দুপক্ষ এক। আমি থেকে আমরা! তা অবশ্যই মোহনবাগানের উন্নতির স্বার্থেই। মোহনবাগানের সেরা একাদশ তৈরী হওয়ার পথে। সচিব পদে মনোনয়ন জমা দিলেন সৃঞ্জয় বোস। দেননি দেবাশিস দত্ত। আপাতত মোহনবাগান ম্যাচ ড্র! সচিব পদে সৃঞ্জয়, সভাপতি দেবাশিস। কয়েক সপ্তাহ মোহনবাগানের নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ। সমাপ্তি হল সোম। সচিব পদে মনোনয়ন জমা দিলেন সৃঞ্জয় বসু। দেবাশিস দত্ত মনোনয়ন দেননি। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসাবে নির্বাচত হবেন স্বয়ং দেবাশিস? ক্লাব চত্বরে দেবাশিস দত্তের সঙ্গে যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে টুম্পাই বোসের ঘোষণা, মোহনবাগানের উন্নতির স্বার্থেই দুপক্ষ এক হচ্ছেন। এবং যে কমিটি তৈরি হবে, তা মোহনবাগানের সেরা একাদশ হিসেবে কাজ করবে। মোহনবাগানের নির্বাচন ঘিরে উত্তাপের পারদ নামল চড়চড়িয়ে। সচিব পদে মনোনয়ন জমা দিলেন সৃঞ্জয় বসু। বিকেল পাঁচটা নাগাদ সচিব পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অনেক আগেই ক্লাবে চলে এলেও দেবাশিস দত্ত কিন্তু মনোনয়ন দেননি। দুই শিবিরের মধ্যে যে সমঝোতা? এটা কয়েক দিন ধরেই ঠাহর করেছিলেন যাচ্ছিল। মোহনবাগান নির্বাচন ঘিরে সৃঞ্জয় বোস ও দেবাশিস দত্ত আলাদা করে প্রচার চালাচ্ছিলেন। সৃঞ্জয় বোসের সচিব হওয়া কার্যত নিশ্চিত। সভাপতি হতে পারেন দেবাশিস দত্ত। আপাতত দুজনেই স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। কারণ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, সেটা মনে করিয়ে দেন দুজনেই।

নিজেদের সমর্থনে সৃঞ্জয় এবং দেবাশিসদের ক্রমাগত নির্বাচনী সভা। নির্বাচন উপলক্ষে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে সভা করেন সৃঞ্জয় বোস। একই ভাবে প্রচার করেন দেবাশিস দত্তও। একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চলে যাচ্ছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ে। তাহলে কি রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের পরামর্শেই দু’জনের মধ্যে সমঝোতা? সাংবাদিক বৈঠকে দেবাশিস বলেন, “একেবারেই নয়। মোহনবাগান ক্লাব সমাজের সবচেয়ে বড় প্রতিচ্ছবি। এই ক্লাবের সঙ্গে প্রচুর রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত রয়েছেন। কাউকে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক হিসাবে দেখতে চাই। আমাদের কাছে সবাই মোহনবাগানি। আমরা সেরা কর্মকর্তাদের নিয়ে সেরা দল তৈরি করব। যা আগামী সময়ে সাফল্যের ধ্বজা ওড়াবে। আমরা আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দেব। আমরা যেভাবে সমর্থকদের সমস্যা-অভিযোগ জেনেছি, সেটা মাথায় রেখেই কাজ করব।”

সৃঞ্জয় বোস বলেন, “আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গিয়েছিলাম। সব জায়গায় গণতন্ত্র থাকা ভালো। আমরা প্রচুর সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের সমস্যা-অভিযোগ জেনে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি। গণতন্ত্র না থাকলে সমর্থকদের সঙ্গে সেই যোগাযোগটাই থাকে না। সমর্থকদের সঙ্গে জনসংযোগই আসল কথা। দু’পক্ষই সদস্য-সমর্থকদের কাছে গিয়েছি। তাঁদের কথা শুনেছি। আমরা মোহনবাগানের সেরা একাদশ হয়ে সমর্থকদের চাহিদা পূরণ করব। এই দুটো কমিটি আগেও একসঙ্গে কাজ করেছে। এটা আমাদের কাছেও চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্য মোহনবাগান ক্লাবের ভালো। সেই জন্য আমরা একত্রিত হয়েছি। আমাদের নতুন যে কমিটি হবে, তা শ্রেষ্ঠ মোহনবাগান একাদশ হবে।”

আমাদের কাছে সবাই মোহনবাগানি। এই বার্তাতেই, দেবাশিসকে হাসতে হাসতে মোহনবাগান ক্লাবে ঢুকতে দেখা যায়। সাংবাদিক এবং সদস্য-সমর্থকদের সঙ্গে মজাও করেন। ২০ মিনিট পরে ক্লাবে ঢোকা সৃঞ্জয়ের মনোনয়ন দিতে যাওয়ার সময় পাশেই ছিলেন দেবাশিস। দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা, মজা করে হাসিতে মজেছিলেন একে অপরের প্রতি। মোহনবাগানে এ দিনই ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়া শেষ দিন। সমঝোতা আগেই হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ক্লাবে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য প্রচুর পুলিশ মোতায়েন। ক্লাবের আশেপাশেই ছিলেন। মোহনবাগান ক্লাবে সভাপতি পদে নির্বাচন হওয়ার রীতি নেই। আপাতত দেবাশিসকে কোনও মনোনয়ন জমা দিতে দেখা যায়নি। সৃঞ্জয় যদি সচিব নির্বাচিত হলে তাঁর নেতৃত্বে একটি কার্যকরী কমিটি তৈরি হবে। সেই কমিটি দেবাশিসকে নতুন সভাপতি হিসাবে বেছে নেবে। অর্থাৎ স্বপন সাধন (টুটু) বসু আর সভাপতি হচ্ছেন না। সহ-সভাপতিদেরও বেছে নেবে নতুন কার্যকরী কমিটিই।

সোমবার মোট ২২টি পদের জন্য মনোনয়ন দাখিল করেন সদস্যেরা। জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলি খতিয়ে দেখা হবে ১০ এবং ১১ জুন। কোনও প্রার্থী যদি মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে চান তা হলে ১২ এবং ১৩ জুন সেটা করতে পারবেন। তার পরেও একটি পদের জন্য একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে। মনোনয়ন জমা পড়েছে সচিব পদে সৃঞ্জয় বোস, সহ-সচিব সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্থ-সচিব সুরজিৎ বসু, মাঠ-সচিব শ্বাশ্বত বসু, ফুটবল-সচিব স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্রিকেট-সচিব সম্রাট ভৌমিক, হকি-সচিব শ্যামল মিত্র, টেনিস-সচিব সিদ্ধার্থ রায়, যুব ফুটবল-সচিব শিল্টন পাল। কর্মসমিতির পদে মনোনয়ন দিয়েছেন মুকুল সিনহা, সোহিনী মিত্র চৌবে, সোমেশ্বর বাগুই, কাশীনাথ দাস, দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সুদীপ্ত ঘোষ, দেবজ্যোতি বসু, রঞ্জন বসু, পার্থজিৎ দাস, সঞ্জয় মজুমদার এবং অনুপম সাহু।

সৃঞ্জয় ও দেবাশিস। যৌথ সাংবাদিক বৈঠক। দেবাশিস বলেন, “মোহনবাগান ক্লাবের ভালর জন্যই দুই পক্ষ নিজেদের মতো করে লড়াইয়ে নেমেছিল। তবে এমন কিছু ঘটনা হয়েছে যা মোহনবাগানের ঐতিহ্যের সঙ্গে মেলে না। দু’পক্ষের ক্ষেত্রেই হয়েছে। সৃঞ্জয় আমার অত্যন্ত ভাল বন্ধু। একসঙ্গে বহু কাল কাজ করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে দু’জনে বৈঠকে বসেছি। আমি সৃঞ্জয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। ও-ও মোহনবাগানের স্বার্থের কথা ভেবেছে, আমিও তাই। নতুন কমিটি মোহনবাগানকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। আজকের পর থেকে এই পক্ষ-ওই পক্ষ বলে কিছু থাকল না। আমরা একটাই দল, মোহনবাগান। সকলে একসঙ্গে মিলে কাজ করব। দু’পক্ষই যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তিনি সচিব হলে তার সবই পূর্ণ করার চেষ্টা করা হবে। নয়া কমিটিতে দু’জন প্রাক্তন ফুটবলার, সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও শিলটন থাকবেন। অর্থাৎ নিজের প্যানেলে সৃঞ্জয় বোস ইতিমধ্যেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। আমার মনে হয় সব জায়গায় গণতন্ত্র থাকা দরকার। আমরা সেরা কর্মকর্তাদের নিয়ে সেরা দল তৈরি করব। যা আগামী সময়ে সাফল্যের ধ্বজা ওড়াবে। আমরা আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দেব।”

সৌমিক বসু বলেন, ‘হাতে হাত যখন রেখেছে, মালা বদল হবেই।’ এটা বলার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে দেখা গেল সেই অভিনব দৃশ্য। হল মালাবদলও। একজন সদস্য দুই কর্তাকে একটি বিরাট গোলাপের মালা পরিয়ে দেয়। ২২ জনের প্যানেল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়নি। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, সভাপতি হচ্ছেন দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বসু। টুটু বসু কি তাহলে কোনও পদেই থাকবেন না? উত্তরে দেবাশিস দত্ত জানান, ‘টুটু বসু পদে থাকুন বা না থাকুন, উনি চিরকাল থাকবেন।’ ১৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হতে পারে মোহনবাগানের নতুন কমিটি। হাতে হাত রেখেছেন। মালা বদল হবেই। বাগানে মিলে গেল দুই পক্ষ। মোহনবাগান নির্বাচন নিয়ে জলঘোলা শেষ। প্রায় দু’মাস কাদা ছোড়াছুড়ির অবসান। মোহনবাগানের শাসক এবং বিরোধী গোষ্ঠী। মিলে গেল দুই পক্ষ।




