“তৃণমূল আসার পর এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছে। এ কথা শুনে অনেকেই ভাবতে পারেন, আমি হয়তো অন্য দল করতাম। একেবারই না। আমি কোনও দিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।” কথাগুলো বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল একসময়ের পরিচিত ভিলেনের। বর্তমান শাসকদের কাছে আজ তিনি সত্যিই ভিলেন? অভিনেতা সুরজিৎ সেন টলিপাড়ার দুঁদে অভিনেতা হিসাবেই পরিচিত। অনেক দিন তাঁকে বড়পর্দায় দেখেনি দর্শক। কী ভাবে সংসার চালাচ্ছেন তিনি? ‘হিরোগিরি’, ‘রংবাজ’, ‘চ্যালেঞ্জ ২’, ‘বিন্দাস’-সহ তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একগুচ্ছ ছবি। দুঁদে খলনায়ক হিসাবে এক সময় টলিপাড়ায় পরিচিত ছিলেন অভিনেতা সুরজিৎ সেন। কিন্তু পাঁচ বছর হল তাঁকে দেখা যায় না পর্দায়। সম্প্রতি অভিনেতার বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন তাঁর স্ত্রী। তার পরে আবার চর্চায় অভিনেতা। ব্যারাকপুরের বাসিন্দা অভিনেতা সুরজিৎ। পাঁচ বছর হল অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। এখন কী ভাবে দিন চলে তাঁর? সুরজিৎ বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে ২০২০ অবধি অভিনয় করে মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পেরেছি। তা হলেই বুঝুন কী অবস্থা!” ব্যারাকপুরে মুদির দোকান খুলেছেন অভিনেতা। আপাতত সেই দোকান থেকেই তাঁর সংসার চলে। পরিবারে রয়েছেন মা-বাবা। স্ত্রীর প্রসঙ্গে কথা উঠতেই তা এড়িয়ে গেলেন সুরজিৎ। বলেন, “আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।” খলনায়ক জানিয়েছেন, ব্যারাকপুরে মূলত আইসক্রিম, নরম পানীয়র ব্যবসা তাঁর। অভিনেতা বলেন, “তৃণমূল আসার পর এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছে। এ কথা শুনে অনেকেই ভাবতে পারেন, আমি হয়তো অন্য দল করতাম। একেবারই না। আমি কোনও দিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।” আবার অভিনয়ে ফেরার স্বপ্নও দেখেন না সুরজিৎ। নিজের ব্যবসাতেই মন দেবেন।
ওয়েব প্ল্যাটফর্মের সিরিজ়ে সেন্সরশিপের বালাই নেই। অথচ পথনাটিকা-সহ নাটকের বিভিন্ন বিভাগে পুলিশের নীতিপুলিশি অবাধ! প্রতিবাদ জানিয়ে ২০১৬-য় বম্বে হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন পরিচালক-অভিনেতা অমল পালেকর। খবর, ৯ বছর পরে উচ্চ আদালত বর্ষীয়ান অভিনেতার আবেদনে সাড়া দিয়েছে। অমলের আইনজীবী অনিল আন্তুরকর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিচারপতি রিয়াজ ছাগলা এবং ফারহান দুবাশের একটি বেঞ্চ ৫ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছে। আদালতের উদ্দেশে আইনজীবীর আবেদন, “আবেদনকারীর বয়স এখন ৮৫। আবেদনের ফলাফল ইতিবাচক বা নেতিবাচক যা-ই হোক না কেন, তিনি জানতে চান।” প্রসঙ্গত, প্রায় এক দশক আগে ‘শিল্পের স্বাধীনতা রক্ষা’ এবং বিভিন্ন ধারার নাটকে বাধ্যতামূলক প্রাক-সেন্সরশিপকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন অমল। অমলের আবেদন প্রসঙ্গে আইনজীবীর আরও বক্তব্য, বম্বে পুলিশের আইনে, নাটক এবং অভিনয়ের উপর পুলিশের প্রাক-সেন্সরশিপ আরোপের ক্ষমতা বা অধিকার আছে কি না, সেটাই আদালতের কাছে জানতে চান তাঁর বর্ষীয়ান মক্কেল। কথাপ্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ দেন ওয়েব প্ল্যাটফর্মগুলির। সেখানে প্রদর্শিত সিরিজ়গুলির কোনও সেন্সরশিপ নেই— এ কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, বম্বে পুলিশ আইনের ধারা ৩৩ (১) অনুযায়ী, মেলা বা পথে অনুষ্ঠিত নাটিকা বা নাটক প্রদর্শনে নিয়ন্ত্রণ জারি করতে পারে প্রশাসন। অমলের এখানেই আপত্তি। তিনি আবেদনে লিখেছেন, “এই ধরনের প্রাক সেন্সরশিপ একটি অসাংবিধানিক বিধিনিষেধ। এই ধরনের আইন শিল্পের স্বাধীনতাকেই খর্ব করে।” তাঁর আক্ষেপ, এই নিয়মের গেরোয় ফেঁসে অনেক ঐতিহাসিক নাটক মঞ্চস্থ করা সম্ভব হয়নি।





