Sunday, July 5, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হুমায়ুনকাণ্ডে তুলকালাম!‌ দিল্লির কাগজ ছিঁড়ে ফেললেন মমতা! হুমায়ুনের ‘বাবরি’ শিলান্যাসে ‘সৌদি থেকে আসা’ দুই ‘ক্কারী’ মুর্শিদাবাদ ও মেদিনীপুরের!

৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় মসজিদের শিলান্যাস করেন হুমায়ুন। রাজ্য-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মগুরুদের আসার কথা নিজেই জানান। তাঁদের জন্য এলাহি খাওয়াদাওয়ারও আয়োজন। আয়োজকদের সূত্রেই জানা গিয়েছিল, কর্মসূচিতে যোগ দিতে সৌদি আরব থেকে আসছেন দুই ‘ক্কারী’ অর্থাৎ মক্কার ইমাম। যদিও কর্মসূচির পরে অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত দুই ধর্মগুরু সৌদি থেকে নয়, বরং এ রাজ্য থেকেই যোগ দিতে গিয়েছিলেন শিলান্যাস কর্মসূচিতে। তাঁদের এক জন মুর্শিদাবাদের, দ্বিতীয় জন মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এ কথা মেনে নিয়ে খোদ তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুনের অভিযোগ, তিনি প্রতারণার শিকার। সেই প্রতারণা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সিদ্দিকুল্লা এই দাবি উড়িয়ে জানান, কাউকে প্রতারণা করার প্রয়োজন তাঁর নেই। ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় মসজিদের শিলান্যাস করেন হুমায়ুন। রাজ্য-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মগুরুদের আসার কথা তিনি নিজেই জানান। তাঁদের জন্য এলাহি খাওয়াদাওয়ারও আয়োজন করা হয়। আয়োজকেরা কর্মসূচির আগে জানান, সৌদি থেকে আসছেন দুই ‘ক্কারী’। অভিযোগ, ওই দুই ধর্মগুরুর এক জন, ক্কারী সুফিয়া মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদের বাসিন্দা। দ্বিতীয় জন, শেখ আবদুল্লা পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এই প্রসঙ্গেই হুমায়ুন অভিযোগ করেন, তাঁকে ঠকানো হয়েছে। হুমায়ুনের কথায়, ‘‘আমার এক পরিচিতের সূত্র ধরে গুজরাতে কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করি, যাঁরা এর আগে তাঁদের অনুষ্ঠানে মক্কার দুই ক্কারীকে এনেছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে মুর্শিদাবাদে আমার এক পরিচিতের নম্বর পাই। তিনি আমায় আশ্বস্ত করেছিলেন মক্কা থেকে দু’জন ক্কারীকে নিয়ে আসবেন। আমি তাঁদের উপর সম্পূর্ণ ভরসা করেছিলাম। বিমানের টিকিট, আনুষঙ্গিক খরচ পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আর কোনও খোঁজখবর নিতে পারিনি। এখন শুনছি ওঁদের দু’জনের এক জন দৌলতাবাদের, অন্য জনের মেদিনীপুরের বাসিন্দা।’’ অভিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী খন্দকার ইউসুফ নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘‘এত অল্প সময়ের মধ্যে সৌদি আরব থেকে মেহমান আনা সম্ভব হয়নি। ওই দু’জনকে সৌদি আরবের বলে দাবি করা হয়নি। তবে ভিড়ের মধ্যে বলা হয়ে ওঠেনি, যে ওঁরা সৌদি আরবের নন। আমার উপরে দায়িত্ব ছিল, আমি সেই দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হয়েছি। হুমায়ুন সাহেবের কোন দায় নেই।’’ হুমায়ুন এই ঘটনা নিয়ে আঙুল তুলেছেন সিদ্দিকুল্লার দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি গোটা পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি আমার পরিচিত মধ্যস্থতাকারীকে প্রভাবিত করে আমাকে অপদস্থ করার জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করে ঠকেছি। সিদ্দিকুল্লা এবং ওই এজেন্ট ঠকিয়েছেন। সব সত্যি প্রকাশ্যে আনব। আমি অন্ধের মতো বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছি। এর কোনও কিছুর দায় আমার না।’’ সিদ্দিকুল্লাবলেন, ‘‘তিনি (হুমায়ুন) যা করছেন, করুন। আমাকে জড়াবেন না। আমি একটি সংগঠন চালাই, যার অধীনে ১১০০ মাদ্রাসা চলে। আমার প্রচুর অনুগামী রয়েছেন। আমার কাউকে ঠকানোর প্রয়োজন নেই। আমাকে এ সবের মধ্যে তিনি যেন না টানেন!’’

কোচবিহারে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মঙ্গলবার জেলার রাসমেলা ময়দানে জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। জনসমাগমে ঠাসা মঞ্চ থেকে এসআইআর প্রকল্প, ১০০ দিনের কাজ, কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক থেকে শুরু করে বিহারের ভোট-সহ একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে তুলধোনা করলেন তিনি। পাশাপাশি ঘোষণা করলেন, কেন্দ্র টাকা না দিলেও ১০০ দিনের কাজের বকেয়া রাজ্য সরকারই দেবে। মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই আক্রমণ করলেন কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত সরকারকে। তাঁর কথায়, ‘আমি বিজেপির মতো টাকা দিয়ে ভোট কিনি না। মানুষের ভালবাসা নিয়ে ভোটে জিতে আসি। বিহারে টাকা বিলিয়ে ভোট কিনেছে বিজেপি। চা বাগান খোলা, প্রকল্প দেওয়ার নামে ভোটের আগেই নাটক করে কেন্দ্র।’ ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্রের অর্থ আটকে রাখার ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কাজ করি আমরা, ভোট নেয় ওরা। আমরা বহু বন্ধ চা বাগান খুলেছি। অথচ দিল্লিতে আমাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘রিভিউ করার নামে কেন্দ্র রাজ্যে ১৮৬টি টিম পাঠিয়েছে। আসল উদ্দেশ্য তদন্ত নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি। ভোটের আগে হয়তো আবার ১০০ দিনের টাকার নাম করবে। কিন্তু দু’মাসে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না। তারপর বলবে কাজ হয়নি। বাংলার মাথা কখনও নত হয়নি, হবেও না। বাংলা মাথা উঁচু করে চলতে জানে।’ এরপরই মুখ্যমন্ত্রী জনসভামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আবার ক্ষমতায় আসব। তোমাদের কাছ থেকে ভিক্ষে চাই না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে জানি। ১০০ দিনের কাজের টাকা আমরা নিজেরাই দেব’। ঠিক এই কথার পরই তিনি দিল্লি থেকে পাঠানো একটি কাগজ জনতার সামনে তুলে ধরে বলেন, ‘এই চিঠির কোনও মূল্য নেই। বাংলাকে অপমান করে পাঠানো হয়েছে। তাই ছিঁড়ে দিলাম।’ ভোটের আগে কোচবিহারের এই জনসভা থেকে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আবারও তুঙ্গে ওঠার ইঙ্গিত মিলল। বিশেষত ১০০ দিনের কাজের টাকা রাজ্য সরকার দেবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles