আচমকা মারাত্মক স্ট্রোকের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে জাপনি পদ্ধতি ‘আশিইউ’। সারা দিনে ২০ মিনিট এই পদ্ধতি মেনে চললে নাকি ব্রেন স্ট্রোক আর হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি অনেকটাই কমে। বিশ্বে প্রতি দশটি মৃত্যুর একটি হয় স্ট্রোকের কারণে। আর পঙ্গুত্বের জন্য ঘরবন্দি হয়ে বাকি জীবন কাটানোর পিছনেও একটিই কারণ, তা হল ব্রেন স্ট্রোক। স্ট্রোকের কবলে পড়ে শয্যশায়ী জীবন কাটানোর এমন ঘটনা প্রায়শই শোনা যায়। ব্রেন স্ট্রোক এমনই মারাত্মক অসুখ। অথচ একটু সচেতন হলেই এই রোগ এড়ানো যায় অনায়াসে। নিয়মিত চেক আপ আর সতর্কতা মেনে রোজকার জীবনযাত্রায় কিছু বদল আনলে আচমকা মারাত্মক স্ট্রোকের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে কাজে লাগাতে পারেন জাপনি পদ্ধতি ‘আশিইউ’। সারা দিনে ২০ মিনিট এই পদ্ধতি মেনে চললে নাকি ব্রেন স্ট্রোক আর হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি অনেকটাই কমে। ‘আশিইউ’ হল পায়ের স্নান। অর্থাৎ পা জলে ডুবিয়ে রাখার পদ্ধতি। এই পদ্ধতি নিয়ম করে অনুসরণ করলে শরীরে রক্ত চলাচলের মাত্রা বাড়ে, মানসিক চাপ কমে, রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিভিন্ন ওয়েলনেস সেন্টারে এমনকি বাড়িতেও ‘আশিইউ’ করেন জাপানিরা। এর জন্য প্রয়োজন ঈষদুষ্ণ জল। জলের তাপমাত্রা হতে হবে ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। সেই জলে মিনিট ২০ পা ডুবিয়ে রাখলে পায়ের স্নায়ু এবং রক্তজালিকাগুলি উদ্দীপিত হয়। রক্ত সঞ্চালনের হার বাড়ে, প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের উপরেও।
বেঁচে থাকার জন্যে প্রতিটি কোষের প্রয়োজন অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্ত। মস্তিষ্কের কোষও তার ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন কারণে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে গেলে বা সেখানে চর্বির স্তর জমে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেনের অভাবে নিস্তেজ হতে হতে অকেজো হয়ে যায়। এই ব্যাপারটাই হল স্ট্রোক। জাপানিরা বিশ্বাস করেন যে, পায়ের তলা শরীরের অন্যান্য অংশের সুস্থতার উপর প্রভাব ফেলে। পায়ে ৭,০০০ এরও বেশি স্নায়ুপ্রান্ত থাকে, যা ‘রিফ্লেক্স’ নামে পরিচিত। এগুলি শরীরের প্রতিটি অঙ্গ এবং সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। এই রিফ্লেক্স পয়েন্টগুলি স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহের হার বৃদ্ধি করে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। জল গরম করে একটি বড় টবে ভরে নিন। জলের তাপমাত্রা যেন ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, সে বিষয় খেয়াল রাখুন। এ বার আরাম করে বসে ১৫-২০ মিনিট জলে পা ডুবিয়ে রাখুন। এই সময় কারও সঙ্গে কথা বলা, ফোন দেখার মতো কোনও কাজ করবেন না। বরং বই পড়তে পারেন, শ্বাসের ব্যায়াম। প্রক্রিয়াটি শেষ করে পা ভাল করে মুছে নিন। কিছু ক্ষণ বিশ্রাম করে তার পর অন্য কাজ।
ফুসফুস ঠিক মতো কাজ করছে কি না জানতে চান? তার জন্য কোনও কঠিন বা জটিল পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই। এ বার তা জেনে নিতে পারেন মাত্র ১ মিনিটে। শ্বাস নিতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না মানেই যে ফুসফুসের স্বাস্থ্য খুবই ভাল আছে, তা নয়। তলে তলে হাঁপানির সমস্যা বাসা বাঁধছে কি না, অথবা চুপিসাড়ে অ্যালার্জি মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না, তা জানতে নানা রকম মেডিক্যাল টেস্ট করানোর নিদান দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু যদি প্রাথমিক ভাবে নিজে থেকেই তা জানার ইচ্ছা হয়, তার উপায় আছে। ঘরে বসে বা অফিসে, অথবা যাতায়াত করার সময়ে এক জায়গায় বসে মাত্র ৬০ সেকেন্ড সময় দিলেই হবে। ওই এক মিনিটেই বোঝা যাবে, ফুসফুসের হাল ঠিক কেমন? কোনও ভয়ের কারণ আছে কি না? ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে চিন্তা বেড়েই চলেছে। আগে মনে করা হত, ধূমপায়ীরাই বুঝি এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু তা নয়। যিনি সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য ছুঁয়েও দেখেননি, তাঁরও হচ্ছে ফুসফুসের ক্যানসার। এর জন্য অনেকটাই দায়ী দূষণ। বাতাসে ধোঁয়া-ধুলো ও দূষিত গ্যাসের মাত্রা যত বাড়ছে, ততই ফুসফুসের নানা রকম সংক্রমণ জনিত রোগ বাসা বাঁধছে। কেউ ভুগছেন হাঁপানিতে, কারও সিওপিডি, তো কারও ফুসফুসে নীরবে বাসা বাঁধছে মারণরোগ। এর থেকে রেহাই পেতে হলে সতর্ক থাকতেই হবে। ফুসফুসের হাল কেমন, তা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। আবার দূষণের প্রকোপ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাও যাবে না। তাই এক মিনিটের ওই পরীক্ষার উপরে ভরসা রাখতে পারেন। যদি বোঝা যায়, যে ভয়ের কারণ সত্যিই আছে, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করবেন না। পরীক্ষাটি করার সময়েই কিছু পরিবর্তন লক্ষ করবেন। সাধারণত শ্বাস টেনেই তা ছেড়ে দেওয়া হয়। তাই সেখানে কোনও বদল আলাদা করে বোঝা যায় না। যখন শ্বাস খুব ধীরে ধীরে সময় নিয়ে টানবেন, তখন যদি দেখেন শ্বাস টানার সময়ে নাক বন্ধ হয়ে আসছে, হাঁচি আসছে বা বুকে চাপ লাগছে, তা হলে বুঝতে হবে, ফুসফুস খারাপের দিকে যাচ্ছে। শ্বাস ধরে রাখার ওই ৬০ সেকেন্ড সময়টাতে। টানা ১ মিনিট ধরে শ্বাস যদি ধরে রাখতে পারেন, তা হলে বুঝতে হবে, ফুসফুসের তেমন কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যদি দেখা যায়, শ্বাস ধরে রাখার সময়ে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, বুকে চাপ চাপ ব্যথা লাগছে, ক্রমাগত কাশি আসছে অথবা নাক-গলা দিয়ে শ্লেষ্মা উঠে আসছে, তা হলে বুঝতে হবে, হাঁপানির সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছে। ফুসফুসে ব্লকেজও রয়েছে। শ্বাস ছাড়ার সময়েও যদি দেখা যায় সমস্যা হচ্ছে, নাক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তা হলেও বিষয়টি চিন্তার। সে ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।




