Wednesday, July 22, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সি!‌ আধুনিকতা বাড়ছে এআই প্রভাব ফেলছে মানবজীবনেও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআই-র প্রবেশ। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনে বেড়েই চলেছে। বাড়ছে অগণিত মানুষের চাকরি হারানোর ভীতি। ভারতে গত কয়েক বছরে চিকিৎসা ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাসতাপাতালে রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহারে নতুন তথ্য জানা গিয়েছে সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। ফিলিপস্‌ ফিউচার হেল্‌থ ইনডেস্ক এফএইচআই এর দশম বার্যিক সমীক্ষায় দাবি, স্বাস্থ্যকর্মীরা মনে করছেন, এআই-এর উপস্থিতি আগামী দিনে রোগীকে আরও ভাল পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করবে। ১৬টি দেশের ১ হাজার ৯০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে এআই সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন। এই সমীক্ষায় ১৬ হাজার রোগীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৭৬ শতাংশ ভারতীয় স্বাস্থ্যকর্মী মনে করছেন, রোগীর সুশ্রূষা এবং এবং ডিজিটাল দুনিয়ার এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এআই অপরিহার্য। ভারতে সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের স্বাস্থ্যকর্মীদের মতামত নেওয়া হয়েছে। পেশাজনিত ক্লান্তি, হাসপাতাল পরিচালন কৌশল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এআই সুবিধা প্রদান করতে পারে। ৮৭ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, এআই আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। ৭২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সঠিক চিকিৎসা প্রদানে সাহায্য করবে। ৫৬ শতাংশ জানান, হাসপাতালে এআই-এর মাধ্যমে কাজ শুরু। ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক মনে করছেন, এআই যত্নের ক্ষেত্রে রোগীদের সঠিক নির্দেশ দিতে পারবে। ১০ জনের মধ্যে মাত্র ৪ জন জানান, এআই এবং চিকিৎসকের হাতে হাত মিলিয়ে সঠিক কাজ করতে আরও গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। ৬৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী যেমন মনে করছেন, অস্ত্রোপচারের সময় কমাতে এআই সাহায্য করতে পারে, ৪৫ শতাংশ মানুষ এআই-এর ব্যবহারের আগে সঠিক গাইডলাইনের দাবি। ভারত বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিষেবার রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। কেবল দক্ষতার জন্য নয়, বরং আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য এআই-এর প্রতি বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন। দেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা যে ভাবে উন্নত হতে শুরু করেছে, সেখানে নিকট ভবিষ্যতে এআই নির্ভরতা আখেরে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে।

বাংলার নেটদুনিয়ায় রাজনীতি ছাড়া অন্য যে বিষয়টি নিয়ে তুমুল চর্চা হচ্ছে তা হল বেশ কয়েকজন পরিচিত নামের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়া। সেই ছবি এবং ভিডিওগুলি প্রচলিত অর্থে আপত্তিকর। যাঁদের নিয়ে এই চর্চা, তাঁরা বলছেন সেগুলি আসল নয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা সংক্ষেপে এআই দিয়ে তৈরি। বদনাম করার উদ্দেশ্যেই শত্রুপক্ষ এই কীর্তি করছেন। কাজটি অন্যায়, অনৈতিক। ছবি-ভিডিওগুলি সত্যি নেওয়া গূঢ় অপরাধ। শারীরিক আকাঙ্ক্ষা মানুষের একটি স্বাভাবিক বিষয়। সেই আকাঙ্ক্ষা তাঁরা মিটিয়েছেন কারও প্রতি বলপূর্বক নয়, কারও অনিচ্ছায় নয়, একান্তই পারস্পারিক আগ্রহে। সেই আনন্দের উপকরণ হিসেবে তাঁরা আধুনিক মোবাইল নামক যন্ত্রটিকেও ব্যবহার করেছেন, সেটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। আপনি বা আপনারা আমার অনুমতি না নিয়ে আমার ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছেন। অপরাধী আপনি। অবশ্যই আইনের দ্বারস্থ হওয়া যায়। সোশাল ট্যাবু এতই ভয়ানক যে আনন্দ নেওয়ার উপকরণ হিসেবে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেব। সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যদি আমার ক্ষেত্রে সবসময় সুফলদায়ক না হয় তবে তাকে অস্বীকার বা দোষারোপ করব এবং আঁকড়ে ধরব ভিক্টোরিয়ান যুগের ধারণাকে- সেটা একপ্রকার দ্বিচারিতা। ওষুধ খাই তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে জেনেও খাই। ইন্টারনেটকে নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করলেও কিছু প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া থাকবে সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দোষ ততই এই প্রবণতা বাড়বে। ফটো বা ভিডিওগুলি কোনও কারণে ছড়িয়েছে সেইগুলি দেখার জন্য নেটদুনিয়ার একটি মস্ত অংশ এমনই ব্যাকুল যে ‘লিংক দাও, লিংক দাও’ হাহাকার। অপরের অনাবৃত শরীর দেখার জন্য এই প্রাণান্তকর কাতর চিৎকার। বিশেষ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি অতি অসাধারণ, অত্যন্ত আকর্ষণীয় ঝাঁপিয়ে দেখার মানসিকতা আসলে একপ্রকার হীনমন্যতা থেকে আসে।

পরিচিতিকে অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখেও এক উদ্ভট উল্লাস। এই অবস্থায় দেখে ফেলার বাহাদুরিঋ রয়েছে। ব্যর্থ জিতে যাওয়ার সান্ত্বনা। সামাজিকভাবে খানিকটা অপদস্ত করতে পেরে তুরীয় আত্মতৃপ্তির আস্ফালন, বিকৃত চিৎকার। এআইএর বুদ্ধি রয়েছে কিন্তু মন নেই। মান-অভিমানও নেই। তার ঘাড়ে শতবার দোষ চাপানোর পরেও, পরমুহূর্তে তার কাছে কোনও বিষয়ে সাহায্যের হাত পাতলে অভিমানে মুখ ফেরাবে না। এআই-কে সবসময় দোষের ভাগী না করে আমাদের মানে উভয়পক্ষের দোষটুকু বুঝে শোধরানোর অপেক্ষা, সেই দিন আসতে আর কত দেরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যেই নিজস্ব পরিচয় তৈরি করে ফেলেছে মিহুপ। ভয়েস এআই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সম্প্রতি ৯ বছরে পা রাখল এই প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব এআই মডেলের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষাভাষীর গ্রাহকের মধ্যে ভয়েস-ফার্স্ট কথোপকোথন আরও কার্যকরী করে তোলার লক্ষ্যে গত ন’বছর ধরে কাজ করে আসছে মিহুপ। এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মিহুপের তৈরি ‘স্বনির্ভর ভয়েস এআই’ দিয়ে হিন্দি-সহ বিভিন্ন উপভাষা, মিশ্র ভাষা কিংবা আঞ্চলিক ভাষা সহজেই বুঝে ফেলা যায়। বর্তমানে তাদের তৈরি এই ভয়েস অ্যাসিস্টেন্ট ভারতের এক লাখেরও বেশি গাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে। মানে ধরুন, অনেকেই যেভাবে বাংলা-ইংরাজি কিংবা হিন্দি-ইংরাজিকে মিশিয়ে দিয়ে কথা বলি, ঠিক সেভাবেই আপনার কথার উত্তর দেবে এই ভয়েস এআই। মিহুপ-এর জন্ম হয়েছিল এই বিশ্বাস থেকে যে, ভাষা কখনওই প্রযুক্তি ব্যবহারের পথে বাধা হতে পারে না। আমাদের কাছে সত্যিকারের ভার্নাকুলার ভয়েস এআই তৈরি করা মানে শুধু প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়- এটি অন্তর্ভুক্তির একটি পদক্ষেপ। ভারতের আগামিদিনে প্রায় সব গ্রামের মানুষদের কাছে মোবাইল ফোন থাকবে। শিক্ষাগত ডিগ্রি নাও থাকতে পারে। টেক্সটের চেয়ে ভয়েস হবে প্রযুক্তির সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ভয়েস-ফার্স্ট ডিজিটাল অভিজ্ঞতার জন্য প্রয়োজন হবে শক্তিশালী ভাষাভিত্তিক এআই মডেল, যা বহু ভাষা এবং তাদের সূক্ষ্মতা বুঝে স্বাভাবিক কথোপকথনের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। যখন আমরা মানুষকে তাদের মাতৃভাষায় কথা বলার ক্ষমতা দিই, শুধু প্রযুক্তিগত বাধা ভাঙি না- আমরা সুযোগ, মর্যাদা এবং সকলের জন্য সমানাধিকার তৈরি করি। কোটি কোটি মানুষ শহরের কল সেন্টার থেকে শুরু করে গ্রামীণ এলাকায় ভয়েস প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। আমরা গর্বিত যে আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি, যেখানে এআই সত্যিকার অর্থে মানুষের ভাষায় কথা বলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles