সমাজমাধ্যমে তারকাদের লাগাতার হেনস্থা, নানা কারণে খ্যাতনামীদের আক্রমণের প্রতিবাদে এ বার পুলিশের দ্বারস্থ টলিউডের একাংশ। শুক্রবার নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনেই লালবাজার সাইবার সেলের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, প্রযোজক শ্রীকান্ত মেহতা, রানা সরকার, নিসপাল সিং রানে। এ ছাড়াও আবির চট্টোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সহ টলিউডের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও উপস্থিত ছিলেন। নগরপালের কাছে সকলেই সই করে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে তাঁদের তরফে। এ দিন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা নগরপাল ও সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে ছবির রেটিং কমিয়ে, কারও ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিযোগ মন দিয়ে শুনেছেন সকলেই। কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্থ করা হয়েছে।’ সাইবার সেলে জমা দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অনেকদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব, রিলস প্রভৃতি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে টলিউডের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের পরিবারকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ ছবি, আপত্তিকর লেখা ও কুরুচিকর মন্তব্য করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।বিশেষ করে কোনও সিনেমার টিজ়ার মুক্তি, প্রচার বা সিনেমা মুক্তির সময়ে পরিকল্পিত ভাবে কখনও পরিচালক, কখনও প্রযোজক, আবার কখনও শিল্পী ও তাঁদের পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনের উপর আঘাত হানা হচ্ছে। এই ধরনের ভাষা ও আক্রমণের মাত্রা এতটাই অশালীন ও অবমাননাকর যেটা শুধুমাত্র সমগ্র টলিউডের জন্য লজ্জাজনক নয়, বরং সহ্যের সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক সম্মান মারাত্মক ভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’
বছর শেষে টলিপাড়ায় প্রযোজকদের তরফে রেটিং ম্যানুপুলেশনের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তি পেয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’। মুক্তির প্রথম দিনেই, সেই ছবির রেটিং বুক মাই শো-তে ম্যানুপুলেট করে কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ। বেশ কিছু দর্শক বুক মাই শো-তে ছবিটাকে দশে এক দিয়েছিলেন। যাতে সামগ্রিকভাবে এই ছবির রেটিং হয়েছিল ৪.৯। কোনও এজেন্সির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে কি এমন করা হয়েছে? এবার উত্তর খুঁজতে চায় টলিপাড়া। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতে তারকাদের লাগাতার আক্রমণ বা ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। দুর্গাপুজোতে ছবি মুক্তির সময়ে ‘রক্তবীজ টু’ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জিনিয়া সেন। তাঁকে অশালীন পোস্ট-হুমকি সব কিছুর সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে আজকে একজোট টলিপাড়া। এর আগে ইমপা-তে স্ক্রিনিং কমিটির মিটিংয়ে স্বরূপ বিশ্বাস খোলসা করে দেন, ”বাংলা ছবি বা কোনও নায়ক-নায়িকার অনুরাগী থাকা ভালো। তবে ছবির সঙ্গে যুক্ত বা তাঁদের পরিবারের কাউকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হলে, সেই বিষয়টাকে আমরা সমর্থন করি না।” কোনও ইউটিউবার রিভিউ দেওয়ার ছলে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে কিনা, সেই উত্তর খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।





