গুয়াহাটি টেস্টে হারের মুখে ভারত। ভাল ব্যাটিং পিচে ভুল শট বাছাইয়ের খেসারত দিতে হয়েছে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটারদের। গুয়াহাটি টেস্টে চালকের আসনে দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় দিনের শেষে ৩১৪ রানে এগিয়ে রয়েছেন টেম্বা বাভুমারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ উইকেটই তাঁদের হাতে রয়েছে। নিশ্চিত ভাবেই চতুর্থ ইনিংসে বড় রান তাড়া করতে হবে ঋষভ পন্থদের। সফল না হলে লজ্জায় পড়তে হবে ভারতকে। অন্য দিকে, ইতিহাস তৈরি করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ়ে এখনও পর্যন্ত দু’বার চুনকাম হয়েছে ভারতীয় দল। অর্থাৎ, সিরিজ়ের সব টেস্ট হেরে গিয়েছে ভারত। তৃতীয় বার তেমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার চলতি টেস্ট সিরিজ়ে। ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম টেস্ট হারায় দু’ম্যাচের সিরিজ়ে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে গৌতম গম্ভীরের দল। গুয়াহাটি টেস্টেও কোণঠাসা পন্থেরা। এই ম্যাচ হারলে সিরিজ়ের দু’টি টেস্টই হারবে ভারত। অর্থাৎ, ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকাম হতে হবে। ভারতের মাটিতে ভারতীয় দলকে প্রথম বার চুনকাম করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকাই। ১৯৯৯-২০০০ মরসুমে সচিন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন দল দু’টেস্টের সিরিজ় হেরেছিল ০-২ ব্যবধানে। দ্বিতীয় বার এমন হয়েছে গত বছর। নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে ০-৩ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ় হেরেছিলেন রোহিত শর্মারা। নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়েও ভারতীয় দলের কোচ ছিলেন গম্ভীর। এ ছাড়া ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডের কাছে ‘গোল্ডেন জুবিলি’ টেস্ট হেরেছিল ভারত। তবে সে বার একটি মাত্র টেস্ট হওয়ায় সিরিজ় হিসাবে ধরা হয় না। গুয়াহাটিতে হারলে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ়ে তৃতীয় বার চুনকাম হবে ভারতীয় দল। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে ভারতের মাটিতেই চুনকাম করার নজির গড়বে। ভারতীয় দলের সঙ্গে লজ্জায় পড়বেন কোচ গম্ভীরও। কারণ তাঁর জমানাতেই ভারতকে ঘরের মাঠে দু’বার চুনকাম হওয়ার লজ্জায় পড়তে হবে।
শর্ট বল কাজে লাগিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ গুঁড়িয়ে দেন মার্কো জ্যানসেন। প্রোটিয়া পেসারের দাপটে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ৭ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ছিল ১৭৪। অথচ শুরুটা ভাল করে ভারত। ৬৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু যশস্বী জয়েসওয়াল আউট হওয়ার পরই পতনের শুরু। মাত্র ২৭ রানে পরের ৬ উইকেট হারায় ভারত। দ্বিতীয় সেশনে আধ ঘণ্টার মধ্যে সাত উইকেট। দলের বিপদের সময় ঋষভ পন্থের আউট আরও বিপর্যয় ডেকে আনে। পেসারদের ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে শট মারার প্রবণতা রয়েছে ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটারের। পরিকল্পনা মাফিক পন্থকে আউট করেন জ্যানসেন। সেই ফাঁদেই পা দেন ভারতের অস্থায়ী অধিনায়ক। উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন। পন্থের আউট হওয়ার এই ধরন মানতে পারেননি অনিল কুম্বলে এবং ডেল স্টেইন। তাঁর তুলোধোনা করেন। কুম্বলে বলেন, ‘এখনকার ব্যাটাররা বলবে, এটাই ওদের স্বাভাবিক খেলা। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়। যতক্ষণ ঋষভ পন্থ ক্রিজে থাকবে, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা শান্তিতে থাকবে না। এটা ওর বোঝা উচিত ছিল। ওরা জানে, এক মুহূর্তে ওদের থেকে ম্যাচ কেড়ে নিতে পারে পন্থ। দশ বল খেলার পর তুমি এমন কখনই করতে পারো না।’ কুম্বলেকে সমর্থন স্টেইনের। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রোটিয়া তারকা লেখেন, ‘এটা কলকাতার পিচের মতো ছিল না। ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিল। শুধু একটু টিকে থাকতে হত। লুজ বল পেতো। এমন নয় যে মার্কো জ্যানসেন টানা ২০ ওভার বল করবে। এক স্পেল বল করত। টিকে থাকতে হত। এটা টেস্ট ক্রিকেট। সেশনের পর সেশন ধরে ব্যাট করতে হত। এইধরনের পিচে লম্বা সময় ধরে ব্যাট করতে হয়। এক ওভারে টেস্ট জেতা যায় না।’ ভারতকে আরও লজ্জার হাত থেকে বাঁচায় ওয়াশিংটন সুন্দর এবং কুলদীপ যাদবের পার্টনারশিপ। তবে ০-২ এ সিরিজ হার সময়ের অপেক্ষা।




