Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মকর সংক্রান্তির বিশেষ মাহাত্ম্য!‌ বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মোট ১২টা সংক্রান্তি!‌

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মোট ১২টা সংক্রান্তি। তার মধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ সংক্রান্তি মকর সংক্রান্তির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার মকর সংক্রান্তি। আমাদের বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মোট ১২টা সংক্রান্তি হয়। তার মধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ সংক্রান্তি হল মকর সংক্রান্তি। এই সংক্রান্তির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। দেশের নানা প্রান্তে এই দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এই দিন যদি বিশেষ কিছু উপায় করা হয়, তা হলে আমরা জীবনে নানা দিক থেকে উপকৃত হতে পারব। ১) এই দিন সূর্যদেবকে অর্ঘ্য দেওয়া খুবই শুভ বলে মানা হয়। অর্ঘ্য দেওয়ার সময় গঙ্গাজলে লাল ফুল, লাল চন্দন, আতপ চাল দিয়ে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হবে। এ ছাড়া এই দিন গঙ্গাজলে কালো তিল দিয়েও সূর্যের উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য দেওয়া খুব ভাল।

পৌষ সংক্রান্তির দিন বাড়িতে পুজো করার সময় ভগবানকে তিলের নাড়ু বা যে কোনও তিলের ভোগ নিবেদন করতে পারেন। মকর সংক্রান্তির পবিত্র তিথিতে কালো তিল খাওয়া অত্যন্ত শুভ। বিশেষ ফলপ্রাপ্তি ঘটে। সেটি দান করতে পারলেও খুব ভাল হয়। ঘর মোছার জলে কেবল নুন মেশালেই অশুভ শক্তি দূর হবে না, সঠিক নিয়ম মেনে ঘর না মুছলে সুফল মিলবে না পৌষ সংক্রান্তিতে শুরু হয় সূর্যের উত্তরায়ণ, রবি-সম দীপ্তিময় হতে এই দিন মেনে চলুন সহজ পাঁচ উপায়। এই দিন বাড়িতে শান্তি বজায় রাখুন এবং নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। মকর সংক্রান্তির দিন সকালবেলা স্নান সেরে গরুকে রুটি এবং গুড় খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। এই দিন যদি বাড়িতে কেউ আসেন, তা হলে তাকে কখনও খালি হাতে বা খালি মুখে ফেরাবেন না। সব কাজে সফলতা পেতে এই দিন চিনি, মিছরি, আলু এবং লঙ্কা দান করুন। জীবনের সকল বাধা কাটিয়ে উঠতে এই দিন ঘি, চাল, ময়দা এবং দই দান করুন। এই দিন সকালবেলা সারা বাড়িতে অবশ্যই গঙ্গাজল ছেটান। মকর সংক্রান্তির দিন গঙ্গাস্নান করে সাধ্যমতো যে কোনও জিনিস দান করতে পারেন। ঘর পরিষ্কার রাখার জন্য কেবল ঝাড় দিলেই হয় না, সেটিকে মুছতেও হয়। এ ক্ষেত্রে মোছার জলে নুন ব্যবহার করলে নেগেটিভ শক্তির কবল থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু নিয়মিত ঘর মুছলেই যে বাড়িতে শুভ শক্তি থাকবে তা নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ঘর মোছা জরুরি। না হলে সমস্যা কমার বদলে বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেকে দিনশেষে বাড়ি ফিরে ঘর মোছেন। তবে সূর্যাস্তের আগেই ঘর মোছা উচিত। সূর্যাস্তের পর ঘর ঝাড়া বা মোছা উচিত নয় বলে জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র। এই কাজ করলে লক্ষ্মীদেবী রাগ করেন। তাই চেষ্টা করুন সকালের দিকেই ঘর মোছার। দুপুরের দিকেও ঘর মোছা উচিত নয় বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র। ঘর মোছার উপযুক্ত সময় হচ্ছে সূর্যোদয়ের পরবর্তী সময়। চেষ্টা করুন সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাসি ঘর ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করে ফেলার। এতে বাড়িতে পজ়িটিভ শক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ঘর মোছার পর সেই বালতি ও কাপড় বা মপ যেখানে-সেখানে ফেলে রেখে দেবেন না। সেগুলির কাজ মিটে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিন। অনেকেই প্রতি দিন ঘর মোছার জলে নুন দিয়ে ঘর মোছেন। এই কাজ করা মোটেও উচিত নয়। বৃহস্পতিবার ও রবিবার ঘর মোছার জলে নুন ব্যবহার করা যাবে না। এই দুই দিন নুনের বদলে লেবু ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলেও বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির পরিমাণ কমে।সন্ধ্যার পর ঘর থেকে আবর্জনাও বাইরে ফেলা যাবে না। ঘর যে জল দিয়ে মুছেছেন, সেটিও সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে ফেলা মানা। এই কাজগুলি করা বাস্তুসম্মত নয়। এর ফলে বাড়ির উপর অশুভ প্রভাব পড়ে।

পৌষ মাসের শেষ ও মাঘের শুরু হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই সঙ্গে জ্যোর্তিবিদ্যাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এই সময় সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয়। পৌষ সংক্রান্তির দিন শুরু হয় সূর্যের উত্তরায়ণ। পৌষ সংক্রান্তির দিন সূর্য ধনুর পরবর্তী রাশি মকরে গমন করে। সেই কারণে পৌষ সংক্রান্তি মকর সংক্রান্তি নামেও পরিচিত। পৌষ মাস হল মল মাস। এই মাসে কোনও শুভ কাজ করা যায় না। শুভ কাজ সম্পর্কিত আলোচনা, কেনাকাটা প্রভৃতিও এই মাসে করা নিষেধ। তবে পৌষ মাসের শেষ ও মাঘের শুরু হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই সঙ্গে জ্যোতির্বিদ্যাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এই সময় সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয়। সেই কারণে পৌষ মাসের শেষ দিন বিশেষ কিছু উপায় পালন করতে পারলে খুব ভাল ফল পাবেন। বিশেষ করে সূর্যের বছরে তাঁর কৃপায় ভাগ্যের অমানিশা দূর হবে। পৌষ সংক্রান্তির দিন সূর্যোদয়ের পূর্বে ঘুম থেকে উঠে সূর্যপ্রণাম করুন। এর আগে অবশ্যই স্নান করে শুদ্ধ বসন ধারণ করতে হবে। গায়ত্রী মন্ত্র বা সূর্যপ্রণাম মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে সূর্যের উদ্দেশ্যে জল অর্পণ করলে বিশেষ ভাল ফল পাওয়া যাবে। এই বিশেষ দিনে দানধ্যান করা অত্যন্ত শুভ। লাল বর্ণের পোশাক, কালো ছোলা ও কেশর দান করতে পারেন। সম্ভব না হলে, সাধ্যের মধ্যে লাল রঙের যে কোনও জিনিস দান করা যেতে পারে। পৌষ সংক্রান্তির দিন সন্ধ্যাবেলা তুলসীগাছে ধূপকাঠি ও প্রদীপ জ্বালান। গুড়ের তৈরি কোনও মিষ্টি বা পিঠে বা পায়েস ঠাকুরকে নৈবেদ্য হিসাবে দিন। তার পর বাড়ির সকলে মিলে সেই প্রসাদ ভাগ করে খান। বাড়ির শিশুদের সবার আগে খেতে দিন। তার পর বড়রা খান। মকর সংক্রান্তির দিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। এই দিন আমিষ কিছু খাওয়া উচিত নয়। যে কোনও প্রকার নেশাদ্রব্য থেকেও দূরে থাকুন। এই দিন বাড়িতে শান্তি বজায় রাখুন এবং নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। মকর সংক্রান্তির দিন সকালবেলা স্নান সেরে গরুকে রুটি এবং গুড় খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। এই দিন যদি বাড়িতে কেউ আসেন, তা হলে তাকে কখনও খালি হাতে বা খালি মুখে ফেরাবেন না।

বহু মানুষ সূর্যদেবের পুজো করেন। তবে অনেকেই জানেন না যে এই পবিত্র তিথিতে শিবের উপাসনা করলেও দারুণ ফলপ্রাপ্তি ঘটে। মকর সংক্রান্তির তিথিতে মহাদেবকে বিশেষ কিছু জিনিস অর্পণ করলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। নানা গ্রহের কুপ্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মকর সংক্রান্তির দিন শিবলিঙ্গে কোন জিনিসগুলি অর্পণ করবেন?

কালো তিল: মকর রাশির জাতক গ্রহ শনিদেব। মকর সংক্রান্তির দিন শিবলিঙ্গে কালো তিল অর্পণ করলে শনিদেবের কুপ্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
গঙ্গাজল ও গুড়: গঙ্গাজল মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় জিনিস। মকর সংক্রান্তির পবিত্র তিথিতে গঙ্গাজলে সামান্য গুড় মিশিয়ে শিবলিঙ্গে অর্পণ করা গেলে খুব ভাল ফল পাওয়া সম্ভব।
আখের রস: এখনও অনেক বাড়িতে পৌষ সংক্রান্তির দিন নবান্ন বানানোর চল রয়েছে। কারণ এই তিথি নতুন ফসলকে স্বাগত জানানোর উৎসব হিসাবেও পরিচিত। এই দিন শিবলিঙ্গে আখের রস অর্পণ করলে দেবী লক্ষ্মী অত্যন্ত প্রসন্ন হন। দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেন।
কাঁচা দুধ ও মধু: শারীরিক দিক দিয়ে সুস্থ থাকতে পৌষ সংক্রান্তির দিন শিবলিঙ্গে দুধ ও মধু অর্পণ করুন। তবে এর পর শিবলিঙ্গকে গঙ্গাজল দিয়ে ধুতে ভুলবেন না।
অখণ্ড চাল: জীবনে সমৃদ্ধি আনার লক্ষ্যে এই পবিত্র দিনে শিবলিঙ্গে অখণ্ড চাল নিবেদন করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles