বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে ধুন্ধুমার। পুরুষদের ফাইনালে মুখোমুখি হাওড়া-মুর্শিদাবাদ। মেয়েদের ফাইনালে মালদার মুখোমুখি কলকাতা। দুটি ফাইনালই হবে ইডেন। ২০২৫ বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগে বিদায়বেলা আসন্ন। শুক্রবার ২৭ জুন এই টুর্নামেন্টের জোড়া সেমিফাইনাল ম্যাচে জয়ী এই দুই দল। প্রথম ম্যাচে লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্সকে ১১ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কনফার্ম করে অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স। আর দ্বিতীয় ম্যাচে মুর্শিদাবাদ কিংস ১৪ রানে হারিয়ে দিল মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারীর দল হারবার ডায়মন্ডসকে। শনিবার এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল। প্রথম সেমিফাইনালে খেলতে নেমেছিল লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স এবং অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স। হাওড়া টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। হাওড়ার হয়ে ৪৪ বলে ৫৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন অরিন্দম ঘোষ। শেষপর্যন্ত তাঁকে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে হয়। অরিন্দমের ইনিংসে ৩ চার ছিল। হাওড়ার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেন শাকির হাবিব গান্ধী ২৭ বলে ৩০ রান এবং ওপেনার আদিত্য পুরোহিত ১০ বলে ২৬ রানে ৪ চার এবং ১ ছক্কা। হাওড়া ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান করে। কলকাতার বোলারদের মধ্যে তিন উইকেট তুলে নেন সায়ন ঘোষ। জোড়া উইকেট শিকার করেন দেবপ্রতিম হালদার। কলকাতা টাইগার্সের ওপেনার আয়ুশ কুমার সিং ৫৩ বলে ৭০ রানে ৭ চার এবং ২ ছক্কা মারেন। যোগ্য সঙ্গত দেন সতীর্থ ওপেনার করন লাল। করন ২৭ বলে ৩০ রানে ১ চার এবং ২ ছয় মেরেছেন। হতাশ করলেন অধিনায়ক অভিষেক পোড়েল। তিনি ৯ বলে মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান। ২০ ওভারে তারা ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানে থামে যাওয়ায় শেষপর্যন্ত হাওড়া ১১ রানে জিতে ফাইনালের টিকিট কণফার্ম করে।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুর্শিদাবাদ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তোলে। মুর্শিদাবাদ দলের অধিনায়ক সুদীপ কুমার ঘরামি ৪৮ বলে ৭৯ রান করেন পাঁচটি চার এবং ছক্কায়। ঋষভ চৌধুরি ৩৭ এবং অগ্নিভ পান ৪০ দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। জবাবে হারবার ডায়মন্ডস ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান করে। সর্বাধিক ৪০ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেললেন ওপেনার চন্দ্রহাস দাস। অধিনায়ক অভিষেক রমন ২২ বলে ৩৪ রান এবং লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটার রাহুল প্রসাদ ১৪ বলে ২৭ রান করেন। মুর্শিদাবাদ হাসতে হাসতে ১৪ রানে জয়লাভ করে। হাওড়া এবং মুর্শিদাবাদের মধ্যে বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের ফাইনাল খেলা হবে ইডেনেই।
নিজের জন্মদিনে ইডেনকে দারুন উপহার দিয়েছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গাঙ্গুলি। হাজির করিয়েছিলেন বলিউডের শাকিরাকে। ফাইনালেও হবে ইডেনে ধামাকা। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের জাঁকজমক উদ্বোধনের সাক্ষী ছিল কলকাতার ক্রিকেটভক্তরা। প্রথম বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনও চাকচিক্য ছিল না। ক্রিকেটের নন্দনকানন মাতালেন সুনিদি চৌহান। টানা এক ঘন্টা দশ মিনিট ননস্টপ পারফর্ম করেন বলিউডের শাকিরা। একাই একশো। অনেক আগে থেকেই শুধু ‘গায়িকা’ ট্র্যাগ গা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন। এখন তিনি একজন কমপ্লিট পারফর্মার। ধুম মাচালে দিয়ে শুরু। বিড়ি জ্বালাইলেতে শেষ। মাঝে একের পর এক হিট গান। মুগ্ধ ইডেনে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শক। সুনিধিকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত ছিলেন ভক্তরা। ক্রেজি কিয়া রে, দেশি গার্ল, ইশক সুফিয়ানা, বে ইন্তেহান, বলম সামি, শিলা কি জওয়ানি..তাঁর গানের তালে তালে নাচল ইডেন। শুধু মাত্র আইটেম নম্বর নয়, সুরেলা গানও উপহার দেন সুনিধি। মস্ত থেকে ধুম, মিশন কাশ্মিরের জনপ্রিয় গানের নন স্টপ ঝড়ো পারফরম্যান্স সুনিধির। শুধুমাত্র লেটেস্ট গান নয়, নয়ের দশকের গানও গান। মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। লাফিয়ে, ছুটে বেড়ালেন বলিউডের শাকিরা। যখন মঞ্চে ওঠেন, পড়ন্ত বিকেল। সূর্যাস্তের সময় মায়াবী পরিবেশে সন্ধে ৬.৫০ পর্যন্ত টানা পারফর্ম করেন।
১১ জুন থেকে ২৮ জুন কলকাতার ঘরোয়া ক্রিকেটের টি-২০ যুদ্ধ। ছেলে এবং মেয়েদের আট দলের বাইশ গজের লড়াইয়ের শুরুতে মাঠে ট্রফি নিয়ে প্রবেশ করেন ঝুলন গোস্বামী এবং ঋদ্ধিমান সাহা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। ছিলেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলি এবং সচিব নরেশ ওঝাও। ছেলে এবং মেয়েদের আট দলের অধিনায়কদের মঞ্চে ডাকা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমন্ত্রিত থাকলেও আসতে পারেননি। ক্রিকেটীয় যুদ্ধের আগে যে আঁচ সুনীধি চৌহান ছড়িয়েছিলেন মোহময়ী পারফরমেন্স। গতবারের দুই যৌথ বিজয়ী সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা এবং মুর্শিদাবাদ কিংস ম্যাচ দিয়ে বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের ঢাকে কাঠি পড়েছিল। ২৮ জুন দুপুর দেড়টায় ইডেনেই দু’টি ফাইনাল।
বেঙ্গল প্রো টি ২০ লিগ বাংলার বুকে সাড়া জাগানো টুর্নামেন্ট। ক্রিকেট প্রতিভা তুলে আনার অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় গত বছর থেকে শুভ সূচনা বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের। বাংলার এই সর্ববৃহৎ আইপিএল ধাঁচের লিগ। গত বারের মতোই পুরুষ ও মহিলাদের প্রতিযোগিতা আইপিএলের ধাঁচে এই টি ২০ লিগ। বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের ম্যাসকট হল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কমিক ‘বাঁটুল দি গ্রেট’। নায়ারণ দেবনাথের সৃষ্ট চরিত্রকে সামনে রেখে বাংলার ২০ ওভারের লিগকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল সিএবি। দ্বিতীয় বছরের প্রতিযোগিতার ড্রাফটে ছিল ৮০২ জন ক্রিকেটারের মধ্যে থেকে পছন্দের ক্রিকেটারদের বেছে নিয়েছে দলগুলি। শহরের এক হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের দ্বিতীয় সংস্করণে পুরুষদের ৮০২ জন ক্রিকেটারের থেকে বেছে ড্রাফট করা হয়। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলির উপস্থিতিতে হয় ড্র। সহ-সভাপতি অমলেন্দু বিশ্বাস, সচিব নরেশ ওঝা, কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক দেবব্রত দাস, সিএবি ট্যুর, ফিক্সচার এবং টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস সহ বিভিন্ন সিএবি কমিটির চেয়ারপার্সন, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এবং সিএবির বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলি, মহিলা ক্রিকেট আইকন ঝুলন গোস্বামী সহ বিভিন্ন সিএবি কমিটির চেয়ারপারসন, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ কমিটির সদস্য দীপ চ্যাটার্জি, শুভ্রদীপ গাঙ্গুলি, লোপামুদ্রা ব্যানার্জী, কেয়া রায়, সুরজিৎ লাহিড়ী, অম্বরীশ মিত্র, সৌমেন্দু চ্যাটার্জি, জয়দীপ মুখার্জি সহ অন্যান্যরা। দীপ প্রকাশনের কর্ণধার শঙ্কর মণ্ডল, দীপ্তাংশু মণ্ডল প্রমুখ।
বাংলার ক্রিকেট সংস্থার এ বারের বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ পুরুষ ও মহিলাদের প্রতিযোগিতা। গত বার পুরুষদের সব ম্যাচ হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্সে। মহিলাদের প্রতিযোগিতা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। মহিলাদের ফাইনাল হয়েছিল ইডেনে। গত বার পুরুষদের প্রতিযোগিতায় যুগ্ম বিজয়ী হয়েছিল সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা ও মুর্শিদাবাদ কিংস। ইডেনে বৃষ্টির কারণে ফাইনাল খেলার ফয়সালা হয়নি। মহিলাদের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স। রানার্স হয়েছিল মুর্শিদাবাদ কুইন্স।
টুর্নামেন্টের ফাইনালের ক্রিকেটাররা হলেন
অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স : আমির গনি, কনিষ্ক শেঠ, শাকির হাবিব গান্ধী, প্রমোদ চান্দিলা, সুজিত কুমার যাদব, সাক্ষম শর্মা, যুবরাজ দীপক কেশওয়ানি, শ্রেয়ান চক্রবর্তী, শশাঙ্ক সিং, দীপক কুমার, দেবাংশু পাখিরা, জয়বীর সিং, রোহিত, শচীন চৌধুরী, অরিন্দম ঘোষ, অগ্নিশ্বর দাস, অগ্যস্থ শুক্লা
মুর্শিদাবাদ কিংস : সুদীপ কুমার ঘরামি, অগ্নিভ পান, সুখমিত সিং, বিকাশ সিং, তৌফিকউদ্দিন মণ্ডল, সাক্ষম চৌধুরী, ঋষভ চৌধুরী, দিলশাদ খান, সৌরভ কুমার সিং, অনিকেত সিং, তন্ময় প্রামাণিক, সৈঈদ ইরফান আফতাব, প্রিয়ম সরকার, কোশিক ঘোষ, নিখিল সিং, অঙ্কিত চ্যাটার্জ্জী, সায়ন পাল
মহিলাদের টুর্নামেন্টের ফাইনালের ক্রিকেটাররা হলেন —
সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা: হৃষিতা বসু (মার্কি প্লেয়ার), ঝুমিয়া খাতুন, মমতা কিস্কু, শ্রাবণী পাল, সুস্মিতা পল, রূপা দত্ত, অরুণা বর্মণ, নেহা শাউ, সুকন্যা পারিদা, জেনি পারউইন, সঞ্চিতা অধিকারী, রোশনি তিওয়ারি, রিয়া কে মাহাতো, নন্দিনী বিশ্বাস, রাধিকা কুমারী, স্নেহা মাহাত।
লাক্স-শ্যাম কলকাতা রয়্যাল টাইগার্স : পর্না পল, পূজা রাজক, অঙ্কিতা মহন্ত, প্রীতি মাহাতো, ঋত্বিক পাল, সুজাতা দে, প্রতিভা মান্ডি, মনিকা মাল, সালমা খাতুন, কোয়েল সরকার, মিতা পল (সি)
বাবা হলেন মুকেশ কুমার। ভারতীয় জোরে বোলারের স্ত্রী দিব্যা সিংহ শুক্রবার পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বাংলার মুকেশ সমাজমাধ্যমে এই খবর জানিয়েছেন। তিনি উচ্ছ্বসিত। লিখেছেন, “ক্ষুদ্রতম হৃদস্পন্দনের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু হল।” ২০২৩ সালের নভেম্বরে দিব্যার সঙ্গে বিয়ে হয় মুকেশের। তাঁর জন্ম যেখানে, বিহারের সেই গোপালগঞ্জের বাড়িতে একেবারেই ঘরোয়া অনুষ্ঠান করেন মুকেশ। সেখানে পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-বন্ধুরাই শুধু আমন্ত্রিত ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই মুকেশ ও দিব্যা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন লোকচক্ষুর আড়ালেই রেখেছেন। সমাজমাধ্যমেই হোক বা কোনও অনুষ্ঠান, তাঁদের একসঙ্গে খুব কমই দেখা যায়। বাংলার হয়ে ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলার ফলে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে যান মুকেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। সব ধরনের ক্রিকেটেই দেশের হয়ে খেলেছেন তিনি। আবার মাঠে নামার অপেক্ষায় ৩১ বছরের মুকেশ।




