চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট। দলীপ ট্রফি দিয়ে শুরু হবে মরসুম। তার আগে একাধিক নতুন নিয়মের কথা প্রকাশ্যে আনল বোর্ড। দলীপ ট্রফি যে আঞ্চলিক ফরম্যাটে ফিরছে তা আগেই জানানো হয়েছিল। এ বার জানানো হয়েছে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি এবং বিজয় হজারে ট্রফিতে বদলের খবরও।
দলীপ ট্রফি দিয়ে মরসুম শুরু হবে। শেষ হবে মহিলাদের আন্তঃআঞ্চলিক ট্রফি দিয়ে। পরের বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ঘরোয়া ক্রিকেটের মরসুম। কী কী বদল আসছে ঘরোয়া ক্রিকেটে?
১) পুরুষদের দলীপ ট্রফি এবং মহিলাদের চ্যালেঞ্জার প্রতিযোগিতা এ বার থেকে হবে আঞ্চলিক। ছ’টা আঞ্চলিক দল গড়া হবে।
২) এ বার থেকে এলিট গ্রুপ থেকে একটাই দলের অবনমন হবে। প্লেট গ্রুপ থেকে এলিটে উঠতে পারবে একটা দল।
৩) সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে এ বার থেকে সুপার লিগ খেলা হবে। নকআউট থাকছে না।
৪) বিজয় হজারে, মহিলাদের একদিনের ট্রফি, পুরুষদের অনূর্ধ্ব-২৩ ট্রফিতে চারটে এলিট গ্রুপ এবং একটা প্লেট গ্রুপ থাকবে। বাকি জুনিয়র এবং মহিলাদের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় পাঁচটা এলিট এবং একটা প্লেট গ্রুপের মডেল অনুসরণ করা হবে।
ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল যখন দলীপ ট্রফি খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখন অনেকেই চমকে যান। সদ্য পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলে ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পরও বিশ্রাম না নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলবেন। ভারত অধিনায়কের সেই সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হয়েছিল ক্রিকেট মহলে। এবার গিলের দেখানো পথে সম্ভবত হাঁটতে হবে অন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও। অন্তত বিসিসিআই তেমনটাই চাইছে। বিসিসিআই চাইছে, জাতীয় দলের খেলা তারকারাও খেলুন দলীপ ট্রফিতে। বিসিসিআইয়ের তরফে ডিরেক্টর অফ জেনারেল অপারেশনস আবে কুরুভিল্লা রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এবং জোনাল কো অর্ডিনেটরদের চিঠি লিখে জানিয়েছেন, দলীপ ট্রফির ঐতিহ্য এবং সম্মানের কথা মাথায় রেখে সম্ভাব্য সেরা দল খেলানো উচিত সব সংস্থারই। জাতীয় দলের যে তারকারা উপলব্ধ, তাঁদের প্রত্যেককে দলে নিতে হবে। কুরুভিল্লার ওই চিঠি মূলত সাউথ জোনের উদ্দেশে লেখা। কারণ অন্যান্য জনের দলে কমবেশি জাতীয় দলের তারকারা থাকলেও সাউথ জোন সদ্য টেস্ট সিরিজ খেলে আসা কোনও ক্রিকেটারকেই দলে রাখেনি তারা। কেএল রাহুল, মহম্মদ সিরাজদের মতো প্রথম সারির তারকাদের তো রাখা হয়ইনি। সাই সুদর্শন, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, ওয়াশিংটন সুন্দরদেরও দক্ষিণাঞ্চলের দলে রাখা হয়নি। বদলে যারা নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন তাদের নাম রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের দলে। বোর্ডের এই ‘নির্দেশে’র পরও অবশ্য দক্ষিণাঞ্চলের দলে রাহুলদের রাখা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলি বলছে, এভাবে দলীপ ট্রফির দলে জাতীয় দলের তারকাদের নেওয়া হলে যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো খেলছে তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়। তাছাড়া জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য অনুশীলন করানোর প্রয়োজন পড়ে তাহলে তাদের ভারতের এ দল বা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশে খেলানো যেতে পারে।
দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সইয়ের পর আইনে রূপান্তরিত হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া বিল। যারপর প্রশ্ন উঠছে, আগামী সেপ্টেম্বরে ধার্য নির্বাচন নিয়ে কী করবে ভারতীয় বোর্ড? কোন আইনে তারা নির্বাচন সম্পন্ন করবে? লোধা আইন অনুসারে আপাতত নির্বাচন হবে নাকি ক্রীড়া আইনের নিয়ম কানুন এলে সেই মতো ভোট হবে? তবে ক্রীড়ামন্ত্রক চাইছে, ক্রীড়া আইন মেনে বোর্ড নির্বাচন হোক। আসলে ক্রীড়া বিল আইনে পরিণত হলেও নিয়ম কী হবে, সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তার মধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রকের এক সূত্র মারফত জানা গেল, সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোর্ড নির্বাচন চাইছে তারা। মন্ত্রক চায় সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়ম নির্দিষ্ট হয়ে গেলে ক্রীড়া আইন অনুযায়ীই নির্বাচন করুক বোর্ড। একান্ত তা না হলে আপাতত লোধা আইনে নির্বাচন করা যেতে পারে। কিন্তু ক্রীড়া আইনের নিয়ম ঠিক হয়ে গেলে তখন ফের নির্বাচন করতে হবে। যারপর অনেকে মনে করছেন, বোর্ড নির্বাচন হয়তো পিছিয়েই যাবে। নিয়মমাফিক তিন মাস নির্বাচন পিছনো যেতে পারে। বোর্ডমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল, আপাতত লোধা আইন অনুযায়ী নির্বাচন করার দিকে ঝুঁকে রয়েছে বোর্ড। তবে মন্ত্রকের সঙ্গেও সমান্তরাল ভাবে কথা চালাচ্ছেন বোর্ড কর্তারা। যদি মন্ত্রকের থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে যায় বোর্ড, তা হলে লোধা আইনেই নির্বাচন সম্পন্ন করে ফেলবে। পরে ক্রীড়া বিল আইন হিসেবে প্রয়োগ হলে তখন আবার নির্বাচন হবে। তবে মন্ত্রক যদি অপেক্ষা করতে বলে, তা হলে সব সমীকরণ আবার বদলে যাবে। তবে বৃহস্পতিবার মন্ত্রক জানিয়েছে, নতুন আইনেই নির্বাচন করুক বিসিসিআই। ফলে সেপ্টেম্বরের নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে, এমন সম্ভাবনা প্রবল।




