মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপেক্ষায় মহমেডান কর্তারা। আশা, তাঁদের ডাকবেন। নইলে বিকল্প ভাবনা ভেবে রেখেছে ক্লাব। আর্থিক সমস্যার সমাধান তো দূর অস্ত! সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে মহমেডানের। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যা না মিটলে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে ক্লাবের ট্রাস্টি বোর্ড। খুব বেশি অপেক্ষা করতে চাইছে না ক্লাব। আর্থিক সমস্যার কথা জানাতে গত রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন মহমেডান ক্লাবের কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী তখন উত্তরবঙ্গে সফরে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির লাগোয়া দফতরে মহমেডান কর্তারা একটি চিঠি দিয়ে আসেন। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করছেন কর্তারা। নইলে ‘বিকল্প’ ভাবনাও ভেবে রেখেছে ক্লাব। কোনও ভাবেই আর্থিক সমস্যার সমাধান না হলে ক্লাবের ট্রাস্টি বোর্ড সরাসরি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাহায্য চাইবে। ‘বিকল্প পরিকল্পনা’। মোদী সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, এই আসলে একটি ‘রাজনৈতিক চাপ’। বিধানসভা ভোট আর কয়েক মাস পরেই। ১৩৪ বছরের প্রাচীন তথা দেশের একমাত্র সংখ্যালঘু ক্লাব মহমেডান যদি এই আবহে দিদিকে ছেড়ে মোদীর দ্বারস্থ হয়, তা হলে সংখ্যালঘু মনস্তত্ত্বে তার ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ পড়বে। নিজেদের ‘সংখ্যালঘু ক্লাব’ বলে পরিচয় দেওয়াও তারই অংশ।
মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অর্থাভাবের কারণে এখনও দল গঠন করতে না পারার কথা জানিয়েছিল মহমেডান। ক্লাব সভাপতি আমিরুদ্দিন ববি, সহ-সভাপতি মহম্মদ কামারুদ্দিন এবং সচিব ইশতিয়াক আহমেদের সই করা চিঠিতে লেখা হয়, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন শীঘ্রই ঘরোয়া ফুটবলের সূচি ঘোষণা করবে। মহমেডানকে আইএসএলে খেলার অনুমতি দিচ্ছে না ফেডারেশন। মহমেডানের লক্ষ লক্ষ সমর্থক বর্তমান পরিস্থিতিতে চিন্তিত। এই পরিস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আবেদন করা হয়েছে চিঠিতে। ওই চিঠিতে শিল্পোদ্যোগী সত্যম রায়চৌধুরীর কথাও লেখা হয়েছে। বলা হয়, পাঁচ মাস ধরে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে লাভ হয়নি। ক্লাব সূত্রের দাবি, সত্যমকেই মহমেডানের আর্থিক সমস্যা মেটানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ক্লাব-কর্তাদের একাধিক বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু টাকার অঙ্ক নিয়ে দু’পক্ষের বনিবনা হয়নি। ভারতীয় ফুটবলে মহমেডান ক্লাবের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। এই ক্লাবের বিশাল ইতিহাস এবং ঐতিহ্য আছে। বয়সে মোহনবাগানের থেকে দু’বছরের ছোট, ইস্টবেঙ্গলের থেকে বড়। অথচ, সব কিছুই ওই দু’টি ক্লাবের কথা ভেবে করা হচ্ছে। মহমেডানের কথা কেউ ভাবছে না। সত্যমের পরে মহমেডানের আর্থিক সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। কলকাতার একটি হোটেলে মহমেডান কর্তাদের সঙ্গে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় বার সিএবি-র সভাপতি হওয়া সৌরভের বৈঠক হয়েছিল। তিনি একটি সংস্থাকে বিনিয়োগে রাজিও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু সেই চুক্তিও শেষ পর্যন্ত হয়নি। অতঃপর অথৈ জলে থাকা মহমেডানের পুরো কার্যকরী কমিটিই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। গত মঙ্গলবার ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে সকলে একযোগে ইস্তফাও দিয়ে দেন। কিন্তু সেগুলি গৃহীত হয়নি। সূত্রের খবর, ট্রাস্টি বোর্ড ক্লাব কর্তাদের আরও চার-পাঁচ দিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। আশা, মুখ্যমন্ত্রী সমস্যার সমাধান করবেন। শেষমেশ সমস্যা না মিটলে মোদীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা ‘সংখ্যালঘু’দের ক্লাব মহমেডানের।





