পুকুর ভরাট নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জলাশয় ও পুকুর ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠলে তা ভেঙে দেওয়া হবে। পরিবেশের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না, জানালেন মমতা। বিরোধী দলগুলি বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ তোলে রাজ্যে পুকুর ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে। জলাশয় বুজিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ সামনে আসে। রাজ্য প্রশাসন যে এই ‘অপরাধ’ বরদাস্ত করবে করবে না তা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, “জোর করে পুকুর ভরাট করলে নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হবে। স্থানীয় কিছু ইনফ্লুয়েন্সে অনেকে এমন করেন। পরিবেশ বাঁচাতে কোনও আপস নয়। অভিযোগ এলে পরিবেশ বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” পুকুর ভরাট নিয়ে কড়া মন্তব্যের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে নতুন করে খনন হয়েছে সাড়ে চার লাখ পুকুর। পুকুর ভরাট নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে বলেন, ‘জলাশয় বা পুকুর ভরাট করে কোনও বেআইনি নির্মাণ তৈরি হলেই তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। পুর এলাকায় জোর করে পুকুর ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ করলে তা ভেঙে দেওয়া হবে। বারবার সতর্ক করার পরেও এই কাজ হয়েই আসছে। এই কাজ যে করবে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ। পরিবেশের স্বার্থে কোনও কিছুর সঙ্গেই আপোস করা হবে না।’
উল্লেখ্য, মাস খানেক আগেই হাওড়ার পুরসভার ইছাপুরের কাছে বেশ কয়েকটি পুকুর বুজিয়ে কাজ চসছিল। এবং অভিযোগ খোদ পুর আধিকারীকের দিকে। বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীরা জানিয়েও কেনও লাভ হয়নি। আড়ালে আবডালে পুকুর বুজিয়ে রাতারাতি বিল্ডিং উঠিয়ে দিয়েছেন খোদ পুর আধিকারীকরাই বলে অভিযোগ রয়েছে। আড়িয়াদহের জয়ন্ত সিং ওরফে জায়ান্টের বিশাল বেআইনি প্রাসাদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর পরেই তৎপর হয়ে উঠেছিল কামারহাটি পুরসভা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খবরের শিরোনামে উঠে আসে জয়ন্ত সিং ও তাঁর দলবল। তাঁর পর থেকেই সামনে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। আড়িয়াদহের এক যুবক ও তাঁর মাকে রাস্তায় ফেলে পেটানোর ঘটনাতে পুলিশ জয়ন্ত ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গীকে গ্রেপ্তারও করে। বিধানসভার চলতি বাদল অধিবেশনে পুকুর ভরাট নিয়েই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছিলেন, জলাভূমির চরিত্র বদল করা যাবে না। জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকার জরিমানার শাস্তির বিধান রয়েছে। এবার পুকুর ভরাট নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রীও।
এদিকে, ডিভিসির ছাড়া জল ও লাগাতার বর্ষণের জেরে ঘাটাল বন্যা কবলিত। সেই কথা উল্লেখ না করে বন্যাত্রাণ নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকার বন্যাত্রাণ নিয়ে রাজ্যকে বারবার বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, “ড্রেজিং হয় না। অন্য রাজ্যের ছাড়া জলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয় আমাদের।” সবকিছু সামলে রাজ্য সরকার বন্যা রোধে তিন জেলায় ২০ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে চার হাজার বর্গকিমি বন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন। ভরা বর্ষার মরশুমে ঘাটাল-সহ মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। প্রতি বছরের মতো এবারও জনযন্ত্রণায় আমজনতা। প্রশ্ন উঠছে, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ তো শুরু হয়েছে। কিন্তু কতটা এগোল সেই কাজ? কতদিনই বা আর এই জলযন্ত্রণা সইতে হবে? এনিয়ে ঘাটালে তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কত সময় লাগবে কাজ শেষ হতে? জমি জট হলেই বা সমাধান কী? তার সবটাই জানালেন। কেন্দ্রকে দুষে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ”ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করার কথা অনেক আগে। তা তো করেইনি। আমরাই কাজ শুরু করেছি। ১৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। দু থেকে তিন বছর সময় লাগবে। মানসদা তো কেলেঘাই-কপালেশ্বরী প্রকল্পের জন্য ২০ বার চিৎকার করেছেন। তাও ওরা করে দেয়নি। আমরাই সেই কাজ করেছি। এখনও ঘাটালও করছি। এতে মেদিনীপুরের মানুষের ভালো হবে। বর্ষার সময় আর জলে ভাসতে হবে না। কাজ এগোচ্ছে।” ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জমি সমস্যার অভিযোগ উঠেছে মাঝেমধ্যে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ”জমি নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে প্ল্যানটা একটু ঘুরিয়ে দিন, তাহলেই তো মিটে যায়।” বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভিন্ন জলপ্রকল্প নিয়েও উষ্মাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সিকিমে ১৪ টি জলপ্রকল্প করে তিস্তার গতিরোধ নিয়ে তিনি বলেন, ”তিস্তার শ্বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুমে সিকিম থেকে জল ঢুকছে বাংলায়। নেপাল থেকেও জল ঢুকছে।” ভুটানের সঙ্গে যে আন্তর্জাতিক জল কমিশন রয়েছে, সেই ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক জল কমিশনে বাংলার প্রতিনিধি না থাকা নিয়েও ক্ষুব্ধ মমতা। তাঁর মতে, বাংলার প্রতিনিধি থাকা উচিত।
ভরা বর্ষার মরশুমে ঘাটাল-সহ মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। প্রতি বছরের মতো এবারও জনযন্ত্রণায় আমজনতা। প্রশ্ন উঠছে, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ তো শুরু হয়েছে। কিন্তু কতটা এগোল সেই কাজ? কতদিনই বা আর এই জলযন্ত্রণা সইতে হবে? এনিয়ে ঘাটালে তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোরও শুরু। এই পরিস্থিতিতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কত সময় লাগবে কাজ শেষ হতে? জমি জট হলেই বা সমাধান কী? সবটাই জানালেন। কেন্দ্রকে দুষে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ”ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করার কথা অনেক আগে। তা তো করেইনি। আমরাই কাজ শুরু করেছি। ১৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। দু থেকে তিন বছর সময় লাগবে। মানসদা তো কেলেঘাই-কপালেশ্বরী প্রকল্পের জন্য ২০ বার চিৎকার করেছেন। তাও ওরা করে দেয়নি। আমরাই সেই কাজ করেছি। এখনও ঘাটালও করছি। এতে মেদিনীপুরের মানুষের ভালো হবে। বর্ষার সময় আর জলে ভাসতে হবে না। কাজ এগোচ্ছে।” ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জমি সমস্যার অভিযোগ উঠেছে মাঝেমধ্যে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ”জমি নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে প্ল্যানটা একটু ঘুরিয়ে দিন, তাহলেই তো মিটে যায়।” বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভিন্ন জলপ্রকল্প নিয়েও উষ্মাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সিকিমে ১৪ টি জলপ্রকল্প করে তিস্তার গতিরোধ নিয়ে তিনি বলেন, ”তিস্তার শ্বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুমে সিকিম থেকে জল ঢুকছে বাংলায়। নেপাল থেকেও জল ঢুকছে।” ভুটানের সঙ্গে যে আন্তর্জাতিক জল কমিশন রয়েছে, সেই ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক জল কমিশনে বাংলার প্রতিনিধি না থাকা নিয়েও ক্ষুব্ধ মমতা। তাঁর মতে, বাংলার প্রতিনিধি থাকা উচিত।




