বিশ্বকাপ জেতা অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরকে ডি-লিট সম্মানে সম্মানিত করতে চলেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভারতীয় মহিলা অধিনায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেখানেই তাঁকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হবে। প্রথমে যাদবপুরের তরফে মৌখিক ভাবে সম্মতি জানানো হয়েছিল। কিন্তু এবার শীঘ্রই সরকারিভাবে ঘোষণা হতে চলেছে হরমনকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়ার কথা। হরমনপ্রীতকে ডি-লিট দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর পরিকল্পনা চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাশাপাশি, যাদবপুরের আচার্য সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। রাজভবনের তরফেও মিলে গিয়েছে গ্রিন সিগনাল। গত ২৩ নভেম্বর স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। দায়িত্ব গ্রহণের পরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ককে ডি-লিট উপাধি দেওয়া দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনাকে মাথায় রেখেই বুধবার রাজভবনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপাল প্রস্তাবে সম্মতি তো জানিয়েইছেন, পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠকেও আলোচনার করার অনুমতি দিয়েছেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুধু একা হরমনপ্রীত নন, সম্মান জানানোর কথা রয়েছে আরও কয়েকজন বিশিষ্টজনকে।
সেই তালিকায় রয়েছেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ এবং ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিইও শিবকুমার কল্যাণরামন। প্রস্তাবেও রাজভবনের থেকে মিলেছে গ্রিন সিগনাল পাওয়া গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘হরমনপ্রীত কৌরকে সম্মান জানানোটা আনন্দের হবে। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তিনি না এলে ডিআরডিও চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’ বিশ্বজয়ের পরে তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে হরমনপ্রীত বার্তা দিয়েছিলেন স্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে নেই। স্বপ্নের পিছনে ধাওয়া করতে হয়।। তিনি বলেন, ”ছোটবেলায় বাবার কিট ব্যাগ থেকে নিজের হাতে তুলেছিলেন ক্রিকেট ব্যাট। সেই ব্যাটের ওজন ছিল বেশি।”ভারত অধিনায়ক ফিরে যান পুরনো দিনে। স্মৃতির পাতা উলটে তিনি বলে চলেন, ”একদিন আমার বাবা তাঁর ব্যাটটা কেটে নিয়ে এসেছিলেন আমার জন্য। সেই ব্যাট দিয়ে আমি খেলতাম। টিভিতে যখনই কোনও ম্যাচ বা ভারতের খেলা বা বিশ্বকাপ দেখতাম, তখনই মনে হত এরকম একটা সুযোগ যেন আমি পাই।” সেই সময়ে মহিলাদের ক্রিকেটের ব্যাপারে বিন্দুবিসর্গ জানতেন না হরমনপ্রীত। নীল রংয়ের জার্সি পরে কবে খেলতে নামবেন, সেই স্বপ্ন দেখতেন হরমনপ্রীত। মহিলাদের ক্রিকেট সম্পর্কে বিন্দুবিসর্গ না জানা এক তরুণী ভারতের মহিলা ক্রিকেটের ছবিটা বদলাতে চেয়েছিলেন। এই রবিবারের পরে সেই তরুণীর স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আর তার পরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহ জুগিয়ে হরমনপ্রীত বলছেন, ”এটাই প্রমাণ করে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে নেই কোনও সময়েই। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। সেটাই সফল হয়েছে।”




