Wednesday, July 22, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ওজন কমাতে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখা হালকা খাবার!‌ খালি পেটে গরম জলে লেবু মিশিয়ে খাওয়ার উপকারিতা অনেক

সকলেই মরিয়া ওজন কমাতে। বাদাম ও বীজ খাওয়ার চল। খিদে পেলেই একমুঠো বাদাম খেয়ে নেওয়ার অভ্যাস। বাদামে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। বাদাম খাওয়ার নিয়ম আছে। কাঠবাদাম খাওয়ার সময়ে কাজুবাদাম নয়। আখরোট আর পাইন নাট একসঙ্গে নয়ই। পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধরনের বাদাম ওজন কমানোর জন্য উপকারী, কারণ এগুলিতে পুষ্টি উপাদান ভরপুর থাকে এবং দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। কাঠবাদামে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা চিনি বা ভাজাভুজি খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। প্রোটিন এবং ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টেরও ভাল উৎস। কাঠবাদাম খাওয়ার সঠিক সময় সকাল। খালি পেটে ৩-৪টি কাঠবাদাম খেলে উপকার বেশি। পাইন নাটে পিনোলেনিক অ্যাসিড খিদে কমায় এবং দ্রুত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। পাইন নাট খাওয়ার সময় হল সকাল ১০টা থেকে ১১টা মিড-মর্নিংএ। আখরোট ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে এবং বিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। আখরোট খেলে ঘুম ভাল হয় ও ক্লান্তি দূর হয়। আখরোট খাওয়ার সঠিক সময় হল বিকেল। কাজুবাদামে জিঙ্ক এবং আয়রন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। ক্যালোরি তুলনামূলক ভাবে বেশি থাকার ফলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। কাজু খেতে হলে দুপুরের খাবারের সঙ্গে খাওয়াই ভাল। স্যালাডের সঙ্গে বা খাবারে মিশিয়ে খেতে পারেন। খালি পেটে কাজু খেলে কোনও লাভই হবে না। চিনেবাদাম তুলনামূলক ভাবে কম দামি হলেও প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ পেট ভর্তি রাখতে সাহায্য করে এবং এতে থাকা নিয়াসিন হার্ট ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। লবণ বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত চিনেবাদাম এড়িয়ে চলা উচিত। চিনেবাদাম দিনের যে কোনও সময়ে খাওয়া যেতে পারে, তবে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

গরম জলে লেবু মিশিয়ে খেলে ওজন কমে। লেবুর রস ওজন ঝরাতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা বলেন, সকালে খালি পেটে গরম জলে লেবু মিশিয়ে খাওয়ার উপকারিতা অনেক। ম্যাজিক করে ওজন কমিয়ে দেবে, এমন ভাবলে মুশকিল। এটি খাওয়ার অভ্যাস শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
লেবুতে রয়েছে পেকটিন নামের ফাইবার, যা শরীরে গেলে বেশি বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমলে হয়তো সামান্য প্রভাব পড়তে পারে ওজনে। ওজন কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ওজন কমানোর বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে আপনি কেমন জীবনযাপন করছেন। সকালে উঠে গরম জলে একটি লেবুর রস মিশিয়ে খেলেন আর সারা দিন ভাজাভুজি, মিষ্টি, অতিরিক্ত ফ্যাট যুক্ত খাবার খেলেন, তাতে ওজন কমবে না। ওজন কমানোর জন্য সারা দিনের রুটিনে বদল আনতে হবে। সমস্ত রকমের জরুরি পুষ্টি শরীরে যাচ্ছে কি না লক্ষ্য রাখতে হবে। শরীরকে চালনা করার জন্য এবং সুস্থ রাখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস, ভিটামিন এবং খনিজ খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। যথাসময়ে পর্যাপ্ত ঘুম। কারণ,পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তার প্রভাবে ওজন বাড়তে পারে। ওজন ঝরানোর ক্ষেত্রে মনের স্বাস্থ্যের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন না অনেকেই। মন ভাল না থাকলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে আমাদের হরমোনে। আর হরমোন শরীরে মেদবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়ম করে শরীরচর্চা থাকবে। সকালে উঠে খালি পেটে গরম জলে একটি গোটা লেবুর রস খাওয়ার উপকারিতা অনেক। লেবু হজমক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সকালে উঠে প্রথম চা বা কফি খাওয়ার আগে পাকস্থলীর দেওয়ালে একটি সুরক্ষা আবরণ তৈরি করে লেবু। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। সকালে উঠে খালিপেটে লেবু-জল খেলে তা যে কোনও খাবার থেকে আয়রন সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনেও সাহায্য করে। ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয় বা যাঁদের আর্থ্রাইটিস আছে, লেবু খেলে যদি ব্যথা বাড়ে, তাঁদের সকালে উঠে গরম জলে লেবু মিশিয়ে না খাওয়াই ভাল।

ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট বা ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ নিয়ে ইদানীংকালে চর্চা খুব বেশি। ভূমধ্যসাগরের আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এমন ডায়েট মেনে চলেন যাতে তাঁদের ওজন বাড়ে না, শরীর সুস্থ থাকে এবং বার্ধক্যও আসে দেরিতে। সেই ডায়েট পুরোপুরি উদ্ভিজ্জ খাবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উপরেই নির্ভরশীল। এমন কিছু দানাশস্য়, সব্জি ও ফল তাঁরা খান, যাতে নীরোগ শরীরে যৌবন ধরে রাখা যায় দীর্ঘ সময়।এখনকার অনেক বলিউড তারকাও ফলাও করে বলেন যে, তাঁরা ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ মানছেন। তবে এই ডায়েট সকলের পক্ষে মেনে চলা সম্ভব নয়। কারণ এ দেশে জলবায়ুতে তেমন সব্জি ও ফল ফলেই না। সেগুলি কিনতে গেলে পকেট ফাঁকা হয়ে যাবে। তাই মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট যে ধারা মেনে চলে, তেমন ভাবেই ভারতীয়দের জন্যও একটি ‘ইন্ডিয়ান অ্যাডপ্টেড মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ (আইএএমডি) তৈরি করে ফেলেছে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)।

ভারতীয় মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট। খাবারের তালিকা তৈরি করতে সাহায্য করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ ও আইসিএমআর। ভারতীয় মেডিটেরেনিয়ান ডায়েটে এমন সব্জি বা শস্য রাখা হয়েছে, যা সকলেই কিনে খেতে পারেন। খুবই সহজলভ্য। রোজ যে সব সব্জি বা ফল। বেছে বেছেই তৈরি খাবারের তালিকা। পরিবেশ, আবহাওয়ার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। উত্তর ভারতের লোকজন যেমন খাবার খান, দক্ষিণ ভারতে তেমনটা নয়। ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েটের ভারতীয় রূপে সাত রকম খাবারের তালিকা তৈরি হয়েছে। এলাকা ভেদে তা বদলায়। বিএমসি নিউট্রিশন জার্নালে ভারতীয় চেহারার ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত। এমসের চিকিৎসকেরা জানান, স্থূলত্ব যে হারে বেড়ে চলেছে দেশে, খাওয়াদাওয়ায় লাগাম না পড়ালে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবিটিসের রোগীতে ভরে যাবে। ক্যালোরি মেপে খাওয়া খুব জরুরি। ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েটে ক্যালোরি মেপেই খাওয়া হবে। চার রকমের ক্যালোরির তালিকা ১২০০, ১৪০০, ১৬০০ ও ২০০০। শরীর বুঝে বেছে নিতে হবে। কায়িক পরিশ্রম বেশি মানুষদের জন্য অধিক ক্যালোরির ডায়েট। শরীর নাড়াচাড়া তেমন হয় না, একটু কম ক্যালোরিই ভাল। ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে ফল, সব্জি, গোটা শস্য, লেবু, বাদাম, বীজ এবং অলিভ অয়েল খাওয়া হয়। মাছ-মাংস বা দুগ্ধজাত খাবারের পরিমাণ সীমিত। প্রক্রিয়াজাত খাবার ছুঁয়েও দেখা হয় না। এ দেশে একস্ট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে রান্না না। সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়িতে তা অসম্ভব। অলিভ অয়েলের বিকল্পে সামান্য ঘি বা রাইস ব্র্যান অয়েল চলতে পারে। মেডিটেরেনিয়ান ডায়েটে বুলগার, ফারো, কিনোয়া খাওয়ার চল বেশি। এগুলির বদলে ডালিয়া, ব্রাউন রাইস, জোয়ার, বাজরা বা রাগি খাওয়া যেতে পারে। বাজরার রুটি, মাল্টিগ্রেন আটার রুটি, রাগি বা ডালিয়ার খিচুড়ি ভাল বিকল্প হতে পারে। থাইম, রোজমেরির মতো মশলা ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েটে ব্যবহার করা হয়। এ দেশে থাইমের বিকল্প হতে পারে তুলসী। মশলার মধ্যে জিরে, জোয়ান, জায়ফল ও জয়িত্রী উপকারী। এগুলি প্রদাহনাশক। ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় মরসুমি সব্জি ও ফল বেশি খাওয়া হয়। নানা রকম বেরি জাতীয় ফল, বিভিন্ন ধরনের লেবু, শাকপাতা বেশি খাওয়া হয়। সব রকম বেরি এ দেশে পাওয়া যায় না। কাজেই বিকল্প হিসেবে পালংশাক, মেথিশাক, বেথোশাক, মূলোশাক খাওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের মধ্যে বাদাম ও নানা ধরনের বীজ, যেমন সূর্যমুখী, তিসির বীজ ভাল। তা ছাড়া বিভিন্ন রকম ডাল, ছোলা, রাজমা রয়েছে ডায়েটের তালিকায়।

১০১ বছর বয়স। নীরোগ শরীরে এখনও নিয়মিত শরীরচর্চা। বয়সের ভারে শরীর ঝুঁকে যায়নি। দৃষ্টিও ঝাপসা হয়নি। বার্ধক্যজনিত রোগ তাঁকে কাবু করতে পারেনি। তিনি আমেরিকার জনপ্রিয় পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসক জন স্কার্ফেনবার্গ। জন জানিয়েছেন, কোনও রকম ‘অ্যান্টি-এজিং’ চিকিৎসা না করিয়ে, ওষুধপত্র বা সাপ্লিমেন্ট না নিয়েও তিনি ফিট। মুখে বলিরেখা পড়লেও, তাঁর শরীরের বয়স এখনও কম। বার্ধক্য ঠেকিয়ে যৌবন ধরে রাখার চিকিৎসা নিয়ে যখন বিশ্ব জুড়েই বিজ্ঞানীরা মাথা ঘামাচ্ছেন, তখন জন জানালেন কী ভাবে সাধারণ জীবনযাপন করেই তিনি বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রাক্তনী জন লোমা লিন্ডা ইউনিভার্সিটির গবেষক ও অধ্যাপক গবেষণায় শতবর্ষে পৌঁছেও সুস্থ ও চনমনে থাকার রহস্য জানিয়েছেন। নিকোটিন ও তামাকজাত দ্রব্য জীবন থেকে ছেঁটে ফেলতে হবে। ধূমপান ছাড়লেই শরীরে জমা দূষিত পদার্থ বেরোতে থাকবে। কোষের পুনর্গঠন শুরু হবে, হার্ট, কিডনি ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, কিডনির রোগ বা লিভার সিরোসিস থেকে বাঁচতে মদ্যপান ছাড়তে হবে। কম বয়স থেকেই যদি আসক্তি ত্যাগ করতে পারেন, তা হলে বয়সকালে দুরারোগ্য ব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। জিমে না গিয়েও শরীরচর্চা নিয়ম মেনে। যন্ত্র-নির্ভর ব্যায়াম নয়, বরং প্রকৃতির মাঝে হাঁটাহাঁটি, সাঁতার, যোগব্যায়ামই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। নিয়ম করে প্রতি দিন সকালে ২ মাইল হাঁটা, বাগান করা, সবুজ গাছপালার পরিচর্যা করলে দীর্ঘ সময় অবধি অসুখবিসুখ ঠেকিয়ে রাখা যাবে বলেই পরামর্শ। রাতের খাওয়া ছাড়লে হজমশক্তি আরও ভাল হয় বলেই মত শতায়ু পুষ্টিবিদের। পাকস্থলীকে বিশ্রাম দিতে হবে। এতে বিপাকের হার বাড়বে, শরীরে প্রদাহ কমবে, হার্টে রক্ত চলাচল ভাল হবে এবং ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রিত হবে। ২০ বছর বয়সে মাংস খাওয়া ছেড়েছিলেন। বিশুদ্ধ নিরামিষেই রুচি হয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খেলেই শরীরে শক্তি হবে। শাকসব্জি, ফল বেশি করে খেতে হবে। খনিজ ও ভিটামিনের জন্য খেতে হবে নানা রকমের বাদাম ও বীজ। সব্জি ও ফল খেয়েই পেশির জোর বাড়বে। চিনি ও মিষ্টিজাতীয় সব রকম খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বছরের পর বছর চিনি ও মিষ্টি না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে হরমোনের কোনও গোলমাল হয়না। পরিমিত আহারই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। ট্রান্স ফ্যাট রয়েছে, এমন খাবার খাওয়া ছাড়তে হবে। শরীর সুস্থ রাখতে ও বয়স ঠেকিয়ে রাখতে হলে জাঙ্ক ফুড, ভাজাভুজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া একেবারেই ছেড়ে দিতে হবে।

শরীরের উপকারের জন্য অনেকেই তামার পাত্রে জল খান। বলা হয়, তামার পাত্রে রাখা জল শরীর শীতল রাখতে সাহায্য করে। শরীর সুস্থ রাখতে কিছু ‘মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস’-এর দরকার হয়। যেগুলি যৎসামান্য লাগলেও অত্যাবশ্যক। তেমনই একটি উপাদান হল কপার বা তামা। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’-এর তথ্য বলছে, ঊনিশোর্ধ্ব মানুষের দৈনিক ৯০০ মাইক্রোগ্রাম কপারের দরকার হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ আরও কিছুটা বেড়ে যায়। খনিজের অভাব শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তাল্পতা, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া সহ একাধিক সমস্যা হতে পারে শুধু কপারের অভাবেই। কপারের কার্যকারিতা অনেক। আয়রন শোষণে সহায়তা করে লোহিত রক্তকণিকা গঠনে ভূমিকা রাখে খনিজটি। কপারের অভাব হলে আয়রন ঠিকমতো কাজ করবে না। তার প্রভাবে রক্তাল্পতা হতে পারে। শরীরে ক্লান্তি আসতে পারে। তবে শুধু এ টুকুই নয়, তামার কার্যকারিতা অনেক। কপার খাবার পরিপাকেও ভূমিকা রাখে। এই খনিজ খাবার হজমকারী উৎসেচকের কাজে সহায়তা করে এবং শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও তামার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রক্তে থাকা শ্বেতকণিকা গঠন এবং তার কার্যাবলিতে সাহায্য করে কপার। বিশেষত শ্বেতরক্তণিকায় থাকা নিউট্রোফিল গঠনে এর বিশেষ ভূমিকা থাকে। শরীরে কপারের ঘাটতি হলে ‘নিউট্রোপেনিয়া’ হয়, যাতে শ্বেত রক্তকণিকা কমে যায়। শ্বেত রক্তকণিকা কমে গেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ে। মস্তিষ্কের কোষে কোষে বার্তা বহন করে নিউরোট্রান্সমিটার। শরীর সুস্থ রাখার ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিউরোট্রান্সিমিটারের সঠিক ভাবে কাজ করার জন্য কপার বিশেষ জরুরি। স্নায়ুতন্ত্রের উপর মায়েলিনের পরত থাকে। এই মায়েলিনের কাজকর্ম সঠিক ভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রেও কপার গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে কপারের ঘাটতি হলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সমগ্র শরীরেই। হাড় গঠনেও কপারের ভূমিকা রয়েছে। কোলাজেনের উৎপাদনে এই খনিজ সাহায্য করে। ক্যালশিয়াম এবং জিঙ্কের সঙ্গে মিলেমিশে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতেও কপার গুরুত্বপূর্ণ। রক্তবাহী নালী গঠনেও তামার ভূমিকা থাকে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হার্ট ভাল রাখতেও কপার জরুরি। বিভিন্ন রকম সামুদ্রিক মাছে, প্রাণীর শরীরে কপার মেলে। এ ছাড়া বিভিন্ন রকম বীজ, বাদাম, দানাশস্য, সবুজ শাকসব্জি, মাশরুম, ডাল, মুরগি বা পাঁঠার যকৃতে, মাছের মাথা খেলেও শরীরে কপারের ঘাটতি দূর হবে। ‘উইলসন’ নামক অসুখ হলে কপার রয়েছে এমন খাবার খাওয়া যায় না। এই অসুখে শরীরে কপার সঞ্চিত হতে থাকে। এ ছাড়া সুস্থ মানুষের কপার রয়েছে এমন খাবার খাওয়ায় কোনও সমস্যা নেই। বরং এর অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দৈনন্দিনের ব্যস্ততায় অনেক সময়েই শরীরের প্রতি নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। দেরি হলেও ক্ষতি নেই। অনেকেই জীবনের দ্বিতায়ার্ধে সুস্থ থাকতে শরীরচর্চাকে বেছে নেন। ফিটনেস এক্সপার্টদের মতে, কেউ যদি ৮০ বছর বয়সে ফিট থাকতে চান, তা হলে ৫০-এর পর থেকে তাঁর শরীচর্চা করা উচিত। নিয়মিত গরম খাবার এবং পানীয়ের অভ্যাস, ৩ ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। তরুণ বয়সে কেউ খেলাধুলো বা নিয়মিত শরীচচর্চা করতেন। সাংসারিক জীবনে পা রেখে আর সময় পাননি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কিন্তু আবার অবসরের পর নতুন করে শরীচর্চা শুরু করেছেন। ৬০ বছরের পর জিমে শরীরচর্চা শুরু করলে দেহে একাধিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। ৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি ১০ বছর অন্তর ৫ থেকে ১০ শতাংশ পেশির ঘনত্ব কমে আসে। কিন্তু শরীরচর্চার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে স্ট্রেংথ ট্রেনিং। কারণ, ওজন-সহ ব্যায়ামের ফলে পেশির ক্ষুদ্র তন্তু ছিড়ে য়ায়। কোষ বিভাজনের ফলে নতুন পেশির ঘনত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
বয়সের সঙ্গে হাড়ের ঘনত্বও কমে যায়। বিশেষ করে মেনোপজ়ের পর মহিলাদের অস্থির ঘনত্ব ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। শরীরচর্চার ফলে অস্থির উপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে পেশির পাশাপাশি অস্থির ঘনত্বও বৃদ্ধি পায়। বয়সকালে নিয়মিত শরীরচর্চা ‘ব্রেন ফগ’ দূর করে চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ওজন-সহ শরীরচর্চা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। পাশাপাশি, ঘুমের গুণগত মানের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পেটের সমস্যা নির্মূল করতে সাহায্য করে শরীরচর্চা। দেহে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও নিয়মিত ব্যয়াম করা যেতে পারে। শরীরচর্চার ফলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। বয়স্কেরা ধীরে হাঁটাচলা করেন। অনেক সময়ে বয়স জনিত রোগের কারণে দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে তাঁদের অসুবিধা হয়। শরীরচর্চা এই ধরনের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে। কুনুই, কোমর, হাঁটু, গোড়ালির জোর বৃদ্ধি পায়। তার ফলে সময়ের সঙ্গে ব্যক্তির মনের জোরও বাড়ে। সুস্থ জীবনের গুরুত্ব উপলব্ধি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles