Saturday, July 11, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দুর্ঘটনাস্থলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখলেন!‌ আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা তিন শতাধিক ছাড়াল?‌

আহমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একমাত্র জীবিত যাত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। কথা হয় অন্যান্য আহতদের সঙ্গে ও চিকিৎসকদের সঙ্গে। প্রশাসনিক বৈঠকও সারলেন প্রধানমন্ত্রী। গুজরাতের আহমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ভেঙে পড়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে। রানওয়ে ছেড়ে বেরোনো এবং বিমান ভেঙে পড়ার ওই সময়ের মধ্যে কী হয়েছিল, তা নিয়েই কাটাছেঁড়া চলছে। বিমানে যাত্রী, ক্রু সদস্য এবং পাইলট-সহ ২৪২ জন ছিলেন। দুপুর ১টা ৩০ থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কী হয়েছিল? উপগ্রহ চিত্র বলছে, ওই সময় রানওয়ের শেষ প্রান্ত ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল ছিল বিমানটি। তখনও বিমানের সঙ্গে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল এটিসি-এর যোগাযোগ ছিল। দুপুর ১টা ৩৯। বিমানবন্দর ছেড়ে বেরিয়ে যায় এআই ১৭১। তখনও বিমানের সঙ্গে এটিসির যোগাযোগ ছিল। পাইলট বিপদসঙ্কেত পাঠান এটিসি-কে। কয়েক সেকেন্ডে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমান তখন ৬২৫ ফুট উপরে। দুপুর ১টা ৪০। বিমান ভেঙে পড়ে মেঘানিনগরে। মাত্র ৬২৫ ফুট উপরে উঠেই ভেঙে পড়ে বিমান! ওড়ার পরই ‘মে ডে কল’ পাঠানো হয় এটিসি-কে, তার পরই দুর্ঘটনা
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি যখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৫০ ফুট উপরে ছিল সেই সময়েই সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটি মিনিটে ৪০০ ফুট গতিতে নীচে নেমে আসছিল। তার পরেই লোকালয়ে ভেঙে পড়ে। বিমান যখন দ্রুতগতিতে নীচে নেমে আসছিল, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পাইলটের হাতে এক মিনিটও সময় ছিল না। বিমান বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান যখন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, সেই সময়ে সেটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬২৫ ফুট উঁচুতে ছিল। যদি বিমান ৩৫ হাজার ফুট উপরে থাকত, তা হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পেতেন পাইলট এবং ক্রু সদস্যেরা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে রানওয়ে ছেড়ে ওড়ার পর মাত্র ৬২৫ ফুট উচ্চতায় বিমানটি উঠেছিল। ফলে পাইলট কোনও কিছু করার সুযোগই পাননি। বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদের দেহ শনাক্ত করার জন্য একমাত্র ভরসা ডিএনএ পরীক্ষা। ১৪০ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। রিপোর্ট পেতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে। বিমান যাত্রীদের ঘনিষ্ঠ পরিজনদের আসতে বলা হয়েছে ডিএনএ মিলিয়ে দেখার জন্য।

দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে বিমানটি রানওয়ে ছাড়ার পর পরই এটিসিকে ‘মে ডে কল’ করেন পাইলট। বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও আর জবাব পাওয়া যায়নি। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে, যে বিমানটি ভেঙে পড়ছে সেটি ভিটি-এএনবি। বিমানটি বৃহস্পতিবার সকালেই দিল্লি থেকে অহমদাবাদে আসে। তার পর সেটি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। একদিকে অসামরিক উড়ান পরিবহন মন্ত্রকের এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো। ইউকে এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় শুরু হচ্ছে তদন্ত। আজ রাতেই দিল্লি থেকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছবে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর ডিরেক্টর জেনারেল এবং ডিরেক্টর অফ ইনভেস্টিগেশন। তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন। ভারতের পাশাপাশি দুর্ঘটনার তদন্ত করবে ইউ কে এয়ার অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ। দেড় লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল বিমানে, মাটিতে আছড়ে পড়তেই জ্বলে যান সকল যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পর ১৬ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে, এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। সম্পূর্ণ পোড়া, ঝলসে যাওয়া দেহগুলি শনাক্ত করার কোনও উপায় নেই। শনাক্তকরণের জন্য ভরসা শুধু ডিএনএ পরীক্ষা।

গুজরাতের অহমদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার জায়গাটি ঘুরে দেখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু। শাহ জানান, ‘‘বিমানটিতে ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল। তাপমাত্রা ছিল অত্যধিক। ফলে কাউকেই বাঁচানোর সুযোগ পাওয়া যায়নি। ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি পুড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে। অত্যধিক তাপমাত্রার কারণেই যাত্রীদের বাঁচানো যায়নি। আমি দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেছি। প্রায় প্রতিটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা মৃতদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বিদেশি নাগরিক যাঁরা ছিলেন, তাঁদের পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করব। এই ঘটনায় সমগ্র দেশ বিধ্বস্ত। মৃতদের পাশে আছেন সকলে। ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে খবর দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, স্বরাষ্ট্র দফতরের কন্ট্রোল রুম এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।’’ ডিএনএ পরীক্ষার কাজ যৌথ ভাবে করবে কেন্দ্রীয় এবং গুজরাতের রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাব। ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যাবে। এই দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবিত যাত্রী বিশ্বকুমার রমেশের সঙ্গেও দেখা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আহমদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়ে দিলেন টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণ জানান, দুর্ঘটনায় যাঁরা জখম হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার খরচও বহন করবে টাটা গোষ্ঠী। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি বিজে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণও হয়। তাতে বহুতলটিই প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাঁচ জন চিকিৎসকেরও মৃত্যু হয়েছে। ওই হস্টেলটি পুনর্নির্মাণে টাটা গোষ্ঠী সাহায্য করবে বলেও জানিয়েছেন চন্দ্রশেখরণ। টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘‘যা ঘটেছে, তার জন্য কোনও শব্দই যথেষ্ট নয়। যে সব পরিবার তাদের কাছের মানুষদের হারাল, যাঁরা জখম হয়েছেন, তাঁদের সকলের জন্য প্রার্থনা করছি।’’

গুজরাতে অহমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই পটেল বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পাঁচ মিনিট পরেই ভেঙে পড়েছে লন্ডনগামী বিমানটি। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানিয়েছে, বিমানটিতে ২৪২ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৩০ জন যাত্রী এবং ১২ জন বিমানকর্মী। বিমানবন্দরের ভিতরের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওড়ার কিছু ক্ষণ পরেই বিমানটি বাঁ দিকে হেলে পড়তে থাকে। একই সঙ্গে লেজের অংশটি নীচের দিকে নামতে নামতে হঠাৎ মাটিতে ভেঙে পড়ে। বিমানটি ভেঙে পড়েছে বিমানবন্দর চত্বরের মধ্যেই। ঠিক তার পাশেই মেঘানিনগর এলাকা। ২৪২ জনকে নিয়ে অহমদাবাদের মেঘানিনগরের বসতি এলাকায় বৃহস্পতি দুপুরে ভেঙে পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৭১ বিমান। এক জন জীবিত। বাকি সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। বিমানবন্দরের নিকটবর্তী ডাক্তারদের একটি হস্টেল ভবনে গিয়ে ধাক্কা মারে বিমানটি। যার ফলে হস্টেল এবং তার আশপাশেও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভেঙে পড়ার পরমুহূর্তেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ধরে যায় বিমানে। স্থানীয় হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে। বিমানটি আহমদাবাদ থেকে লন্ডন গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানে ২৩০ জন যাত্রী এবং ১২ জন বিমানকর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন পাইলট। এই বিমানে ১৬৯ জন ভারতীয় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া ছিলেন ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক, সাত জন পর্তুগিজ নাগরিক এবং এক জন কানাডার নাগরিক। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে আহমদাবাদের পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বিমানের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে প্রচণ্ড শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। অনেকেই ভেবেছিলেন ভূমিকম্প হচ্ছে। ঘটনাস্থলে লাশের স্তূপ জমে গিয়েছে। মৃতদের অনেককে শনাক্তই করা যায়নি। লাশ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার বন্দোবস্ত করেছে গুজরাত প্রশাসন। বিজে মেডিক্যাল কলেজে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্তদের খবরাখবরের জন্য জনস্বার্থে চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বর। গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী অহমদাবাদের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটিতে ছিলেন। লন্ডনে কন্যার কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিল। টাটা গোষ্ঠীর তরফে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা। আহমদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রিটেনের এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ এএআইবি। ভারতের নেতৃত্বেই এই তদন্ত হবে। তবে তাতে সহযোগিতার জন্য একটি তদন্তদল মোতায়েন।

আহমদাবাদের দুর্ঘটনায় এক জন মাত্র জীবিত বিমানটির ইকনমি ক্লাসের ১১এ আসনের যাত্রী বিশ্বকুমার রমেশ। আহমদাবাদের পুলিশ কমিশনার জিএ মালিক জানান, বিমানের একমাত্র জীবিত যাত্রী রমেশই। পুলিশ তাঁকে খুঁজে পেয়েছে। আপাতত তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। ঘটনাস্থলের ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, রমেশ হাঁটছেন। কয়েক জন মিলে তাঁকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে খুব বেশি চোট তাঁর লাগেনি। কী ভাবে এমনটা সম্ভব হল, অনেকেই তা ভেবে পাচ্ছেন না। লন্ডন গ্যাটউইকগামী বিমানটিতে গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বিজয় রূপাণী ছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছে। লন্ডনে কন্যার কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। ২০১৬ থেকে ২০২১সাল পর্যন্ত রূপাণী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন। তাঁর বৃহত্তর পরিবারের একটা অংশ কলকাতাতেও থাকেন। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ চত্বরে রূপাণীর তুতো ভাইয়ের দোকান আছে। রূপাণীর মৃত্যুর খবরে সেখানেও নেমেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির ইকোনমিক ক্লাসের ১১এ নম্বর আসনে ছিলেন বিশ্বকুমার রমেশ। তিনি বেঁচে বেরিয়েছেন ওই বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে। রমেশ আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কী ভাবে তা সম্ভব হল, কী ভাবে রমেশ বেঁচে গেলেন, এখনও স্পষ্ট নয়। খুব বেশি চোটও লাগেনি। রমেশ বলেন, ‘‘বিমান ওড়ার মাত্র ৩০ সেকেন্ড পর একটা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। সব কিছু খুব দ্রুত ঘটে গিয়েছিল। আমি যখন উঠে দাঁড়াই, আমার চারপাশে শুধু লাশ আর লাশ। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। উঠেই আমি দৌড়োতে শুরু করি। আমার চারপাশে বিমানের অনেক টুকরো দেখতে পেয়েছিলাম। তার পর কেউ আমাকে টেনে ধরে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলল। আমি হাসপাতালে চলে এলাম। গোটা বিমান ভেঙে পড়ল। হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনিতে আমার সিটটা খুলে এসেছিল। তাই হয়তো আমি বেঁচে গেলাম। আমি যে দিকে পড়েছিলাম, সেখানে হস্টেলের একতলার ফাঁকা জায়গা ছিল কিছুটা। সেখান দিয়ে আমি বেরিয়ে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু উল্টোদিকে হস্টেলের দেওয়াল ছিল। সে দিক থেকে হয়তো কেউ বেরোতে পারেনি। আমার বাঁ হাত একটু পুড়ে গিয়েছে।’’ এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমানের ইকোনমি ক্লাসের ১১এ আসনে বসেছিলেন রমেশ। তাঁর আসনটি ছিল আপৎকালীন দরজার কাছেই। কিন্তু কী ভাবে বিমান থেকে বাইরে বেরিয়েছেন, বলতে পারেননি রমেশ। বিমান ভেঙে পড়ার আসল কারণ জানা যাবে ব্ল্যাকবক্সটি উদ্ধার করা গেলে। এই মুহূর্তে তাই দুর্ঘটনার নিশ্চিত কারণ বলা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে।

প্রথমত, এই দুর্ঘটনার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ বিমানটির ভার এবং সেই সংক্রান্ত গণনায় ত্রুটি। ওড়ার সময়ে যাত্রী, মালপত্র-সহ বিমানের ওজন কত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রত্যেক বিমানের নির্দিষ্ট ভারবহন ক্ষমতা থাকে। অনেক সময়ে বিমান ওড়ার মুখে এই ওজনের হিসাবে গোলমাল করে ফেলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা। তখন বিমানটি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যে কোনও বিমানের আকার, গঠন অনুযায়ী তার ভারবহন ক্ষমতা নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে। বিমানের মধ্যে যাত্রীদের কোথায় বসানো হবে, কোন দিকে কত যাত্রী বসলে বিমানের সামনের এবং পিছনের দিকের ভারসাম্য বজায় থাকবে, বিমান ওড়ার আগে তা হিসাব করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সেই হিসাবে ভুল থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। বিমানটি যে ভবনে ধাক্কা খেয়েছে, সেখানে তার একটি চাকা আটকে গিয়েছিল। ওজনের হিসাবে ভুল হলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। দ্বিতীয়ত, বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার। বিশেষজ্ঞেরা অনেকেই মনে করছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি থাকতে পারে। হতে পারে, ল্যান্ডিং গিয়ারটি বিমান ওড়ার পর ঠিক মতো বন্ধ হয়নি। এই ল্যান্ডিং গিয়ারই বিমানের ভার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বিমান ওঠানামার সময় রানওয়ের সংস্পর্শে আসে ল্যান্ডিং গিয়ার। এখান থেকে বিমানের চাকা বেরিয়ে আসে। ফলে বিমানের গতিও ল্যান্ডিং গিয়ারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। গোলমালের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তৃতীয় কারণ হিসাবে অনেকে বলছেন, মাটি ছাড়ার পরেই বিমানের উপরের দিকে ওঠার ক্ষমতা বা লিফ্‌ট কমে শেষে ক্ষমতা একেবারেই শেষ হয়ে আসে। তখন বিমানটিকে আর ভাসিয়ে রাখতে পারেননি পাইলট। ভিডিয়ো বলছে, রানওয়ে ছাড়ার পর বিমানটি মাঝপথে সামান্য গোঁত্তা খেয়েছিল। লিফ্‌ট কমে যাওয়ার কারণেই এমন ঘটেছে। চতুর্থত, বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটির ইঞ্জিনে ত্রুটি ছিল। সেটি ভেঙে পড়ার আগে সর্বোচ্চ ৩২২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে পৌঁছোতে পেরেছিল। অস্বাভাবিক। ওই সময়ে বিমানের গতি আরও অনেক বেশি হওয়ার কথা। কোনও কারণে বিমানের ইঞ্জিন শক্তি হারিয়ে ফেলে। তার ফলে দুর্ঘটনা অনিবার্য হল। বিমান অহমদাবাদের মাটি ছাড়ার পরপরই ‘মে ডে কল’ পাঠিয়েছিলেন পাইলট। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল এটিসিকে পাঠানো সেই বিপদবার্তায় কাজ হয়নি। বিমানটির সঙ্গে এটিসি যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আর যোগাযোগ করা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানটি প্রয়োজনীয় গতিতে পৌঁছোতে পারছে না দেখে, নির্দিষ্ট উচ্চতায় উঠতে পারছে না দেখে ককপিটে পাইলটেরা শেষ চেষ্টা করেছিলেন। হাতল টেনে ধরে বিমানটির নাকের অংশ তোলার চেষ্টা করেছিলেন। লাভ হয়নি। মাটি থেকে ৬২৫ ফুট মাত্র উঠতে পেরেছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। সেখান থেকেই এটিসি-কে পাঠানো হয়েছিল বিপদবার্তা। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি মিনিটে ৪০০ ফুট গতিতে নীচে নেমে আসছিল। তার পরেই লোকালয়ে ভেঙে পড়ে। পাইলটের হাতে এক মিনিটও সময় ছিল না। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, যদি বিমান ৩৫ হাজার ফুট উপরে থাকত, তা হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পেতেন পাইলট এবং ক্রু সদস্যেরা। তা হয়নি। হদিশ মিলেছে আহমেদাবাদে দুর্ঘটনার কবলে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১-এর একটি ‘ব্ল‍্যাক বক্সে’র। বিমানে সচরাচর দুটি করে ব্ল্যাক বক্স থাকে। একটি সামনের দিকে, একটি পিছনের দিকে। দুটির মধ্যে একটি ব্ল্যাক বক্সের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সেটি অক্ষত আছে। দ্বিতীয় ব্ল্যাক বক্সটির হদিশ এখনও পাওয়া যায়নি। বিমানের পিছনের দিকের ব্ল্যাক বক্সটির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সেটা খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই ডিজিসিআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেলের কাছে ওই ব্ল্যাক বক্সটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটি খতিয়ে দেখলেই দুর্ঘটনার কারণ, শেষ মুহূর্তে কী হয়েছিল, সবটা জানা যেতে পারে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ভিতরের শেষ কথা।

সতর্কতামূলক অ্যালার্ম। এবং উড়ানের পথের তথ্য সংরক্ষণ। সবই রয়েছে ব্ল‍্যাক বক্স-এ। সামনের দিকের ব্ল্যাক বক্সের হদিশ এখনও পাওয়া যায়নি। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা, তা জানতে এখন নজর, কমলা রঙের ওই মেটালিক বক্সের দিকে। যা আসলে ‘ব্ল‍্যাক বক্স’ নামেই পরিচিত। বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ এই ‘ব্ল‍্যাক বক্স’। সব প্লেনেই দু’রকমের ব্ল‍্যাক বক্স রাখা থাকে। এটাই নিয়ম। একটি ককপিট ভয়েস রেকর্ডার সিভিআর। অপরটি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এফডিআর। কোনও দুর্ঘটনা হলে এই দুই রেকর্ডিং থেকে কী ঘটেছিল সেটার একটা ছবি ভেসে ওঠে তদন্তকারীদের সামনে। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ড থেকে পাওয়া যায় অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের হিসেব, কোনদিকে যাচ্ছিল বিমান, কত স্পিড ছিল এমন মোট ৮০ রকমের তথ্য পাওয়া যায়। বিমান দুর্ঘটনা মানেই ধ্বংসাবেশেষ। পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে কেন বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সমস্যা হয় তদন্তকারীদের। তা হলে উপায় কী? এই জন্যই আবিষ্কার হয়েছিল বিমানের ব্ল‍্যাক বক্স। এই বক্স আসলে দু’টি কমলা রঙের মেটালিক বাক্স। যার মধ্যে থাকে রেকর্ডার। ১৯৫০ সাল থেকে এই বক্স ব্যবহার করা চালু হয়। কোনও বিমান দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলে ঠিক কী কারণে বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তা আগে বোঝা সম্ভব হত না তদন্তকারীদের পক্ষে। দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানে কী হয়েছিল তাও জানা সম্ভব ছিল না। তাই এই ‘ব্ল‍্যাক বক্স’ ব্যবস্থা রাখা হয় বিমানে। প্রথমে মেটালিক স্ট্রিপে রেকর্ড হত বিমানের ভিতরের সব ঘটনা। যাতে জলে কিংবা আগুনের গ্রাসে পড়লেও নষ্ট না হয় তথ্য। পরবর্তীতে উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাগনেটিক ড্রাইভ এবং মেমরি চিপ রাখা হয় ব্ল‍্যাক বক্সে।

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই১৭১-র ভেঙে পড়া ভারতের উড়ান-ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ দুর্ঘটনা বলে চিহ্নিত হয়েছে। বিমানটি আমেরিকার বোয়িং সংস্থার তৈরি ‘৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার’ শ্রেণির। এই প্রথম বার বড় দুর্ঘটনায় পড়ল ড্রিমলাইনার। তবে অতীতে এই মডেলটির ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ একাধিক বার আলোচনায় এসেছে। এই মডেলটির উড়ান শুরু হয়েছিল ১৮ বছর আগে, ২০০৭ সালে। ভেঙে পড়া ড্রিমলাইনারটিও প্রায় ১২ বছরের পুরনো। বাজারে আনার সময় বোয়িং দাবি করেছিল, তৈরি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার পৃথিবীর নিরাপদতম বিমান। কিন্তু ২০০৯ সালে প্রথম দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আপৎকালীন অবতরণে বাধ্য হয়েছিল। আহমদাবাদে এই মডেলের বিমানের ষষ্ঠ দুর্ঘটনা। বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদের অধিকাংশের লাশই চেনা যাচ্ছে না। দ্রুত তা শনাক্ত করার জন্য পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা চেয়েছে গুজরাত প্রশাসন। আহমদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিএনএ নমুনা দিতে বলা হয়েছে। দেহ শনাক্তকরণের কাজ দ্রুত সম্ভব হবে, জানিয়ে গুজরাতের স্বাস্থ্য দফতরের সহকারী মুখ্যসচিব ধনঞ্জয় দ্বিবেদী বলেন, ‘‘যাঁদের আত্মীয়, নিকটজনেরা দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে ছিলেন, তাঁদের অনুরোধ করা হচ্ছে, বিজে মেডিক্যাল কলেজে এসে ডিএনএ নমুনা দিয়ে যান। যাতে মৃতদেহগুলি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।’’ বিমানবন্দরের অদূরে বিজে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাসের উপর ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জন ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত আরও অনেকে। প্রাণে বাঁচার জন্য তিনতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপও দিয়েছেন এক জন। ঘটনার পরের কিছু ছবিতে হস্টেলের ক্যান্টিনের, যেখানে আবাসিকেরা খাবার খান, বিধ্বস্ত চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেখা গিয়েছে, বহু বেঞ্চ ভেঙে পড়ে রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে থালায় সাজানো খাবার। মেস তছনছ হয়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে দেওয়ালও। অনেকেই সেই সময়ে খাওয়া দাওয়া সারছিলেন। কমপক্ষে ৩১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles