এসআইআর অর্থাৎ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলছে। কমিশন বলছে, এসআইআরে ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার হিসাব মিলছে। তাঁদের মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯। বাকি কারও খোঁজ মেলেনি। কেউ স্থানান্তরিত হয়েছেন। কোনও ভোটার আবার ‘ভুয়ো’ বলে জেনেছে কমিশন। রাজ্যে দুই আধিকারিককে নিয়োগ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যুগ্ম সিইও (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) পদে নিয়োগ করা হয়েছে বন্দনা পোখরিয়াল এবং দিব্যা মুরুগেশনকে। বন্দনা হাওড়া পুরসভার কমিশনার পদে ছিলেন। দিব্যা হাওড়ার অতিরিক্ত জেলাশসক ছিলেন। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতি দিনই ভোটারদের বিষয়ে তথ্য আসছে। আপাতত বিএলও-দের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব মিলেছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম বিলি করতে গিয়ে এই তথ্য পেয়েছেন। সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম জমা হওয়ার পরে চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে বাদ পড়ার সংখ্যা যে বেশি হতে পারে বলে নিশ্চিত। আপাতত বাদ পড়ার তালিকায় মৃত ছাড়াও রয়েছেন একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে, স্থানান্তরিত হয়েছেন এমন ভোটার। বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন নিরুদ্দেশ হওয়া ভোটারও। ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১১ ডিসেম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। কমিশনের তথ্য বলছে, এ রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৯। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের তালিকা থেকে মোট কত নাম বাদ পড়ল তা জানা যাবে খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে। পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত পক্ষে কত ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, তা যাচাই করার জন্য রাজ্যের এসআইআর পর্যবেক্ষক এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-দের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কী ভাবে মৃত ভোটারের সংখ্যা যাচাই করতে হবে, তা বিশদে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিইও দফতর থেকে মেলা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে বলা হয়েছিল, রাজ্যের ২২০৮টি বুথে গত এক বছরে কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি বা সেখান থেকে কেউ অন্যত্র স্থানান্তরিত হননি। এর পরেই প্রশ্ন উঠেছিল, যে রাজ্যের এত সংখ্যক বুথে কি তবে গত এক বছরে কারও মৃত্যু হয়নি? নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির কাছে রিপোর্ট তলব করে। তার পরে সংখ্যাটি ক্রমশ কমে সাতে নেমে আসে। কমিশন মৃত ভোটারের তথ্য যাচাই নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। কী ভাবে সেই কাজ করতে হবে, তা জানিয়ে রাজ্যের ডিআরও, এসআইআর পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছে তারা। কমিশনের নির্দেশ, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভায় মৃতের যে তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে, তা যাচাই করতে হবে। এলআইসি, ব্যাঙ্ক, কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে মৃতদের তথ্য নথিভুক্ত থাকে। সেই তথ্য যাচাই করতে হবে। সরকারি প্রকল্পের ডাটাবেস, যেমন সমব্যথী, বার্ধক্য ভাতা, কৃষকদের বিভিন্ন প্রকল্পেও রয়েছে মৃত্যুর তথ্য। সেগুলিও যাচাই করতে হবে। রেশন কার্ড জমা দেওয়ার সংক্রান্ত তথ্য (খাদ্য দফতরে জমা হওয়া রেশন কার্ড), শ্মশান, কবরস্থান, দাহস্থলের রেকর্ড তথ্য, পারিবারিক পেনশনের তথ্য খতিয়ে দেখতে বলেছে কমিশন। এর বাইরে অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যও খতিয়ে দেখতে হবে। ইআরও–দের এই সব সূত্র থেকে মৃতদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করতে হবে। ডেটাবেসে ‘মৃত’ চিহ্নিত হওয়া নামগুলির সঙ্গে সেই সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মিলিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। এসআইআরের কারণে বাদ পড়তে চলেছে ৫০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম। আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। মৃতদের তথ্যই আরও ভাল ভাবে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।




