Friday, July 10, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এ কেমন বিজয় উৎসব!‌ প্রাণহানিকর উচ্ছ্বাস!‌ বিশ্বের কোটিপতি লিগের বিজয়োল্লাসেই তরতাজা প্রাণ কাড়া খেলা!‌

ক্রিকেট থেকে ফুটবল মর্মান্তিক ঘটনার দৃষ্টান্ত আইপিএল, ইপিএল থেকে চ্যাম্পিয়ান্স লিগ?‌ আইপিএল, ইপিএল ও সিএল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। বিশ্বের তিন জনপ্রিয় লিগ। ফুটবল এবং ক্রিকেটের। জনপ্রিয়তার নিরিখে তিন লিগের বিশ্বব্যাপী কদর রয়েছে। পৃথিবীর তিন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় লিগ সাদৃশ্য সুখের নয়। বিষাদের গদ্য রচনা করে। বিশ্বের তিন প্রান্তে তিন মর্মান্তিক ঘটনা। প্রথম ঘটনা লিভারপুলের বিজয়যাত্রার। সেলিব্রেশন চলাকালীন আচমকা দ্রুতগতিতে একটি গাড়ি এসে প্রায় ৫০ জনকে ধাক্কা মারে। ইপিএল চ্যাম্পিয়নদের বিজয় শোভাযাত্রা ঘিরে আতঙ্কের পরিস্থিতি। বহুদিন পর চ্যাম্পিয়ন ‘রেডস’দের শোভাযাত্রায় আলাদা উন্মাদনা। ফুটবলার, কোচ-সহ প্রত্যেককে নিয়ে হুডখোলা বাসে চেপে শহরের রাস্তায় ঘোরার কথা ছিল ইপিএল চ্যাম্পিয়নদের। বহু মানুষ চ্যাম্পিয়ন দলকে বরণ করে নেওয়ার জন্য মাঠে নেমেই বিপত্তি। ২৭ জনকে ভর্তি হতে হয়েছিল হাসপাতালে। চার শিশুও ছিল। উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারও। তবে, পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। গ্রেফতার ৫৩ বছর বয়সি গাড়ি চালক। প্যারিস স্যঁ জ্যঁ-র বিজয় উদযাপনে। ইতিহাসের প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ। প্যারিসে বিজয় শোভাযাত্রা বের করেন পিএসজি সমর্থকরা। রাস্তায় নেমে নাচে গানে বাজনায় আনন্দোৎসবে ক্লাব সমর্থকরা। বিশাল যানজট। গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান এক মোটরবাইক আরোহী। ভিড়ের মধ্যে ১৭ বছরের এক কিশোরকে মারা হয়। গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। উন্মত্ত ঘটনার জেরে ৫৫০ জন গ্রেফতার। মিউনিখের স্টেডিয়ামে, ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে পিএসজি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই দর্শক উন্মত্ততার ঘটনা। পিএসজি সমর্থকরা নিরাপত্তা অমান্য করে ফেন্সিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়ে। গোটা মাঠের দখল করে উন্মত্ততায় মেতে কেউ ছিঁড়ল ঘাস, কেউ জাল ও মাটিও খুবলে নেয়। সামাল দিতে জার্মান পুলিশ দিশেহারা।

সর্বশেষ মর্মান্তিক পরিণতি আইপিএল দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিজয় মিছিলে। আইপিএল শিরোপা জয়ের পরের দিন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আরসিবি বরণপর্ব। ১৮ বছরের আইপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু। চ্যাম্পিয়ন দলকে দেখার উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। স্টেডিয়ামে আরসিবি বন্দনা। বাইরে পদপিষ্টের ঘটনায় ১১ জন প্রাণহানি। আহত ৫০-এর বেশি। স্টেডিয়ামে ঢোকার জন্য দেওয়া হয়েছিল পাস। জয়ী দলকে দেখবে বলে বহু সমর্থক হাজির। তখনই বিপত্তি। ভিড়ের মধ্যে আচমকা পদপিষ্টের ঘটনা। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের সামনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১১ জনেরই বয়স চল্লিশের নিচে। ৩ জন নাবালক। দুর্ঘটনার পর মৃতদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ৩ জনের বয়স উনিশের কম। ৬ জনের বয়স ২০-৩০ বছরের মধ্যে। দুজনের বয়স তিরিশের বেশি। পুলিশ জানায়, মৃতদের মধ্যে একজন ১৩ বছরের নাবালিকাও রয়েছে। মৃতদের নাম ডোরেশা (৩২ বছর), ভূমিকা (২০ বছর), সাহানা (২৫ বছর), অক্ষতা (২৭ বছর), মনোজ (৩৩ বছর), শ্রাবণ (২০ বছর), দেবী (২৯ বছর), শিবলিঙ্গ (১৭ বছর), চিন্ময়ী (১৯ বছর), প্রজ্জ্বল (২০ বছর)। কোহলিয়ানার সেলিব্রেশন চাক্ষুষ করতে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে পালে-পালে জনতা জড়ো হচ্ছিলেন। সেই ভিড়ের অধিকাংশই ছিল কমবয়সি। দুর্ঘটনায় চলে গিয়েছে ওই তাজা প্রাণগুলিও। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৩ হাজার। কিন্তু সেখানে দু’তিন লক্ষের বেশি মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। স্টেডিয়াম চত্বরে ছিল প্রায় পাঁচ হাজার নিরাপত্তারক্ষী। এত ভারী সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী থাকার পরেও কেন এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠছে, স্টেডিয়ামের বাইরে যখন স্বজনহারাদের কান্না, তখন ভিতরে আরসিবি দলের জন্য ভিক্ট্রি ল্যাপ চলছে। ক্রিকেটারদের কাছে কি কোনও খবর পৌঁছয়নি? প্রশাসনই বা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সেলিব্রেশন জারি রাখার অনুমতি দিল কীভাবে? পরে অবশ্য প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে বিরাট কোহলি-সহ গোটা আরসিবি দল। মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। যদিও এতেও বিতর্ক থামছে না। কীভাবে প্রায় ২ লক্ষ সমর্থক ৩৩ হাজার ধারণক্ষমতা যুক্ত চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামমুখো হয়েছিলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আসলে হাজারো প্রশ্নের ভিড়েও খেলাটাই মাঝেমাঝে রক্তাক্ত হয়। বিশ্বের যেকোনও প্রান্তেই হোক না কেন, তা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়, তা সামাল দেওয়ার জন্য মোতায়েন ছিল মাত্র ৫ হাজার পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের তোয়াক্কা না করেই ভিড় এগিয়েছে। পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে, তখন সামান্য লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে যে ড্রেনগুলি রয়েছে, তার উপরে অস্থায়ী বা কাচা সিমেন্টের স্ল্যাব রাখা ছিল। ৪টে ৪৫ মিনিট নাগাদ তখন স্টেডিয়ামের গেটের কাছে তুমুল ভিড়। সেই সময়ই ভিড়ের চাপে একটি স্ল্যাব ভেঙে যায়। ড্রেনে পড়ে যায় কয়েকজন। এখান থেকেই প্রথম হুড়োহুড়ি শুরু হয়, যা থেকে পদপিষ্ট হয়। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে লাখ লাখ আরসিবি সমর্থক জড়ো হয়েছিল। স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথ যথেষ্ট সরু ছিল। আরসিবি সমর্থকরা ৫ এবং ৬ নম্বর গেট দিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের দাবি জানাচ্ছিলেন। পরে কয়েকজন ৬ নম্বর গেট বেয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই সময় এক যুবক পড়ে যান এবং তার পা ভেঙে যায়। ১৮ নম্বর গেটের কাছেও কয়েকজন ভিড়ের চাপে পদদলিত হন। অনেকে গুরুতর আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে। ১২ নম্বর গেটে ভক্তদের সংখ্যা বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্টেডিয়ামের কর্মীরা গেট খুলে ভক্তদের প্রবেশ করতে দেয়। আগত আরসিবি ভক্তরা হঠাৎ ব্যারিকেড ঠেলে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে শুরু করে, যার ফলে পদপিষ্ট হন বেশ কয়েকজন। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া নিজেই বলেছেন যে স্টেডিয়ামের বাইরে ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল। যেখানে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৫ হাজার। প্রশ্ন উঠেছে, যে সরকার বিশাল জনসমাগমের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত ছিল না?

প্রাক্তন ক্রিকেটার অতুল ওয়াসনের বিশ্বাস, কোহলি এই ব্যাপারে জানতেন না। ওয়াসন বলেন, “আমি বিশ্বাসই করি না যে, কোহলি জানত বাইরে লোক মারা গিয়েছে এবং ভিতরে উৎসব চলছে।” তাঁর মতে, আয়োজক এবং কর্নাটক সরকারের মন্ত্রীরা হয়তো জানতেন, কিন্তু কোহলি নন। ওয়াসন বলেন, “রাজনৈতিক নেতারা হৃদয়হীন হয়। ওদের চামড়া মোটা। ফ্র্যাঞ্চাইজ়িগুলোরও তাই। ওদের শুধু নজর থাকে লাভ-ক্ষতির হিসাবে। ওদের দেখাতে হবে কত লাভ হয়েছে। ওরা জানলেও জানতে পারে। কোহলি যদি জানত তা হলে সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছেড়ে চলে যেত। আমি বিশ্বাস করি না, কোহলি সব কিছু জেনেও মাঠে ছিল।” ফাইনালের নায়ক বুধবারের ঘটনার পর রাতে আরসিবির বিবৃতি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে লিখেছিলেন, “ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।” ৬ ঘণ্টা পর আরসিবি কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানান, পদপিষ্টের খবর তাঁরা প্রথমে জানতেন না। বেঙ্গালুরু জানিয়েছে, “বেঙ্গালুরুতে গতকাল যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে তাতে আরসিবি পরিবার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।” কোহলিদের দল আরও জানিয়েছে, “আরসিবি কেয়ার নামে একটা ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। তার মাধ্যমে দুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্য করা হবে। সমর্থকেরা আমাদের দলের প্রাণ। এই সময়ে আমরা সকলে একসঙ্গে রয়েছি। বিকালে দলের ফেরা উপলক্ষে বিশাল জনসমাগম হয়েছিল বেঙ্গালুরু জুড়ে। আমরা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরেছি, সেই জমায়েতে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আমরা গভীর ভাবে মর্মাহত। সকলের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরসিবি কর্তৃপক্ষ মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি আমরা। ঘটনার কথা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত কর্মসূচি পরিবর্তন করেছি। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ এবং পরামর্শ মতো পদক্ষেপ করেছি। আমাদের সব সমর্থককে নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।” চিন্নাস্বামীতে অনুষ্ঠানের আয়োজক কর্নাটকের ক্রিকেট সংস্থা মৃতদের পরিবার প্রতি ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। কেএসসিএ কর্তৃপক্ষের বিবৃতি, ‘‘প্রিয়জনকে হারানো পরিবারগুলির জন্য আরসিবি এবং কেএসসিএ যৌথ ভাবে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করছে। আমাদের আশা, শোকের সময় এই পদক্ষেপ তাঁদের জন্য কিছুটা সহায়ক হবে। তাঁরা হয়তো কিছুটা সান্ত্বনা পাবেন। এই ক্ষতিপূরণ কখনও মানুষের জীবনের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। তেমন উদ্দেশ্যও নেই আমাদের। এই কঠিন সময়ে আমরা শুধু পরিবারগুলির পাশে থাকতে চাইছি। আশা করি আমাদের অবস্থান সকলে বুঝতে পারবেন।’’ মৃতদের পরিবারগুলিকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।

রাস্তায় আহত হয়ে পড়ে থাকা সমর্থকেরা প্রথমে স্টেডিয়ামের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ, অ্যাম্বুল্যান্স চিন্নাস্বামীর ভিতরেই ছিল। কিন্তু মাত্র দু’টি অ্যাম্বুল্যান্স থাকায় অনেককেই নেওয়া যায়নি। যাঁদের তোলা যায়নি তাঁদের কাঁধে বা কোলে নিয়ে স্টেডিয়াম থেকে বেরোন নিরাপত্তারক্ষীরা। লক্ষ্য ছিল, রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করানো হবে এবং আহতদের সেই গাড়িতে হাসপাতালে পাঠানো হবে। স্টেডিয়ামের আশেপাশে সব রাস্তাই অনুষ্ঠানের জন্য দুপুর থেকে বন্ধ ছিল। তাই কাঁধে বা কোলে করে আহতদের প্রায় ৫০০ মিটার নিয়ে যেতে হয়। সেখান থেকে গাড়ি করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আরসিবির জয়ের সেলিব্রেশনে পদপিষ্ট হয়ে সমর্থকদের মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। সাসপেন্ড করলেন বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনারকে। পাশাপাশি বেঙ্গালুরু পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তাকেও বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। আরসিবির প্রতিনিধি, কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কর্তাদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ। সেই সঙ্গে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়ে সিদ্দারামাইয়া বলেন, ”এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা যেখানে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৭ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের সকলকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জন মাইকেল ডি’কুনহার তত্ত্বাবধানে একটি কমিশনও গঠন করা হবে। আমরা মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে জড়িত সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের গ্রেপ্তার করা হবে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে।” ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আহতের সংখ্যা ৪৭ বলে জানা গেলেও সিদ্দারামাইয়ার দাবি সংখ্যাটা ৩৭। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গোটা ক্রিকেট বিশ্ব স্তব্ধ। কর্নাটক সরকার পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় যে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সেই তদন্তের আওতায় আসছে আরসিবিও। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, পুলিশের অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও ফ্র্যাঞ্চাইজির সোশাল মিডিয়া পোস্টে কেন বিজয় মিছিলের কথা ঘোষণা করা হল? ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত হিসাবে আরসিবি ও কেএসসিএ-র নাম উল্লিখিত।

পুলিশ আধিকারিকদের কথায়, “আমরা মঙ্গলবার রাত থেকেই আরসিবি ম্যানেজমেন্ট এবং সরকারকে অনুরোধ করতে শুরু করেছিলাম, যাতে বুধবার কোনও অনুষ্ঠান না করা হয়। পরের রবিবার আয়োজন করতে বলা হয়েছিল। তত দিনে মানুষের আবেগ একটু হলেও ঠান্ডা হত। শোভাযাত্রা নিয়েও আপত্তি তুলেছিলাম আমরা। পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে কোনও একটি জায়গায় সংগঠিত ভাবে অনুষ্ঠান করার।” আরসিবি সেই পরিকল্পনায় রাজি হয়নি। জানিয়েছিল, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কারণে এমনিতেই সূচি এক সপ্তাহ পিছিয়ে গিয়েছে। রবিবার অনুষ্ঠান করা হলে অনেক বিদেশি ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে না। তাই বুধবারই এই অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চেয়ে অনুমতি মিলেছিল সরকারেরও। তাদের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের ক্রিকেট দলের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই ফাঁকে জনপ্রিয়তা কিছুটা বাড়িয়ে নিতে চেয়েছিল তারা। সরকার রাজি না হলে তখন অন্য সমস্যা তৈরি হত। বেঙ্গালুরুর ঘটনা ‘চোখ খুলে দেওয়ার’ মতো বলে দাবি করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইএর সচিব দেবজিৎ শইকীয়া। আইপিএল জিতলেই এ বার থেকে যেমন খুশি অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। এ ব্যাপারে শীঘ্রই নির্দেশিকা আনতে চলেছে বোর্ড। আইপিএল ফাইনাল আয়োজন করা পর্যন্ত যাবতীয় দায়িত্ব থাকে বোর্ডের। জয়ী দল কী ভাবে ট্রফি নিয়ে উৎসব করবে সেটার দায়িত্ব থাকে তাদের উপরেই। বেঙ্গালুরু কাণ্ডের পর এ বার জয়ের উৎসবেও রাশ টানতে চাইছে বোর্ড। শইকীয়া বলেছেন, “চোখ খুলে দেওয়ার মতো ঘটনা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী করা দরকার সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। প্রতি বছরই কেউ না কেউ জিতবে। প্রতি বছরই উৎসব হবে তাদের শহরে। তাই ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার জন্য শিক্ষা নিতে হবে। এই মুহূর্তে কোনও দলের উৎসবের সঙ্গে বোর্ডের কোনও যোগাযোগ নেই। মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন এক লক্ষ ৩২ হাজার দর্শক (আদতে ৯১ হাজারের কাছাকাছি)। নিরাপত্তা এবং দর্শকদের সামলানোর ব্যাপারে ছোটখাটো ঘটনাতেও আমরা নজর দিয়েছি। একটাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সব নিয়ন্ত্রণে ছিল। বেঙ্গালুরুতে যা হয়েছে তাতে বোর্ডের কোনও ভূমিকা নেই।” আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব কাদের ছিল সেটা তাঁরা জানেন না। ধুমলের কথায়, “গোটা ঘটনা আমরা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভবিষ্যতে এমন হওয়া চলবে না। ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রা বা বেঙ্গালুরুতে কোথায় উৎসব হবে, এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। কারা আয়োজন করেছে, কী ভাবে অত মানুষ এল ওখানে, পুরোটাই আমাদের অজানা।”

ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর বলেন, জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একথা আমি ভবিষ্যতেও বলব। আগামিদিনে এমন ধরনের রোড শোগুলো করার ব্যাপারে আমাদের আরও একটু সচেতন হওয়া উচিত। এই ব্যাপারে আমরা সম্ভবত কিছুটা সচেতন হতেই পারি। রুদ্ধদ্বার অথবা কোনও স্টেডিয়ামের মধ্যে আমরা উদযাপন করতে পারি। যা ঘটেছে তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। যাঁরা প্রাণ হারালেন তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার হৃদয় শোকে পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। আমার মতে, রোড শো করার কোনও দরকারই ছিল না।বলতে পারব না ফ্যানদের সংখ্যা আগের থেকে বেড়েছে কিনা। কেবল এটুকুই বলব, সকলকেই দায়িত্ববান নাগরিক হয়ে উঠতে হবে। কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিই হোক বা যে কেউ, সকলকেই। প্রতিটি জীবন মূল্যবান। যদি রোড শো করার ক্ষমতা না থাকে তাহলে করার দরকার নেই। আমি জানি যে, ফ্যানরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আবেগ বাড়ে। কিন্তু কাল যা হয়েছে তার সঙ্গে আগের কোনও কিছুর তুলনা চলে না। এখানে বসে বসে তো আর আমি বলতে পারি না কার জন্য এমন হল। তবে জয় গুরুত্বপূর্ণ। উদযাপনও। কিন্তু সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ মানুষের প্রাণ।” তদন্তকারীদের প্রশ্ন, পুলিশের অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও ফ্র্যাঞ্চাইজির সোশাল মিডিয়া পোস্টে কেন বিজয় মিছিলের কথা ঘোষণা করা হল?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles