্যাস করে ফেলেন, বদলে যেতে পারে অনেক কিছুই। মধ্যাহ্ণভোজ হোক বা নৈশাহার— খাওয়ার আগে এক বাটি সব্জির স্যুপই মেদ কমানোর জন্য যথেষ্ট। সব্জি দিয়ে তৈরি এক বাটি স্যুপ খাওয়ার উপকারিতা নেহাত কম নয়, বলছেন দিল্লি নিবাসী পুষ্টিবিদ রূপালি দত্ত। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘ স্যুপে থাকা সব্জির ফাইবার এবং জল দ্রুত পেট ভরিয়ে দেয়। ফলে মূল খাবার খাওয়ার আগে পেট অনেকটা ভরে যায়। বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে।’’ সব্জির স্যুপে ক্যালোরি কম, কিন্তু ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ, সবটাই মেলে। তাতে মাংস, ডিম যোগ করলে জুড়ে যায় প্রোটিনও। তা ছাড়া একবাটি স্যুপ খেলে পেট অনেকটা ভরে যায়, ভাত-রুটি বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা কমে। তরল খাবার বলে শরীরে জলও যায়। এই অভ্যাসের ফলে ক্যালোরির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হওয়ায় ধীরে ধীরে মেদ গলতে শুরু করে।

স্যুপ খাওয়ার পরে খাবার খাওয়ার অভ্যাসে শরীরের শর্করার মাত্রাও ঠিক থাকে। প্রথমত, গরম স্যুপ ধীরে সুস্থে খেতে হয়। মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার ফলে, হজম ভাল হয়। তা ছাড়া, সব্জিতে থাকা ফাইবার ছাঁকনির কাজ করে। স্যুপের পরে কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খেলেও রক্তে দ্রুত শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে না। তা ছাড়া, পেট কিছুটা ভর্তি থাকার ফলে তাড়াহুড়ো করে না চিবিয়ে খাওয়ার প্রবণতাও কমে। মরসুমি নানা রকম সব্জি ব্যবহার করে স্যুপ বানালে, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজের পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও যুক্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুনরুজ্জীবিত করতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট খুব জরুরি। তা ছাড়া স্যুপ যে হেতু সেদ্ধ খাবার, কম তেল-মশলাদার, তাই এর পুষ্টিও শরীর ভাল ভাবে পায়। কম ক্যালোরি কিন্তু পুষ্টিগুণ বেশি থাকায়, নিয়মিত স্যুপ খেলে শরীরে ভিটামিন-খনিজের ঘাটতি হবে না। খিদের মুখে রাতের দিকে অনেকেই বেশি খেয়ে ফেলেন। পুষ্টিবিদেরা সব সময়েই বলেন, রাতের খাবারটি হালকা হওয়া দরকার। অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে হজমের পাশাপাশি ঘুমেরও সমস্যা হবে। এক বাটি স্যুপ খাওয়ার পরে স্বাভাবিক ভাবেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার পিছনে ফাইবার এবং জলের অভাব থাকে। পেট পরিষ্কার হওয়ার জন্য দুই জিনিসই জরুরি। আর দুই উপকরণই মেলে স্যুপে। সব্জিতে ফাইবার থাকে। আবার স্যুপ তরল বলে, শরীরে অনেকটা জলও যায়।

নিরামিষাশীদের কাছে প্রাণিজ প্রোটিন খাবারের ভাল উৎস হল পনির। পনির দিয়ে নানা রকম রান্নাই হয়। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য অনেকে পনির ভেজেও নেন। কিন্তু পনির ভাজলে কি তার পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় বা প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়? পুষ্টিবিদেরা বলেন, যে কোনও খাবারের পুষ্টিগুণ যথাযথ পেতে হলে, সেটি সেদ্ধ করে বা হালকা সাঁতলে খাওয়াই ভাল। একই যুক্তি কি পনিরের ক্ষেত্রেও খাটে? দিল্লি নিবাসী পুষ্টিবিদ শালিনী ব্লিস জানাচ্ছেন, পনির ভাজলে প্রোটিনের মাত্রায় সামান্যই হেরফের হয়। কিন্তু, সেটি কী ভাবে ভাজা হচ্ছে, তা খুব জরুরি। ছাঁকা তেলে ভেজে পনির খেলে পুষ্টিগুণে প্রভাব পড়ে। প্রোটিন যুক্ত খাবার সাধারণত তাপ সহনশীল। কিন্তু পনির ভাজলে, তাতে ফ্যাট বা তেল যুক্ত হওয়ায় ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে যায়। তাই প্রোটিনে তেমন হেরফের না হলেও, যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন বা হার্টের রোগী কিংবা যাঁদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি— তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা সহ্য করাই উচিত: ঋতুস্রাবের সময়ে কারও কারও তলপেটে, কোমরে, ঊরুতে ব্যথা হয়। পেশিতে টান ধরে। অল্প-সল্প ব্যথা-বেদনা নিয়ে চিকিৎসকেরা চিন্তিত হতে বারণ করেন ঠিকই, তবে ব্যথা যদি নিয়মিত এবং মাত্রাতিরিক্ত হয়, তবে তা স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় সিস্ট বা অন্য নানা কারণে যন্ত্রণা হয়। কোনটা উদ্বেগের, কোনটা নয়, তা কিন্তু চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তা ছাড়া, অতিরিক্ত কষ্ট উপেক্ষা করা মানে, কোনও সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত হতেও দেরি হওয়া। যা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হতে পারে।

চুল-ত্বকের সমস্যা যত্নের অভাব: গোছা গোছা চুল ঝরছে কিংবা শুষ্ক ত্বক, এই সব কিছুই পরিচর্যার অভাব বলে মনে করছেন? চুল ঝরা, চুল ভেঙে যাওয়া বা শুষ্ক ত্বকের নেপথ্যে হরমোনের ভূমিকাও থাকতে পারে। থাকতে পারে কোনও অসুখ। থাইরয়েড-সহ একাধিক হরমোনের হেরফেরে চুল ঝরতে পারে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া লিভারের সমস্যা থেকেও মুখে ব্রণ, কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। আবার চুল ঝরার নেপথ্য কারণ হতে পারে মাথার ত্বকে সংক্রমণ। তাই ত্বক-চুলের সমস্যা এতটাও অবহেলা করা ঠিক নয়।

বয়স না হলে হার্ট সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রয়োজন নেই: অনেকেই ভাবেন, কম বয়সে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কী দরকার? পুরুষ হোন বা মহিলা— চিকিৎসকেরা বলছেন, বছরে এক বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে অনেক অসুখই আগাম চিহ্নিত করা সম্ভব।মহিলাদের ক্ষেত্রে কার্ডিয়োভাস্কুলার অসুখ বা হার্টের অসুখের প্রবণতা বাড়ছে। তা ছাড়া হার্ট অ্যাটাক এখন বয়স দেখে হয় না। তাই বয়স কম হলেও, এ নিয়ে হেলাফেলা করা অনুচিত।

স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার: স্তন ক্যানসার নিয়ে চিকিৎসকেরা অবশ্যই সতর্ক থাকতে বলেন। তবে স্তনে ব্যথা হওয়া বা কিছু মাংসপিণ্ড রয়েছে মানেই শুরুতে ক্যানসার ভেবে আতঙ্ক অর্থহীন। হরমোনের ভারসাম্যে এ দিক-ও দিক হলে স্তনে ব্যথা হতে পারে। সেটা স্বাভাবিকও। অনেক সময় সিস্ট বা টিউমারও হয়। অবশ্যই এই ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কিন্তু শুরুতে আতঙ্কিত না হওয়াই ভাল।

মানসিক সমস্যার নিজে থেকেই সমাধান সম্ভব: হরমোনের ওঠা-পড়া মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলে। শরীর যেমন খারাপ হয়, মনের ক্ষেত্রেও তেমনটা হতে পারে। জ্বর, সর্দি-কাশি হলে যদি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া যায়, তা হলে দিনের পর দিন দুশ্চিন্তা, আতঙ্কে ভুগলেও মনোবিদ বা মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। এই নিয়ে দ্বিধা কাটানো খুব জরুরি।
সেদ্ধ পনিরের পুষ্টিগুণ বেশি। পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে তাঁদের জন্য এই পন্থা সবচেয়ে ভাল। তবে সেদ্ধ পনির খুব একটা সুস্বাদু লাগে না। পনির গ্রিল করলে বা অল্প তেল বা মাখনে উল্টে-পাল্টে হালকা ভেজে নিলে প্রোটিনে হেরফের হবে না, ক্যালোরিও তেমন বাড়বে না।
পনির রান্নার পর অনেক সময় শক্ত হয়ে যায়। তেমনটা না হওয়ার জন্য টক দই এবং মশলা পনিরে আগে থেকে মাখিয়ে রাখা যায়। এতে পনির নরম থাকে স্বাদও বাড়ে। মশলা মাখানো পনির তাওয়ায় অল্প তেলে সেঁকে খাওয়া যায়। টাটকা কাঁচা পনির খাওয়া যায় চিলার ভিতরে পুর বানিয়ে, স্যান্ডউইচ এবং স্যালাডে দিয়ে। দিনে কতটা পনির খাওয়া যেতে পারে? আলাদা করে প্রাণিজ প্রোটিন কেউ না খেলে দিনে কেউ ১০০-১৫০ গ্রামের মতো পনির খেতে পারেন। এটা নির্ভর করবে, কোনও ব্যক্তি সারা দিনে অন্য প্রোটিন কতটা খাচ্ছেন, তার উপরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles