Monday, May 4, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বাস করতে পারছিলেন না!‌ রান আউট?‌ যশস্বী নিজেও রিভিউয়ের আবেদন করেননি!‌

বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। রান আউট হওয়ার পর মিনিট খানেক ক্রিজের মধ্যেই মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল। আর এরকম প্রতিক্রিয়া হবে নাই বা কেন। নিশ্চিত দ্বিশতরান হাতছাড়া হল ভারতীয় ওপেনারের। টেস্টের প্রথম দিন যে ছন্দে শুরু করেছিলেন ব্যাটিং এদিনও সেই একই তালে ব্যাট করছিলেন। প্রত্যেকটা বল মিডল করছিলেন। একটা যোগাযোগের ভুলে ফিরতে হল। রান আউট প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলছেন, ”রান আউট খেলারই অংশ। দিনের শুরুতে দলের লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে একটা চিন্তা থাকে। আমি তাড়াতাড়ি মাঠে নামার চেষ্টা করছিলাম। আমি এক ঘন্টা ধরে ব্যাট করার কথা ভাবছিলাম। পরে রান করা সহজ হবে বলে মনে হয়েছিল। উইকেট এখনও বেশ ভাল, আমরা ভাল বোলিং করছি।”ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নয়া দিল্লি টেস্টে দুর্দান্ত ইনিংসের শেষে দুঃস্বপ্নের মতো রান আউটে ফিরতে হল যশস্বী জয়সওয়ালকে। ১৭৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হলেন তিনি। ক্রিকেট মহলের মতে রান আউটটা পুরোপুরি এক ভুল বোঝাবুঝির ফল। উল্টোদিকে ছিলেন ক্যাপ্টেন শুভমান গিল। এক মারাত্মক মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ফল হিসেবে উইকেট দিতে হল যশস্বীকে। ব্যাট করছিলেন জয়সওয়ালই। ক্যারিবিয়ান পেসারের বল তিনি একস্ট্রা কভারে মেরে সোজা দৌড়ান।

কিন্তু গিল বেরিয়ে এসেও তাঁকে বারণ করে দেন। ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। জয়সওয়াল এতটাই বেরিয়ে এসেছিলেন আর সময় মতো ক্রিজে ঢুকতে পারেননি। আউট হয়ে বলার অধিনায়ককে বলার চেষ্টা করেন যে কলটা তাঁর ছিল। শুভমান গিল বলার চেষ্টা করেন যে রানটা ছিল না, ফিল্ডারের হাতে বল ছিল। শেষে দু’জনই একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলেন অবিশ্বাস আর হতাশায় ভরা চোখে। কিন্তু দোষটা কার? অনিল কুম্বলে বলছেন, এটা জয়সওয়ালেরই দোষ। ও নন-স্ট্রাইকার এন্ডেও যেতে পারত না কারণ বলটি সরাসরি মিড-অফে ফিল্ডারের দিকে চলে গিয়েছিল। একেবারেই কোনও সুযোগ ছিল না। একমাত্র সন্দেহ ছিল যে বলটি বেইল খুলে যাওয়ার সময় কিপারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল কিনা। কিন্তু আম্পায়ার থার্ড আম্পায়ারের কাছেও পাঠানি এবং এটি আমার কাছে কিছুটা অবাক করার মতো ছিল।” ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ওপেনার ড্যারেন গঙ্গা অন্যরকম মনে করেন, ”একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে, মাঝে মাঝে শট খেলার পর নড়াচড়া করেন, তখন আপনার মনে হয় আপনি এটা করতে পারবেন। জয়সওয়ালের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। ও অনুভব করেছিল যে ও অন্য প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারবে। কিন্তু রিপ্লেতে দেখার পর মনে হয় ৫০-৫০। এই ঝুঁকিটা নেওয়া উচিত হয়নি, বিশেষ করে নতুন দিনের শুরুতে সেট হয়ে থাকার পর।”

শুভমন গিলের ভুলে দ্বিশতরান হাতছাড়া হল যশস্বী জয়সওয়ালের। তা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষও প্রকাশ করলেন যশস্বী। তবে যশস্বীকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের উইকেটরক্ষক টেভিন ইমলাচ ঠিক মতো আউট করে পেরেছেন কিনা, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। শনিবার দিনের দ্বিতীয় ওভারে বোলার জেডন সিলসের ফুল লেংথের বল মিড অফে ড্রাইভ করেন। দ্রুত এক রান নেওয়ার জন্য শুভমনকে ডাকেন। যশস্বী নিজে দৌড়ে পিচের অর্ধেক চলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু ২২ গজের অপর প্রান্তে থাকা শুভমন কিছুটা এগিয়েও সতীর্থকে রান নিয়ে বারন করেন। কারণ ফিল্ডার তেজনারাইন চন্দ্রপল দ্রুত বল ধরে উইকেটরক্ষককে ছুড়ে দেন। মাঝ পিচ থেকে ক্রিজ়ে পৌঁছোতে পারেননি যশস্বী। ইমলাচ বল হাতে নিয়ে উইকেট ভেঙে দেন। তখনও ক্রিজ়ের তিন-চার ফুট বাইরে ছিলেন যশস্বী। স্বাভাবিক ভাবেই লেগ আম্পায়ার তাঁকে আউট ঘোষণা করেন। আউট হয়ে হতাশায় মাথা নাড়াতে থাকেন যশস্বী। ২২ গজের অন্য প্রান্ত থেকে শুভমনকে কিছু বলতে দেখা যায়। আউট হওয়ার পরও শুভমনের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথা বলেন যশস্বী। বলা যায় সামান্য বাদানুবাদ হয় দুই ব্যাটারের। সে সময় দু’জনকেই অসন্তুষ্ট দেখিয়েছে। খুচরো রান নেওয়ার ডাক যশস্বীরই ছিল। তাও শুভমন কেন তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে দৌড়লেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ যাই হোক সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝিতে দ্বিশতরান হাতছাড়া হয়েছে যশস্বীর। ১৭৫ রান করে ফিরে যেতে হয়েছে তাঁকে। যশস্বীর রান আউট নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গিয়েছে, উইকেট ভাঙার ঠিক আগে ইমলাচের দস্তানা থেকে বল প্রায় বেরিয়ে গিয়েছিল। উইকেট ভাঙার সময় তাঁর দস্তানার সঙ্গে বলের সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মাঠের আম্পায়ারেরা সিদ্ধান্ত তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠাননি। দ্রুত ক্রিজ়ে ফেরার সময় যশস্বী নিজেও সম্ভবত বিষয়টি নজরে রাখতে পারেননি। তাই তিনিই রিভিউয়ের আবেদন করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles