RK NEWZ ৪ মে-র পরে উত্তরপ্রদেশ বা যে রাজ্য থেকে এসেছিলেন, সেখানে পালিয়ে যাবেন! তাঁদের প্রত্যেককে আদালতে টেনে আনা হবে অসাংবিধানিক কাজে মদত দেওয়ার জন্য। দলীয় সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেও গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি বদল করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয়েছিল গৌতমকে। শনিবার তাঁকে নিলম্বিত করে লালবাজার। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি স্টেটাস দিয়ে বিতর্কে জড়ান গৌতম। শুক্রবার রাতে ওই ছবিকে ‘আপত্তিকর’ বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তৃণমূল। লালবাজার সূত্রে খবর, ওই বন্দুককাণ্ডের জেরেই গৌতমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় যে, একটি অত্যাধুনিক বন্দুক হাতে থানায় নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন গৌতম। তার পরনে পুলিশের উর্দি (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। গৌতম নিজেই ফেসবুক এবং হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাসে সেই ছবি পোস্ট করেন বলেও দাবি করে তৃণমূল। শুক্রবার তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ওই ছবিটি পোস্ট করেন। তিনি জানান, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এই বিষয়টি নিয়ে চিঠি লিখে অবগত করা হয়েছে। গৌতমকে নিয়ে বৈঠকে মমতা মন্তব্য করেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। ভিন্রাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, তাঁর নিশানায় রয়েছেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীর ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ দেখা গিয়েছিল ফলতায়। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ওই এলাকা উত্তপ্তও হয়। সেখানে পুনর্নির্বাচনের দাবিও ওঠে। কমিশন অজয়পালের পাশেই দাঁড়িয়েছিল। প্রসঙ্গত, ফলতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। তৃণমূল সূত্রে খবর, শনিবারের বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী মমতা এবং অভিষেক বার্তা দিয়ে জানান, ২০০-র উপরে আসনে জিততে চলেছে তৃণমূল! তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে দলের কর্মীদের উদ্দেশে মমতা-অভিষেক জানান, শেয়ার মার্কেটকে চাঙ্গা করতেই বুথফেরত সমীক্ষাগুলিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁরা এ-ও জানান যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও একই পন্থা নেওয়া হয়েছিল।
যেন নজরদারি শিথিল না-হয়। আগামী ৪ মে, সোমবার যত ক্ষণ না তিনি নিজে সাংবাদিক বৈঠক করছেন, তত ক্ষণ দলের কোনও এজেন্ট যেন গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না বেরিয়ে পড়েন। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক সারলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠকে দলীয় নেতা-কর্মীদের গুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন নেত্রী। তার মধ্যে রয়েছে, গণনাকেন্দ্রে আগেভাগে ঐক্যবদ্ধ ভাবে পৌঁছে যাওয়ার বার্তা। আবার গণনার সময় কোন কোন দিকে নজর রাখতে হবে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। নেত্রী বিশেষ ভাবে যে বিষয়টির উপর জোর দিয়েছেন, সেটা হল ভোটগণনার সময় নজরদারি। তিনি জানিয়েছেন, যে যে বুথে ৫০০-৭০০ বা হাজার ভোটে বিজেপি এগিয়ে যাচ্ছে, চটজলদি সেখানে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। তৃণমূলনেত্রী নিশ্চিত যে, দু’শোর বেশি আসনে জয়ী হবেন তাঁরা। কিন্তু তা বলে গণনার সময় যেন নজরদারি শিথিল না-হয়। আগামী ৪ মে, সোমবার যত ক্ষণ না তিনি নিজে সাংবাদিক বৈঠক করছেন, তত ক্ষণ দলের কোনও এজেন্ট যেন গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না বেরিয়ে পড়েন। বৈঠকে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার কয়েক জন তৃণমূল প্রার্থী জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যে লজ, হোটেল ভাড়া করে ফেলেছেন। রবিবার রাতে সেখানেই থাকবেন। যেখানে গণনাকেন্দ্র গ্রামাঞ্চলে বা তুলনামূলক দূরবর্তী স্থানে, সেখানে যেন আগের রাতে অর্থাৎ রবিবারই পৌঁছে যান প্রার্থী, তাঁর এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্ট। তৃণমূলনেত্রীর নির্দেশ, গণনাকেন্দ্রের কাছাকাছি কোনও জায়গায় হোটেল ভাড়া করে রবিবার রাত কাটিয়ে দিতে হবে। ভোর হওয়ামাত্র হাতমুখ ধুয়ে খাওয়াদাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়তে হবে গণনাকেন্দ্রের উদ্দেশে। সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু। তবে ৬টার মধ্যে যেন কাউন্টিং এজেন্টরা যেন গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যেন এবং তাঁরা যাতে সংঘবদ্ধ ভাবে যান, সেটা নিশ্চিত করতে বলেছেন মমতা। কাউন্টিং এজেন্টদের মমতার পরামর্শ, সঙ্গে নোটবুক বা ডায়েরি এবং কলম রাখতে হবে। ইভিএম খোলার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনমতো সব কিছু যেন লিখে রাখেন।
কালীঘাটের নতুন ওসি হিসাবে চামেলির নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ। তাঁর দাবি, চামেলি একটি মামলায় অভিযুক্ত এবং সেটি এখনও বিচারাধীন। এ অবস্থায় নির্বাচনের সময়ে কী ভাবে চামেলিকে একটি থানার ওসি করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন বিজেপি প্রার্থীর। নতুন ওসির নিয়োগ ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দকে খতিয়ে দেখতে বলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল। কালীঘাট থানার নতুন ওসি হিসাবে চামেলির নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ। তাঁর দাবি, চামেলি একটি মামলায় অভিযুক্ত এবং সেটি এখনও বিচারাধীন। এ অবস্থায় নির্বাচনের সময়ে কী ভাবে চামেলিকে একটি থানার ওসি করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন বিজেপি প্রার্থীর। এ বিষয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মানব। সিইও মনোজ শনিবার রাতে বলেন, “কালীঘাট থানার নতুন ওসি নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তাই কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। ওই ওসির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, তা কমিশনের জানা ছিল না। যদি কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকে, তা হলে ভোটের কাজে থাকতে পারবেন না।” গৌতমকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করে কলকাতা পুলিশ। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার দায়িত্বে আনা হয় চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। এ বার সেই নতুন দায়িত্ব পাওয়া ওসিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিজেপি শিবির।





