Thursday, July 23, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখলেই স্ট্রোক আর ডিমেনশিয়া থেকে মুক্তি!‌ শরীর থেকে কোলেস্টেরল দূর করতে কিছু প্রয়োজনীয় খাবার?‌

স্ট্রোক মানেই আতঙ্ক। পরিণতি চরম। মুহূর্তের মধ্যে মানুষ পক্ষাঘাতে পঙ্গু। প্রাণঘাতী সমস্যা। আগে যেখানে স্ট্রোককে বয়স্কদের রোগ হিসেবে ভাবা হতো, আজ তা ভেঙে দিচ্ছে সেই ধারণা। চিকিৎসকদের মতে, তরুণ প্রজন্মও এখন এই বিপদের মুখোমুখি। শুধু স্ট্রোক নয়, বাড়ছে ডিমেনশিয়ার মতো স্নায়বিক সমস্যার আশঙ্কাও। এক নিউরোসার্জন জানান, ভারতের মস্তিষ্ক-সংক্রান্ত রোগের পরিসংখ্যান দিন দিন উদ্বেগজনক হচ্ছে। দেশে প্রতি বছর গড়ে ১৮ লক্ষ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন, যাদের অনেকেই চল্লিশোর্ধ্ব না-ও। ডিমেনশিয়ার প্রভাবও ধীরে ধীরে ছড়াচ্ছে অপেক্ষাকৃত কমবয়সিদের মধ্যেও। এর জন্য দায়ী জীবনযাত্রার অনিয়ম, মানসিক চাপ এবং শরীরে বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে কিছু অভ্যাস এবং সঠিক পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমেই অনেকাংশে স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ডাঃ নায়েক জানিয়েছেন এমন পাঁচটি কার্যকর উপায়, যা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখবে দীর্ঘদিন। ভিটামিন বি১২-এর গুরুত্ব। স্মৃতিশক্তি, স্নায়ুর কাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এই ভিটামিন অপরিহার্য। এর অভাবে ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এমনকি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমিষভোজীরা মাছ, মাংস, ডিমে এই চাহিদা পূরণ করতে পারেন। নিরামিষাশীদের জন্য আছে দুধজাত খাবার, গোটা শস্য এবং পরিপূরক সাপ্লিমেন্ট। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্নায়ুর স্বাস্থ্য রক্ষায় ওমেগা-৩ একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি মস্তিষ্কের প্রদাহ কমিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়ায়। চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিয়া বীজ, তিসির বীজ, আখরোট ও তিসির তেলেও এই উপাদান থাকে। ভিটামিন ডির অভাবেই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। সকালবেলা সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ থাকলে শরীর ভিটামিন ডি তৈরি করে। পাশাপাশি ডিমের কুসুম, মাশরুম ও ফোর্টিফাইড দুধ থেকেও মেলে প্রয়োজনীয় ডোজ। ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রেস কমানো ও স্নায়ুর সুরক্ষায় ম্যাগনেসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পালং শাক, বাদাম, কুমড়োর বীজ, গোটা শস্যের মাধ্যমে এই খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহে আয়রনের গুরুত্ব অপরিসীম। ঘাটতি হলে মনোযোগের অভাব, ক্লান্তি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি দেখা যায়। মহিলাদের মধ্যে এই ঘাটতির প্রবণতা বেশি। মাংস ছাড়াও ডাল, শাকসবজি এবং সিরিয়াল থেকেও আয়রন পাওয়া যায়। মস্তিষ্ককে অগ্রাধিকার দিন। শারীরিক অসুখের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, স্মৃতিশক্তি এবং স্নায়বিক সুস্থতাও নজরে রাখুন। সঠিক খাওয়াদাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপনই হতে পারে দীর্ঘজীবী, সুস্থ মস্তিষ্কের চাবিকাঠি।

মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সর্বক্ষণ অত্যন্ত ক্ষীণ আলোকসঙ্কেত নির্গত হয়। মাথার খুলি ভেদ করে ঠিকরে বেরোয় সেই ‘আলো’। গবেষকরা বলছেন, এই আলো অতি দুর্বল হওয়ায় খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্ধকারে যন্ত্রের সাহায্যে এই আলোকসঙ্কেত রেকর্ড করা যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, মানসিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গে আলোর প্রাবল্যেরও তারতম্য হতে থাকে। চোখ বন্ধ করা, আচমকা কোনও শব্দ শোনা— প্রতিটি কাজের সময় নির্গত আলোর পরিমাণ আলাদা আলাদা। ফলে এই আলোকে ভাল করে খতিয়ে দেখলে মস্তিষ্কের অন্দরের কার্যকলাপ সম্পর্কেও নানা অজানা তথ্য মিলতে পারে। খুলে যেতে পারে মস্তিষ্ক সম্পর্কে গবেষণার একটি নতুন দরজাও— যার নাম ‘ফটোএনসেফালোগ্রাফি’। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জোনাকি, ঈল মাছ, জেলিফিশ। এদের দেহেও আলো জ্বলে। জৈবিক এই ঘটনাকে বলা হয় বায়োলুমিনিসেন্স। তবে মস্তিষ্ক থেকে আলো ঠিকরে বেরনোর ঘটনাকে কিন্তু বায়োলুমিনিসেন্স বলা চলে না! বরং এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য রহস্য। স্বাভাবিক বিপাকের সময় সমস্ত জীবন্ত কলা থেকেই ক্ষীণ আলোর কণা নির্গত হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অতি-দুর্বল ফোটন নির্গমন। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে উত্তেজিত অণুগুলি থেকে একটি ফোটন কণা নির্গত হয়, যার ফলে অণুটি অপেক্ষাকৃত নিম্ন শক্তির দশায় ফিরে আসে। তবে এই আলো অত্যন্ত ক্ষীণ। স্বাভাবিক ভাবে আমরা খালি চোখে যে আলো দেখতে পাই, মানবমস্তিষ্ক থেকে নির্গত আলো তার প্রায় ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ! আর সে কারণেই খালি চোখে এই আলোর দেখা পাওয়া অসম্ভব। শুধু মস্তিষ্কই নয়, অন্যান্য অঙ্গ থেকেও সর্বক্ষণ এই ক্ষীণ আলো নির্গত হচ্ছে। যেহেতু মস্তিষ্কে শক্তির ব্যবহার অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় বেশি এবং মস্তিষ্কে ফ্ল্যাভিন, সেরোটোনিন এবং প্রোটিনের মতো আলোকসক্রিয় (যে সব অণু আলো শোষণ ও নির্গত করতে পারে) যৌগের ঘনত্বও বেশি, মস্তিষ্ক থেকে আলোও নির্গত হয় বেশি। ক্ষীণ আলোর তারতম্য পর্যবেক্ষণ করলেই মস্তিষ্কের অন্দরের কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও বিশদ ধারণা পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছিল কানাডা ও আমেরিকার তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ। ২০ জন সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপর একটি পরীক্ষা শুরু করেন। অংশগ্রহণকারীদের একটি অন্ধকার ঘরে বসিয়ে শুরু হয় মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ। আর তাতেই দেখা যায়, চোখ খোলা রাখা, চোখ বন্ধ করে থাকা, বিশ্রাম নেওয়া কিংবা আচমকা কোনও শব্দ শোনা— প্রতিটি কাজের সময় বদলে যাচ্ছে মস্তিষ্ক থেকে আসা আলোকসঙ্কেতগুলিও! আবিষ্কারের নেপথ্যে থাকা বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গবেষণা রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়েই। বেশ কয়েকটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রথমত, মাত্র ২০ জনের উপর এই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তা ছাড়া, শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে কী পরিমাণে আলোকসঙ্কেত নির্গত হয়, তার পরিমাপ এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে মস্তিষ্ক ছাড়া শরীরের অন্যান্য কলা থেকে একই রকম আলোর নির্গমন ঘটে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স, লিঙ্গ কিংবা স্বাস্থ্যের উপর ভিত্তি করে মস্তিষ্কের পাঠানো ‘সঙ্কেত’-এর তারতম্য হয় কি না, তা-ও জানা নেই এখনও। তবে অদূর ভবিষ্যতে মেশিন লার্নিং এবং আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের নানা রোগ শনাক্ত করতেও দিশা দেখাতে পারে এই গবেষণা।

দৈনন্দিন জীবনে কিছু সাধারণ অভ্যাসই সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি। এমনটাই বলছে ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদশাস্ত্র। আয়ুর্বেদে বর্ণিত নয়টি অভ্যাস আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেই নবরত্ন পদ্ধতি। প্রতিটি মুখ্য ভোজ, অর্থাৎ সকালের খাবার, মধ্যাহ্নভোজ এবং রাতের খাবারের আগে উষ্ণ জল পান হজমশক্তি বাড়াতে এবং পরিপাকতন্ত্রকে মজবুত করতে সহায়ক। রাত ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১৫ মিনিট সকালের হালকা রোদে বসা শরীরে ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে কাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
খাবার ধীরে ধীরে এবং সঠিকভাবে চিবিয়ে খেলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। ফলে শরীর নির্মেদ হয়। যাঁরা অনিদ্রায় ভোগেন তাঁদের জন্য এই অভ্যাস খুবই জরুরি। আধুনিক কালের সঙ্গে তুলনা করলে ঘুমতে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে থেকে ফোন, টিভি প্রভৃতি থেকে বিরত থাকলে মন শান্ত হয়, ঘুম ভাল হয়। দিনের শুরুতে খালি পেটে একটি ফল গ্রহণ শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে এবং শক্তি জোগায়। দৈনিক অন্তত ১০ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিপাকতন্ত্র বা অন্ত্র পরিষ্কার রাখা অপরিহার্য, কারণ এটি আমাদের মানসিক অবস্থা, ত্বকের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিন মলত্যাগ করা উচিত।

কোলেস্টেরলের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। ধমনীর ভিতর ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল জমতে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই এর জন্য নিয়মিত ওষুধ খান। তবে শুধুমাত্র ওষুধ নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে রাতের খাবার, এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু খাবার রয়েছে যা রাতে খেলে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। আইসক্রিমই হৃদযন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে? শুনতে অবাক লাগলেও, সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণার সমন্বিত ফলাফল এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পরিমিত পরিমাণে আইসক্রিম খেলে তা শুধু রসনার তৃপ্তিই করে না, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে। দশ বছর ধরে ২,৪০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপর চালানো একটি ডাবল-ব্লাইন্ড ট্রায়ালের ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, যাঁরা সপ্তাহে অন্তত দু’বার আইসক্রিম খান, তাঁদের মধ্যে করোনারি ইভেন্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আইসক্রিম না খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের নেপথ্যে একাধিক জৈব-রাসায়নিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের মতে, এর নেপথ্যের অন্যতম কারণ হল আইসক্রিমের মূল উপাদান দুধ। দুধে থাকা কিছু বিশেষ ‘বায়োঅ্যাকটিভ পেপটাইড’ হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। দুধে কেসিন নামক একধরনের প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন থেকে প্রাপ্ত পেপটাইডগুলি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল-এর জারণ প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। শুধু তাই নয়, এটি ভাল কোলেস্টেরল-এর মাত্রা প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আইসক্রিমে থাকা প্রোবায়োটিকস বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া রক্তনালীর স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উপকারী জীবাণুগুলি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালীর প্রসারণ ঘটিয়ে শিরা উপশিরা এবং ধমনীগুলিকে আরও নমনীয় করে তোলে, ডাক্তারি পরিভাষায় বিষয়টিকে বলা হয় ‘ভ্যাসোডায়ালেশন’। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে রক্তচাপের উপর। সিস্টোলিক রক্তচাপ হ্রাস পায়, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। ঠান্ডার ভয়ে অনেকে আইসক্রিম খান না, আইসক্রিমের সেই শীতলতাও শরীরের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঠান্ডা খাবার খাওয়ার পর আমাদের শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করে সেটিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে ‘কোল্ড-ইনডিউসড থার্মোজেনেসিস’ বলা হয়। এর ফলে দেহের বিপাক হার প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই সামান্য বৃদ্ধিও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের সার্বিক সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। সর্বোপরি, আইসক্রিম হল ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন এ, ডি, ও কে২-এর মতো জরুরি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের একটি চমৎকার উৎস। এই সমস্ত উপাদানগুলির সম্মিলিত প্রভাবে শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কমে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন-এর মাত্রা ১২ শতাংশ কমতে দেখা গিয়েছে, যা প্রদাহ কমার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এর অর্থ এই নয় যে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আইসক্রিম খাওয়া শুরু করতে হবে। আইসক্রিমের ধরন, তাতে ব্যবহৃত চিনির পরিমাণ এবং পরিমিতিবোধ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযমের সঙ্গে সঠিক মানের আইসক্রিমকে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে তা সত্যিই হৃদযন্ত্রের উপকার করতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত খেলে বা আইসক্রিমের নামে বিক্রি হওয়া ফ্রোজেন ডেজার্ট খেলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।

বাদাম বলতে কিন্তু চিনাবাদাম নয়। বা বলতে আমন্ড ও আখরোট। এগুলিতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ‘ভাল’ কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। রাতের খাবারে বা শোয়ার আগে অল্প পরিমাণে ওটস খেতে পারেন। এতে বিটা-গ্লুক্যান নামক দ্রবণীয় ফাইবার শরীর থাকে। এটি কোলেস্টেরল বের করে দিতে অত্যন্ত কার্যকর। রসুনের মূল উপাদান অ্যালিসিন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রাতের খাবার খাওয়ার সময় পাতে দুই-এক কোয়া রসুন রাখলে উপকার মিলতে পারে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। মুসুর, ছোলা বা রাজমার মতো ডালে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে। এই ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে দেহে খারাপ কোলেস্টেরলের প্রভাব কিছুটা হলেও হ্রাস পায়। পালং শাক এবং বাংলার অন্যান্য ধরনের শাকে লুটেইন এবং ক্যারোটিনয়েড থাকে। এই উপাদানগুলি ধমনীর প্রাচীরে কোলেস্টেরল জমা হতে বাধা দেয়। ফলে রক্তনালী সাফ থাকে। মেথি প্রকৃতির এক অমূল্য দান। মেথি দানা বা শাক, দু’টিই শরীরের জন্য উপকারী। এতে স্যাপোনিন নামক যৌগ থাকে, যা কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। রাতে মেথি ভেজানো জল পান করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। স্যামন, ম্যাকেরেল কিংবা বাঙালির অতি প্রিয় ইলিশের মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং সার্বিক ভাবে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সয়া দুধ বা টোফুর মতো সয়াজাত দ্রব্য ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমানোর জন্য পরিচিত। রাতের খাবারের তালিকায় এগুলি রাখলে তা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ইসবগুল খান। এটি কোলেস্টেরল কমাতেও উপযোগী! এতে থাকা ঘন দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরল কমানোর এক অব্যর্থ উপাদান। রাতে শোয়ার আগে জলে গুলে ইসবগুল খেলে তা হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীর থেকে কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles