RK NEWZ এ বার ২১ জুলাই শহরের তিন জায়গায় তিনটি শহিদ সমাবেশ হচ্ছে। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভিড়ের নিরিখে এগিয়ে কালীঘাট তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সভা তারামণ্ডলের সামনে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি লেন পুরো ভরে গিয়েছে। পাশের লেনেও অনেকে দলের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান দিচ্ছেন। মেয়ো রোডে ঋতব্রত তৃণমূলের সভায় এখনও খুব বেশি কর্মী-সমর্থকের দেখা মেলেনি। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সেখানে রাখা অধিকাংশ চেয়ারই ফাঁকা রয়েছে। সভামঞ্চেও আখরুজ্জামান, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ছাড়া এখনও শীর্ষস্থানীয় কেউ উপস্থিত হননি। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ, যাঁরা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের তরফে দিল্লির রাজঘাটে ‘শহিদ স্মরণ’ করা হয়। গান্ধীস্মারকে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদদের’ শ্রদ্ধা জানান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী রায়। ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করছে দুই তৃণমূল। দূরদূরান্তের জেলা থেকে কলকাতায় আসা দলের কর্মী-সমর্থকেরাও খানিক বিভ্রান্ত। এই আবহে মঙ্গলবার সকালে মেয়ো রোডে, ঋতব্রত শিবিরের সভায় দেখা গেল তৃণমূলের বেশ কয়েক জন কর্মী-সমর্থককে। তাঁদের বক্তব্য, যাওয়ার পথে তাঁরা ‘এমনি’ সভাস্থল ঘুরে গেলেন। তাঁদের গন্তব্য বিড়লা তারামণ্ডল বলেই জানান তাঁরা। এক জন বলেন, “প্রতীক একটাই। নেত্রীর নাম মমতা। তারামণ্ডলের সামনে হওয়া সভাতেই যাব।

তার আগে যাওয়ার পথে এই সভাটা ঘুরে গেলাম।” আর এক কর্মী জানান, যেহেতু প্রতীক একটাই, তাই দুই সভাতেই যোগ দেওয়ার জন্য কলকাতায় এসেছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দলের কর্মী-সমর্থকদের গাড়ি থামিয়ে ভাঙচুর করছে বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এমনই অভিযোগ করলেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কালীঘাট তৃণমূলকে ক্যাথিড্রাল রোডে, বিড়লা তারামন্ডলের সামনে সভা করার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। কিন্তু মমতা শিবিরের দাবি, সভা বানচাল করার চেষ্টা করে আদতে আদালতের অবমাননা করছে পুলিশ-প্রশাসন। সোমবার মধ্যরাতে মমতা বলেন, “আইন নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না। করলে এর পর পুলিশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হবে।” তার পরেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাতেই মামলা করার কথা বলেন মমতা। জানান যে, এই মামলায় পক্ষ হতে চান তিনিও। তার পরেই মমতা বলেন, “আমাকে হাই কোর্টে ঢুকতে বিজেপির কত লুম্পেন বাধা দেয় দেখব। কার কত বুকের পাটা দেখব।” মধ্যরাতে মমতা বলেন, “আমাদের ছেলেদের সভায় আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শহিদ পরিবারগুলিকে পুলিশ সভায় না আসার জন্য ভয় দেখাচ্ছে। এ ভাবে গায়ের জোরে সবকিছু করা যায় না। আমরা তো শহিদ স্মরণ করছি। চারদিকে আমাদের মঞ্চ ভাঙা হচ্ছে, বিদ্যুৎ, মাইকের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল, পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির ৬০-৬৫ জনের গুন্ডাবাহিনী এসব করেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে এক জন ক্রিমিনাল। সে এখন আদালতের নির্দেশে বাইরে আছে। এক দিকে পুলিশ, অন্য দিকে বিজেপি-কে দিয়ে কী ভাবে অনুষ্ঠানটা ভেস্তে দেওয়া যায়, সেই চক্রান্ত হয়েছে।” মাত্র আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে তিন তিনটি ‘শহিদ সমাবেশ’ হতে চলেছে কলকাতায়।

প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলায়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে ‘শহিদ স্মরণ’ করত তৃণমূল। এ বারে অবশ্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন। দীর্ঘ ১৫ বছর সরকার চালানোর পর ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল। বিধানসভা ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর দু’টি শিবিরে ভাগও হয়ে গিয়েছে দল। একটি শিবিরের নেতৃত্বে মমতা। অপর শিবিরের নেতৃত্বে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে মমতার তৃণমূল ‘শহীদ স্মরণ’ কর্মসূচি করছে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। আর ঋতব্রত তৃণমূলের কর্মসূচি হচ্ছে মেয়ো রোডে, গাঁধীমূর্তির পাদদেশে। এ বার তুলনায় বড় করে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করছে প্রদেশ কংগ্রেসও। তাদের কর্মসূচি হচ্ছে শহিদ মিনার ময়দানে। মমতার তৃণমূলের মূল মঞ্চে কোনও আচ্ছাদন থাকছে। ঋতব্রত তৃণমূলের মঞ্চে অবশ্য আচ্ছাদন রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীরা আসছেন তিনটি সভাতেই। ২১ জুলাইয়ের সভামঞ্চ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ করল কালীঘাট তৃণমূল। পোস্টার-ব্যানার ছিড়ে দেওয়ার পাশাপাশি মাইকের তার ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মঞ্চ ভাঙচুরের খবর পেয়েই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৈরি হওয়া মঞ্চে যান তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি। তার পর রাতভর মঞ্চ পাহারা দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, দোলা সেনরাও। সকালেও তারামণ্ডলের সামনে ছিলেন মমতা। অন্য বারের মতো সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে নয়, স্লোগান তুলেও নয়। খানিক বিচ্ছিন্ন হয়েই তারামণ্ডলের সামনে মমতার সভায় যাচ্ছেন তৃণমূলকর্মীরা। কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে, কেউ আবার মেট্রোয় কালীঘাট তৃণমূলের সভায় যাচ্ছেন। ময়দান মেট্রো স্টেশন থেকে নামতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের। কোন তৃণমূলের সভায় যাবেন? প্রশ্ন শুনেই তাঁরা বললেন, “অবশ্যই দিদির সভায় যাব। দিদি ছাড়া অন্য কিছু বুঝি না। বিজেপির বি টিমের সভায় যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” মমতার মঞ্চে ১৩ শহিদের পরিবার হাজির।

শহিদ মিনারের সভায় আসার পথে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, সোমবার রাতে দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় কংগ্রেস কর্মীদের নিয়ে কলকাতার দিকে আসা একটি বাসে ভাঙচুর চালায় বিজেপি। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর, তমলুকেও একই ভাবে কংগ্রেস কর্মীদের নিয়ে আসা বাসে বিজেপি হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। ২১ জুলাই সভায় আসা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের। জেলা থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের জন্য ডিম-ভাতের আয়োজন করা হয়েছে। রাতে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র আর কিছু গেস্ট হাউসে।শহিদ মিনার ময়দানে কংগ্রেসের ‘শহিদ সমাবেশে’ কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। তবে এখনও মাঠ পুরোপুরি ভরেনি। প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগ, বহু জায়গায় তাদের কর্মীদের নিয়ে আসা বাসে ভাঙচুর চালাচ্ছে বিজেপি। কিছু জায়গায় আবার কংগ্রেস কর্মীদের বাস আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ক্যানিং রেলস্টেশনে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি। এই ঘটনার নিন্দা করে পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কংগ্রেসের মঞ্চে প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা ছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন দীপা দাশমুন্সি, ইমরান প্রতাপগরি, পবন খেরা এবং উদয়ভানু চিবও।

দিল্লির রাজঘাটে শহিদ স্মরণে এনসিপিআই সাংসদরা। উপস্থিত কাকলী ঘোষ দোস্তিদার, ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী রায়, আবু তাহের, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে অনুপস্থিত দেব, জুন মালিয়া-সহ ৯ সাংসদ।অন্য বারের মতো সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে নয়, স্লোগান তুলেও নয়। খানিক বিচ্ছিন্ন হয়েই তারামণ্ডলের সামনে মমতার সভায় যাচ্ছেন তৃণমূলকর্মীরা। কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে, কেউ আবার মেট্রোয় কালীঘাট তৃণমূলের সভায় যাচ্ছেন। ময়দান মেট্রো স্টেশন থেকে নামতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের। কোন তৃণমূলের সভায় যাবেন? প্রশ্ন শুনেই তাঁরা বললেন, “অবশ্যই দিদির সভায় যাব। দিদি ছাড়া অন্য কিছু বুঝি না। বিজেপির বি টিমের সভায় যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

শহিদ মিনারের পাদদেশে কংগ্রেসের শহিদ মঞ্চে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাদা। ১৯৯৩-এর ঘটনার জন্য তৎকালীন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব তথা তৃণমূল জমানার মন্ত্রী মণীশ গুপ্তকে কাঠগড়ায় তুলল কংগ্রেস। প্রশাসনের কাছে আবেদন, ফাইল খুলুন, বিচার করুন। ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গীরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের মঞ্চে। তৃণমূলনেত্রীর দীর্ঘকালের সঙ্গী বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী হাজির গান্ধী মূর্তির পাদদেশের মঞ্চে। সভায় উপস্থিত মদন মিত্রও।





