Tuesday, July 21, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কলকাতা লিগের ডার্বি পিছিয়ে দেওয়া হল?‌ মোহনবাগান-‌ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ কল্যানিতে ১৯ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২৬এ

ডার্বি ঘিরে অনিশ্চয়তা ছিল। ১৯ জুলাই কলকাতা লিগে কল্যাণী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের। দুই দলের তরুণ ব্রিগেড মাঠে নামলেও বড় ম্যাচ। ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা কম নয়। আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত জানিয়েছিলেন, কল্যাণী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই প্রধান। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হওয়ার কথা ডার্বি। অসংখ্য দর্শক নিয়ে ম্যাচ করার অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। চিঠিও আইএফএ’কে দিয়েছে পুলিশ। চিঠি পাওয়ার পর আইএফএ সেক্রেটারি অনির্বাণ দত্ত এবং আইএফএ প্রেসিডেন্ট অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে প্রচেষ্টা ডার্বি জট কাটানো। অবশেষে পিছিয়ে গেল কলকাতা লিগের ডার্বি। এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হল। নতুন তারিখ অনুযায়ী, ২৬ জুলাই খেলা হবে ডার্বি। হাজারো বিতর্ক সত্ত্বেও কল্যাণী স্টেডিয়ামেই ডার্বি হবে বলে জানা গিয়েছে। আইএফএর তরফে বিবৃতি, ‘নদিয়া জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও আইএফএ পদাধাকারীদের বৈঠকের পর দুই তরফের সহমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কলকাতা ফুটবল লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল এফসির ডার্বি ম্যাচ আগামী ১৯ জুলাইয়ের পরিবর্তে আগামী ২৬ জুলাই ২০২৫ কল্যাণী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এত অল্প সময়ে দর্শকদের টিকিট সংগ্রহে অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই তাদের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ ১৯ জুলাই কলকাতা লিগে কল্যাণী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হওয়ার কথা দুই প্রধানের। কিন্তু সেই ম্যাচের মাত্র দিনতিনেক আগে আইএফএ’কে চিঠি দিয়ে পুলিশ জানায়, এই ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। বেশ কয়েকটি বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে পুলিশের তরফে। প্রথমত, স্টেডিয়ামে ফেন্সিং নেই। ফলে সমর্থকদের বিরাট ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা দেওয়া আদৌ সম্ভব নয়। কল্যাণীর ছোট স্টেডিয়ামে সমর্থকদের নিরাপত্তার জন্য দু’দলের গ্যালারির মাঠে বড় করে ফেন্সিং তোলার কথা থাকলেও তা হয়নি।পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত পার্কিং নেই কল্যাণীতে। ডার্বির মতো ম্যাচ আয়োজনের জন্য স্টেডিয়ামটি উপযুক্ত নয়। কল্যাণী স্টেডিয়ামেই ডার্বি খেলা হবে বলে জানাল আইএফএ। এক সপ্তাহ বাড়তি সময় থাকার ফলে দর্শকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা বাড়ানো যেতে পারে। ডার্বিতে দর্শকসংখ্যা কমিয়ে মাত্র ১০ হাজার দর্শক মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন।

ডার্বির আগে কালীঘাট মিলন সংঘের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের জয়। কালীঘাটকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে রাখার লক্ষ্যে সফল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কালীঘাটকে ২-১ গোলে হারিয়ে শনিবাসরীয় বড় ম্যাচের আগে ৩ পয়েন্ট এল সবুজ-মেরুন শিবিরে। দুর্দান্ত শুরু করে মোহনবাগান। বিপক্ষের ফুটবলাররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবুজ-মেরুনকে এগিয়ে দেন পাসাং দোরজি তামাং। খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ১৮ মিনিটে কালীঘাটকে সমতায় ফেরান সুরজিৎ হালদার। দুরন্ত দূরপাল্লার শটে তাঁর গোলটি ছিল নয়নাভিরাম। ২৪ মিনিটে দেবা দত্তের শট বাগান ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কালীঘাটের নাসিরুদ্দিন মোল্লা ৩৪ মিনিটে মোহনবাগান ডিফেন্সকে কাটিয়ে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করেন। সবুজ-মেরুনের হয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ আসে ৪০ মিনিটে। হেলায় হারালেন সালাউদ্দিনের জায়গায় নামা গোগোচা। মিংমা শেরপা মাপা পাস কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে ৫১ মিনিটে ভেসে আসা বলে মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন পাসাং দোরজি। ৫৪ মিনিটে কালীঘাটের রাজেন ওরাওঁ কাজের কাজ করতে পারেননি। ৫৫ মিনিটে সুযোগ নষ্ট টংসিনের। ৬৪ মিনিটে মোহনবাগানের হয়ে ব্যবধান বাড়ান করণ রাই। কালীঘাট এমএসকে ২-১ গোলে হারিয়ে ডার্বির আগে অনেকটাই স্বস্তিতে থাকলেন ডেগি কার্ডোজার ছেলেরা। শনিবাসরীয় কল্যাণী স্টেডিয়ামেই সবুজ-মেরুন বনাম লাল হলুদ ম্যাচ?‌‌

এদিকে, স্থগিত এই মরসুমে আইএসএল। পাঁচ দিন আগে ক্লাবগুলিকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছে আয়োজক এফএসডিএল। উদ্বিগ্ন ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী। সমাজমাধ্যম দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, ফুটবলের ব্যবস্থাপনার কাঠামোই ‘চিন্তিত, ব্যথিত এবং ভীত’। আইএসএলে বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলেন সুনীল। দু’বছর আগে আইএসএল কাপ জিতেছে তাঁর দল। সেই সুনীল সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “ কিছু দিন আগে যখন খবর পেলাম আমাদের প্রাক মরসুম প্রস্তুতি এক পক্ষকাল পিছিয়ে গিয়েছে, তখন হেসেছিলাম। ছুটিতে থাকার কারণে খুব বেশি পরিশ্রম করিনি। খাওয়া-দাওয়াও সে ভাবে কমাতে পারিনি। তাই নিজেকে পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাতে কিছুটা বাড়তি সময় চলে এসেছিল। সেই ‘পক্ষকাল’ এখন ‘অনির্দিষ্টকাল’ হয়ে গিয়েছে। আমার মুখের হাসিও মিলিয়ে গিয়েছে। এমনিতেই আমি কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। হাতে থাকা সময় ক্রমশ কমছে। কিন্তু বিভিন্ন ক্লাবের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারছি, আমার স্বার্থপর সমস্যা অতটাও গুরুতর নয়। ভারতীয় ফুটবল এখন যে অবস্থায় রয়েছে তা অত্যন্ত চিন্তার। শুধু নিজের ক্লাব নয়, অন্যান্য ক্লাবের খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ, ফিজিয়ো, ম্যাসিওরদের থেকে বহু বার্তা পেয়েছি। যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তা দেখে ভারতীয় ফুটবলের কাঠামোর সঙ্গে জড়িত থাকা প্রত্যেকে চিন্তিত, ব্যথিত এবং ভীত। আমি জানি যাঁরা ফুটবলটা চালান তাঁরা মরসুম শুরু করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আশা করি দ্রুত কোনও সিদ্ধান্ত হবে।” সুনীল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সব উত্তর তাঁর কাছেও নেই। যাঁরা ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের শান্ত থাকার আবেদন করেছেন। একসঙ্গে এই সময়টা কাটিয়ে ফেলবেন, এমনই আশা। ১১ জুলাই ক্লাবগুলিকে চিঠি পাঠিয়ে এফএসডিএল জানিয়েছিল, তাদের সঙ্গে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের এআইএফএফ স্বাক্ষরিত হওয়া মাস্টার্স রাইটস্ এগ্রিমেন্ট এমআরএ ৮ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে আইএসএল শুরু হলেও এক-তৃতীয়াংশ সময়ের মধ্যে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে। নতুন করে চুক্তি সই নিয়ে বেশ কয়েক মাস আগে আলোচনা শুরু হলেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। ডিসেম্বরের পর আর চুক্তি থাকছে না, ২০২৫-২৬ মরসুমের আইএসএলের পরিকল্পনা, আয়োজন বা বাণিজ্যিকীকরণ করতে এফএসডিএল অপারগ। এফএসডিএল চিঠিতে লিখেছিল, “এই পরিস্থিতিতে আমরা ২০২৫-২৬ মরসুম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো জায়গায় নেই। তাই যত দিন না নতুন চুক্তি নিয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে তত দিন এই প্রতিযোগিতা মুলতুবি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।” ২০১০ সালে ১৫ বছরের জন্য এআইএফএফের সঙ্গে চুক্তি সই হয় এফএসডিএলের। প্রতি বছর এর মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা পায় ফেডারেশন। তাদের প্রতি দিনের খরচ চালানো এবং বিভিন্ন লিগ আয়োজন করার ক্ষেত্রে যা গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মুহূর্তে এমআরএ সই করতে পারবে না ফেডারেশন। যত দিন না সুপ্রিম কোর্টে ফেডারেশনের সংবিধান চূড়ান্ত হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত এই কাজ করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নতুন কমিটিও তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তারাই এফএসডিএলের সঙ্গে চুক্তিতে সই করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles