আগামী মরশুমেই মোহনবাগান মাঠে ফিরতে পারে কলকাতা লিগ। শনিবার মোহনবাগানের বার্ষিক সাধারণ সভা ছিল। সেখানেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, পরের মরশুমেই কলকাতা লিগ ফিরবে ময়দানে। এদিন এজিএমে এই প্রসঙ্গ তোলেন বেশ কিছু সদস্য। এদিন ঘটনাচক্রে মোহনবাগান ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন আইএফএর সভাপতি অজিত ব্যানার্জি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর দ্বারস্থ হন দেবাশিস দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু। অজিত ব্যানার্জি জানিয়ে দেন, মাঠ ঠিক থাকলে তিন প্রধানের ক্লাবের মাঠে খেলা হতে কোনও সমস্যা নেই। তাতে রাজি হয়ে যায় মোহনবাগান কর্তারা। অর্থাৎ, ধরে নেওয়া যায়, পরের মরশুমে মোহনবাগান কলকাতা লিগের ম্যাচ নিজেদের মাঠে খেলবে। এএফসি কাপের ম্যাচ খেলতে ইরানে না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এদিন বার্ষিক সাধারণ সভায় আগে বিশাল বড় ব্যানার নিয়ে ক্লাবতাঁবুর বাইরে জমায়েত হয় একদল সমর্থক। যদিও এই বিষয়টিকে বড় করে দেখতে চান না মোহনবাগান সভাপতি। দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘আমরা সদস্যদের কথা বলতে দিই। আমরা কাউকে থামিয়ে দিই না। সদস্য, সমর্থকদের ক্ষোভ, দুঃখ থাকতেই পারে। ইরানে না যাওয়া নিয়ে ওরা ক্ষুব্ধ। কিছু প্রশ্ন উঠেছে। সবকিছুই ক্লাবের জন্য ভাল।’ মোহনবাগান ক্লাবের এজিএম অনেক নির্বিঘ্নে হয়। প্রচুর সমর্থক হাজির ছিল। প্রায় পাঁচশোর বেশি সদস্য, সমর্থক ক্লাবতাঁবুতে হাজির ছিলেন। এদিন সাব জুনিয়র জাতীয় ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলা দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রবীণ সদস্যদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে কমিটি। কেউ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে সদস্য থাকলে, তাঁকে আর সদস্যপদ নবিকরণ করতে হবে না। ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হবে। এছাড়াও একটি নতুন পদ্ধতি চালু করা হল এদিনের মিটিংয়ে। কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবারের অন্য কেউ চাইলে সদস্যপদ নিতে পারবে। এতদিন পর্যন্ত এই নিয়ম চালু ছিল না।
১২ বছর পর কার্লেস কুয়াদ্রাতের হাত ধরে ট্রফির খরা কেটেছিল ইস্টবেঙ্গলের। লাল হলুদ ক্লাবতাঁবুতে ঢুকেছিল সুপার কাপ। আবার সেই পয়া টুর্নামেন্ট জেতার হাতছানি ইস্টবেঙ্গলের সামনে। তবে এবার সামনে কঠিন গাঁট এফসি গোয়া। মানোলো মার্কুয়েজের দলকে হারাতে পারলেই মরশুমের প্রথম ট্রফি জয়। তবে লড়াইটা সহজ হবে না। সেমিফাইনালে মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে গোয়া। তারওপর ঘরের মাঠে ম্যাচ। তাই কিছুটা এগিয়ে থেকেই নামবে। তবে ফাইনাল দেখতে বেশ কিছু ইস্টবেঙ্গল সমর্থক পাড়ি দিয়েছে গোয়ায়। সেমিফাইনালেও বেশ কিছু সাপোর্টার হাজির ছিল। তবে সমর্থক সংখ্যা নিয়ে ভাবছেন না বিনো জর্জ। বরং, হুঙ্কার ইস্টবেঙ্গলের সহকারী কোচের। জানিয়ে রাখলেন, জেতার জন্যই তাঁরা এসেছেন।
বিনো জর্জ বলেন, ‘আমরা আগেরবার ওড়িশায় সুপার কাপ ফাইনাল খেলেছিলাম। কাছাকাছি হওয়ায় কলকাতা থেকে প্রচুর সমর্থক এসেছিল। গোয়াতেও বেশ কিছু সাপোর্টার এসেছে। তবে ঘরের মাঠে খেললে যেমন সমর্থক পাওয়া যায়, সেটা পাওয়া যাবে না। তবে আমরা এই নিয়ে ভাবছি না। আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে চাই। গোয়ার মাঠে ফাইনাল খেললেও আমরা কোনওভাবেই পিছিয়ে থাকব না। আমি এখানে শুধু অংশ নিতে আসিনি, সুপার কাপ জিততে এসেছি।’ কোনও চোট সমস্যা নেই লাল হলুদে। রবিবার পূর্ণাঙ্গ দলই পাবেন অস্কার। যেকোনো মূল্যে ট্রফি নিয়ে ফিরতে চান। ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠকে রুখতে বিশেষ পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন মানোলো মার্কুয়েজ। মিগুয়েল, মহম্মদ রশিদ, নাওরেম মহেশ, পিভি বিষ্ণুদের গুরুত্ব দিচ্ছেন গোয়ার কোচ। একইসঙ্গে সমীহ করছেন অস্কার ব্রুজোর দলকে। এটাকেই আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের সেরা দল বলে মনে করেন প্রাক্তন জাতীয় কোচ। মানোলো মার্কুয়েজ বলেন, ‘আমি ছ’বছর ধরে ভারতে আছি। আগের তুলনায় ইস্টবেঙ্গল অনেক উন্নতি করেছে। গত কয়েক বছরের এটাই ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। এই দল আইএসএলের সব ক্লাবকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। ওদের মাঝমাঠ ভাল। ওদের মাঝমাঠকে রুখে দেওয়ার জন্য আলাদা পরিকল্পনা আছে। আশা করছি তুল্যমূল্য লড়াই হবে। ইস্টবেঙ্গল পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ভাল খেলেনি। কিন্তু যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে।’ বিপক্ষ শিবিরে রয়েছে বোরহা হেরেরা। ইস্টবেঙ্গলের আগের সুপার কাপ জয়ে তাঁর অবদান অপরিসীম। লাল হলুদ জার্সিতে দলকে ট্রফি দেওয়ার পর লোনে এফসি গোয়ায় যোগ দেন। এবার পুরোনো দলের বিরুদ্ধে নামবেন বোরহা। একসময় ইস্টবেঙ্গলে ক্রেসপোর সঙ্গে খেলেছেন। তবে সেই নিয়ে ভাবিত নন দুই স্প্যানিয়ার্ড। মাঠের বাইরের বন্ধুত্বের জার্সি খুলে রেখেই নামবেন মাঝমাঠের দুই তারকা। ঘরের মাঠে ফাইনাল বলে কিছুটা এগিয়ে থেকেই নামবে গোয়া। তবে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে তৈরি অস্কার ব্রুজো। কুয়াদ্রাতের কীর্তির পুনরাবৃত্তি কি ঘটাতে পারবে আরেক স্প্যানিয়ার্ড?




