Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সৌরভের তত্ত্বাবধানে বাংলা ক্রিকেট নতুন পথে!‌ সিএবিতে বৈঠক নতুন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের

অনির্বাণ গাঙ্গুলী :‌ সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সিএবির সভাপতি দায়িত্ব নিয়েই বৈঠক সৌরভের। আগামী মরসুমের রূপরেখা তৈরি করতে কোচদের ডাক। প্রশাসনিক বৈঠকও সারলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সদ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের জন্য সিএবির মসনদে বসেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। পুজোর আবহেও সিএবি-‌তে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী। প্রথমেই তিনি আলোচনা করেন বাংলার তিন কোচের সঙ্গে। ছিলেন সিনিয়র দলের হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা, অনূর্ধ্ব-‌২৩ দলের হেড কোচ ঋদ্ধিমান সাহা, অনূর্ধ্ব-‌১৯ দলের হেড কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী। এই বৈঠকে মূলত আগামী মরসুমে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি, সুযোগ-‌সুবিধা এবং নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শুধুমাত্র পুরুষ ক্রিকেটই নয়, বাংলার মহিলা ক্রিকেট নিয়েও আলোচনা চলল। দুই ক্রিকেট নিয়েই সৌরভের সমান গুরুত্ব দেখা গেল। উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি ঝুলন গোস্বামী, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার রুমেলি ধর ও গার্গী ব্যানার্জি। মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি ও পরিকল্পনা নিয়ে সিএবি সভাপতি তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। এরপর শুরু হয় প্রশাসনিক স্তরের ম্যারাথন বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন সিএবির–এর সব প্রধান পদাধিকারী। বৈঠকে ছিলেন সচিব বাবলু কোলে, যুগ্ম সম্পাদক মদন ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস, সহ-‌সভাপতি নিতীশ রঞ্জন দত্ত। এই দীর্ঘ বৈঠকে উঠে আসে আসন্ন মরসুমে নতুন নিয়ম শুরু করার পরিকল্পনার বিষয়। সিএবি চাইছে শুধু ম্যাচ আয়োজন নয়, ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকাশের জন্য আধুনিক ও কঠোর কাঠামো গড়ে তুলতে।

‌সিএবি মসনদে বসেই কাজ শুরু করে দিলেন মহারাজ!‌ আবার সিএবি-র গুরুদায়িত্ব। দর্শকাসন বৃদ্ধির ভাবনা রয়েছে প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের। আবার একলাখি ইডেন গার্ডেন দেখতে চলেছে কলকাতা। সিএবির ৯৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সৌরভ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি সিএবির সভাপতি ছিলেন। ছয় বছর পর দ্বিতীয় বার বঙ্গে ক্রিকেটের প্রশাসনে ফিরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন। সৌরভ জানিয়েছিলেন, ‘‘এই কাজ আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরেই হবে। কারণ, এটা সময়সাপেক্ষ। লিজের নবীকরণ হয়েছে। আমি আসলে এটা নিয়ে ভাবিনি। হাতে এখনও দু’মাস সময় আছে। একটা ভাল টেস্ট ম্যাচ হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এটা নিয়ে ভাবব। সব কিছুই রয়েছে— ভাল পিচ, ভাল দর্শক, পরিকাঠামো সবই আছে। এছাড়াও রাজ্য ইউনিট এবং জেলা অ্যাসোসিয়েশনগুলির অনুদান ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ কোটি টাকা করা হল।’’ ইডেনে প্রথমে এক লাখের উপর দর্শকাসন ছিল। কিন্তু দর্শকদের বসতে যাতে অসুবিধা না হয়, সেই কারণে ২০১১ বিশ্বকাপের আগে গ্যালারির সংস্কার হয়। তখন দর্শকাসন কমে ৬৮ হাজার হয়ে যায়। সৌরভের সামনে প্রথম বড় ইভেন্ট নভেম্বরে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা। ১৪ নভেম্বর থেকে ইডেনের সেই ম্যাচ নিয়ে অবশ্য এখনই কিছু ভাবেননি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঐতিহাসিক দিন-রাতের গোলাপি বলের টেস্টের পর এই প্রথম ইডেনে টেস্ট হবে। সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল বা অন্য কোনও বড় ম্যাচ ইডেনে হওয়া প্রসঙ্গে সৌরভ বলেছিলেন, ‘‘বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব। ওখানেও নতুন সদস্য। আমি নতুন বিসিসিআই সভাপতিকে শুভকামনা জানাই। এটা ক্রিকেট খেলার চেয়ে আলাদা হবে। আমি নিশ্চিত যে ও ভাল করবে। শুধু মিঠুন (মনহাস) নন, রঘুরাম ভাট-সহ অনেক নতুন কর্মকর্তা রয়েছেন বোর্ডে। এটা ক্রিকেট খেলার চেয়ে কঠিন হবে। আমি নিশ্চিত ও ভাল করবে।’’ বাংলার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং ডুমুরজলায় একটি নতুন অত্যাধুনিক একাডেমি চালু করার উপর জোর দেওয়া প্রসঙ্গে সৌরভ বলেছিলেন, ‘‘নয় একর জমির উপর ডুমুরজলা একাডেমি হবে। এটি কল্যাণী একাডেমির মতো হবে। এতে ফ্লাডলাইট এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। আমরা এমন ক্রিকেটার তৈরি করতে চাই যারা অলিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।’’ সিএবি সভাপতি পদে নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অভিষেকের লড়াই ছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বঙ্গের ক্রিকেট প্রশাসনে কোনও নির্বাচন হয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সৌরভ দ্বিতীয় বারের জন্য সিএবি-র মসনদে বসার পরই সিদ্ধহস্তে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles