এমনিতেই ক্ষুব্ধ রাজ্যের মানুষ। একের পর এক দুর্নীতি সামনে। কলেজে কলেজে ধর্ষনে জড়িত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা। রাজ্যের বাংলায় ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৭৪টি কেন্দ্র পুরোপুরি গ্রামীণ এলাকায়। কিছু কেন্দ্র গ্রাম-মফস্সলের মিশেল। মোট বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কমবেশি ১০০টি কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ন্ত্রক। রাজ্যের মানুষ তিতিবিরক্তি প্রকাশ করেছে দিনের পর দিন। এমতাবস্থায় মমতার ভরসা মুসলিম ও মহিল ভোট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ দিতে না পারলে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিক। দাবি, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। রাজ্য সরকার যদি বকেয়া ডিএ মেটানোর টাকা জোগাড় করতে না পারে, তাহলে নিজেদের দেউলিয়া বলে ঘোষণা করে দিক।
‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’। মহিলা এবং মুসলিম ভোট। এই নিয়েই তিনটি বিধানসভা ভোটে সাফল্য লাভ করেছে তৃণমূল। ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সঙ্গে নিয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাম দিয়ে শহরে এই পরিষেবা দিয়ে রাজ্য ঘোরার পরিকল্পনা। ভোটের লক্ষ্যে সরকারি কর্মসূচিও ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। কর্মসূচির পোশাকি নাম ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’। উদ্দেশ্য সরকারের পরিষেবাকে বুথ স্তরে নিয়ে যাওয়া। বাস্তবায়িত করতে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে পাড়ায় পাড়ায় নামবে শাসক তৃণমূলের সংগঠন। তৃণমূলের বার্ষিক শহিদ সমাবেশের ভিড়ের জমায়েতে প্রধানত গ্রামের গরিব মানুষ, বিশেষত সংখ্যালঘু মুসলিম এবং মহিলাদের উপস্থিতি। মমতার জনসমর্থনের মূল ভিত্তি। আশ্বস্ত তৃণমূল। ২০২৬ সালের ভোট জেতার লক্ষ্যে সরকার। সংগঠনকে মাঠে নামাতে চলেছেন নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ফিরহাদ হাকিমের বক্তৃতার মাধ্যেমে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে আরও একটি ভাষা আন্দোলনের ডাক দেন মমতা। ভিড়ের ভাষা। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে শহরাঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় বিজেপি ভাল ফল করলেও গ্রামে সমর্থন পেয়েছে তৃণমূল। মুসলিম এবং মহিলা ভোট ছিল লোকসভা নির্বাচনে। বাংলায় ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৭৪টি কেন্দ্র পুরোপুরি গ্রামীণ এলাকায়। কিছু কেন্দ্র গ্রাম-মফস্সলের মিশেল। মোট বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কমবেশি ১০০টি কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ন্ত্রক।
নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ বুথভিত্তিক কর্মসূচি। তিনটি বুথ নিয়ে একটি পাড়া। প্রতিটি বুথের জন্য বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা। একেবারে বুথ স্তরে গিয়ে এলাকার মানুষের সমস্যার কথা শুনবেন সরকারি আধিকারিকেরা। তার পরে সমস্যার সমাধান। রাজ্যে মোট ৮০ হাজার বুথ। কর্মসূচিতে রাজ্যের কোষাগার থেকে খরচ হবে ৮০ হাজার কোটি টাকা। একটি বুথে স্বল্পদৈর্ঘ্যের রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জলের কল, গ্রামাঞ্চলে ছোটখাট সেতুর মেরামতি, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো ছোট ছোট দাবি পূরণে তৎপর। নেপথ্যে পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকও। সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। স্থানীয় স্তরের ক্ষোভ প্রশমিত করতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি ধারাবাহিক ভাবে হিন্দু ভোট একজোট করার ডাক দিচ্ছে। আটকাতে পাল্টা কৌশল তৃণমূলের। মুসলিম এবং মহিলা সমর্থনের পুঁজি। মমতার সরকার চাইছে উন্নয়নের অস্ত্র দিয়ে হিন্দু মেরুকরণকে ভোঁতা করতে। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের পর ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরি করবেন। নেপথ্যে হিন্দু ভোট টানার কৌশল। বুথের ২০০টি পরিবার। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল-সহ শহর এলাকার অনেক বুথে তৃণমূল গত লোকসভা ভোটে পিছিয়ে। ফাঁক মেরামত করতে পুরসভা এবং পঞ্চায়েতে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকায় সংগঠনকেও নামাতে চলেছে তৃণমূল। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল আইপ্যাক। তাদের পরামর্শেই ২০২১ সালের ভোটের আগে ‘দিদিকে বলো’, নেতামন্ত্রীদের গ্রামে গিয়ে রাত্রিযাপন-সহ একাধিক কর্মসূচি করে সরকার এবং সংগঠনের কাজকে সমান্তরাল ভাবে চালিত করেছিল তৃণমূল। ২০০ পার করার হুঙ্কার দেওয়া বিজেপি। ৭৭-এ থেমে গিয়েছিল। এবারের বিধানসভা ভোটের আগে আবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে টানাপোড়েনের মাঝে থাকা তৃণমূল।




