ক্ষমতার অপব্যবহার করেন মমতা, দাবি ইডির। ইডির বিবৃতিতে, ‘নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১০টির মধ্যে দুটি জায়গায় সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি-সহ কয়েকজন বেআইনিভাবে ঢুকে পড়েন এবং নথি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান।’ আর সেই ‘সাংবিধানিক পদে থাকা’ মানুষ বলতে ইডি যে আদতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার কথা বলেছেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই সংশ্লিষ্ট মহলের। সেই বিবৃতির কিছুক্ষণ পরেই মমতার অভিযান নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে ইডি। সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। আর মমতা উপরে উঠে যাওয়ার পরে একটি সাদা গাড়িতে গাদা-গাদা ফাইল, নথি তোলা হয়। সেই নথির বিষয়ে পরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাগজ, নথি, ফাইল পড়েছিল। সেগুলো তৃণমূলের কাগজপত্র। সেগুলিই গাড়িতে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেইসঙ্গে মমতার অভিযান নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যে মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে। শুক্রবার মামলার শুনানি হতে পারে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেক অফিসে তল্লাশি চালানোর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, কয়লা পাচার মামলায় মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তার মধ্যে ছ’টি জায়গা পশ্চিমবঙ্গের। বাকি চারটি দিল্লিতে অবস্থিত। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সব জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু দুটি জায়গায় সাংবিধানিক পদে থাকা মানুষজন বেআইনিভাবে ঢুকে পড়েন। মমতার অভিযান নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যে মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে। শুক্রবার মামলার শুনানি হতে পারে।

কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশি। তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেক অফিসে তল্লাশি চালানোর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, কয়লা পাচার মামলায় মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তার মধ্যে ছ’টি জায়গা পশ্চিমবঙ্গের। বাকি চারটি দিল্লিতে অবস্থিত। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সব জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু দুটি জায়গায় সাংবিধানিক পদে থাকা মানুষজন বেআইনিভাবে ঢুকে পড়েন। ইডির অভিযানের মধ্যেই আইপ্যাকের অফিস থেকে গাদা-গাদা ফাইল তোলা হল গাড়িতে। বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসার পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোজা লিফটে করে চলে যান ওই বিল্ডিংয়ের ১১ তলায়, যেখানে আইপ্যাকের অফিস আছে। মুখ্যমন্ত্রী নীচে নামার আগেই গাদা-গাদা ফাইল এবং কাগজপত্র একটি সাদা গাড়িতে তোলা হয়। যে গাড়িটি (মাহিন্দ্রা এসইউভি গাড়ি, সরকারি লোগো নেই, তবে গাড়ির সামনে জাতীয় পতাকা ও ঠাকুরের ছবি আছে) তৃণমূল কংগ্রেসের নামে নথিভুক্ত আছে বলে একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে। তবে সেই ফাইলে কী আছে, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু ইডির তল্লাশির মধ্যেই কীভাবে ওই ফাইল, ডায়েরি ও কাগজপত্র নামিয়ে আনা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন। প্রশ্ন, কীভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে সেই ফাইল ও নথি নামিয়ে আনতে দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা?সাদা মাহিন্দ্রা গাড়ি। তবে তাতে লেখা নেই ‘গর্ভমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’। সেই গাড়ির চালকের পিছনে সিটে রয়েছে গুচ্ছ-গুচ্ছ ফাইল। আজ সকালে যখন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাছিল ইডি, সেই সময় তাঁর বাড়ি পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর বেরিয়ে আসেন সবুজ ফাইল নিয়ে। এরপর তিনি পৌঁছে যান আইপ্যাকের অফিসে। পরবর্তীতে দেখা গেল WB06Y5555 নম্বরের একটি সাদা স্করপিও গাড়ি রয়েছে। আর তার সিটে পড়ে রয়েছে একাধিক ফাইল। সেখানে দেখা যাচ্ছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ফাইল। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, এটি তৃণমূলের রেজিস্ট্রার গাড়ি।

কেন এত ‘উদভ্রান্তের মতো দৌড়তে হল মুখ্যমন্ত্রীকে? কয়লা পাচার সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিলেন ইডি আধিকারিকরা। এই সময়েই পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে কেন্দ্রীয় বাহিনীর। ডিসি সাউথ, পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা পৌঁছন। আর তারপরই পৌঁছন প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে অবশ্য বেশিক্ষণ লাগেনি মুখ্যমন্ত্রীর। মিনিট পনেরোর মধ্যে বেরিয়ে আসেন। হাতে একটা সবুজ ফাইল। গোদরেজ ওয়াটার সাইডের আই প্যাকের অফিসে তখন যেন যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি। একদিকে পুলিশি ঘেরাটোপ, সামনে রয়েছে মহিলা পুলিশ। একটা পাশ দড়ি দিয়ে বাঁধা। আর আরেক পাশে রাখা সেই রহস্যময় গাড়ি। যে গাড়িতে অফিস থেকে নামিয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ ফাইল তোলা হয়েছিল। তল্লাশির মাঝেই ঠিক বেসমেন্টে সাদা SUV এসে দাঁড়ায়। দেখা যায়, দুজন হাতে ফাইল নিয়ে এসে রাখেন ওই গাড়িতে। তাঁদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তখন। আদৌ তাঁরা ওই বেসরকারি সংস্থার কর্মী নাকি পুলিশ, তা বোঝা যাচ্ছিল না। ফাইল নিয়ে এসে সোজা সাদা গাড়ির মাঝের অংশে সিটের ওপর রাখা হল। আর সেই গাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। মোটা দড়ি দিয়ে গাড়ি থেকে দূরত্বে একপাশে আটকে দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। যাতে কেউ সেই গাড়ির কাছে গিয়ে ফাইলের ছবি তুলতে না পারেন। মুখ্যমন্ত্রী গোদরেজ ওয়াটার সাইডে ঢোকার ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ওই দুই ব্যক্তি হাতে মোটা মোটা ফাইল নিয়ে নীচে নামেন। তাঁদের মধ্যে এক জনের হাত থেকে ফাইল পড়ে যায় মাটিতে। মোটা সেই ফাইলের ‘আনকভারড’ হয়ে যায়। সেখানে ফাইলের কভার খুলে যেতেই দেখা যায়, একটি কাগজ, তাতে লেখা ‘গর্ভমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’। সেটা জেরক্স করার কোনও একটি নথি। যাতে সংবাদমাধ্যম যাতে তার ছবি তুলতে না পারেন, মুহূর্তের মধ্যে তা কুড়িয়ে গাড়িতে তোলা হয়। কয়লা পাচার সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিলেন ইডি আধিকারিকরা। এই সময়েই পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে কেন্দ্রীয় বাহিনীর। ডিসি সাউথ, পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা পৌঁছন। আর তারপরই পৌঁছন প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীক জৈনের বাড়িতে যখন তল্লাশি চালায়, তখন শেক্সপিয়ার থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আবাসনের নীচে কথা কাটাকাটি হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর। পুলিশকে আবাসনের প্রধান গেটের বাইরে যেতে অনুরোধ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই নিয়ে চলে একপ্রস্ত বচসা। আইপ্যাকের অফিসের বেসমেন্টে রাখা একটি সাদা গাড়িতে তোলা হল কিছু ফাইল। সেই ফাইলের ছবি যখন সংবাদমাধ্যম তুলতে গেলে আটকানো হয় সংবাদমাধ্যমকে। ধাক্কাও মারা হয় বাংলার এক সাংবাদিককে। সাদা গাড়িতে থাকা ফাইলের উপর রয়েছে সরকারি ছাপ। একটি ফাইলে লেখা রয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসও। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেই সব ফাইল কেন গাড়িতে তোলা হল, বা কী রয়েছে সেই ফাইলে তা এখনও জানা যায়নি। যদিও সেই গাড়ি পাহারা দিচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। যদিও যাঁরা পাহারা দিচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের সাধারণ পাবলিক বলে দাবি করছেন।





