কলকাতার বিরুদ্ধে রবিবার ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস। কেকেআরের কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের পা ছুঁয়ে প্রণাম করল বৈভব। এক বার নয়, দু’বার। প্লে অফের লড়াইয়ে নেই রাজস্থান। নাইটদের কাছে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। গত ম্যাচে শূন্য করা বৈভবের কামব্যাক নজরে। বৈভবের নজর নীতীশ রানার ব্যাটে। রাজস্থান রয়্যালসের ভিডিওয় দুজনের কথোপকথন। নীতীশ বলেন, “তোমাকে আমি পাঁচটা ব্যাট দেব। কিন্তু তারপর যেন তোর ব্যাটের সংখ্যা ১৪-র বেশি না হয়…” উত্তরে বৈভব বলে, “না, আমার একটাই ব্যাট চাই। যদি তাতে আমার বয়সের থেকে বেশি হয়ে গেলে, তুমি যাকে বলবে তাকেই ব্যাট দিয়ে দেব।” রানা বলেন, “আমার ব্যাট, আমি কী করব আমার ব্যাপার। তোকে দেব কেন? তোর কাছে ১০টা ব্যাট আছে না? ১০টা ব্যাট মানে অনেক কিন্তু। এত ব্যাট তো বিরাট ভাইয়ের কাছেও নেই।” ১৪ বছরের বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে প্রবল চর্চা ক্রিকেট মহলে। এক জন ক্রিকেটারের জন্য ইডেনের সামনে ভিড়। নাম ধরে চিৎকার। বাংলার বা কলকাতা নাইট রাইডার্সের কেউ নন। কলকাতার নজরে ১৪ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। ইডেনে বডিগার্ড বৈভবের জন্য। বৈভবের গা ঘেঁষে রাজস্থান রয়্যালস দলের এক জন সাজঘর থেকে বাস পর্যন্ত গেলেন। বৈভবের কাছে যাওয়া দূরের কথা।
কেকেআরের কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের পা ছুঁয়ে প্রণাম করল বৈভব। দু দু’বার। রাজস্থানের অনুশীলন শেষে মাঠ ছাড়ার আগে বৈভব দূর থেকে দেখতে পেয়েছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত কোচ পণ্ডিতকে। মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিজে এগিয়ে এসে পণ্ডিতের সামনে পৌঁছেই তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম। দু’-তিন মিনিট কথাও দু’জনের। কেকেআরের বিরুদ্ধে নামার আগে সেই দলের কোচের থেকেই পরামর্শ নিল বিহারের বৈভব। শনি দুপুরে ইডেনে অনুশীলন। প্রথমে ১৫ মিনিট থ্রো ডাউন। বার বার ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠৌর তার সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে দেন। থ্রো ডাউন পর্বের পর বৈভব কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে কথা বলেন। বৈভবের পিঠ চাপড়ে দিলেন দ্রাবিড়। ১৪ বছরের কিশোরের নেটে ব্যাট প্র্যাকটিসে কখনও পেসার, কখনও স্পিনার, কখনও থ্রো ডাউনে। ইডেনের গ্যালারিতেও বল ফেলল।
রবিবাসরীয় ক্রিকেটের নন্দনকাননে উপস্থিত থাকবেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবল কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। রাজস্থান রয়্যালসকে সমর্থন করবেন। জয়পুরের সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে বৈভব সূর্যবংশীদের জন্য গলা ফাটিয়েছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ম্যানেজার। পরনে ছিল গোলাপি জার্সি। সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। ৮ বছর ধরে ইংল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল টিমের দায়িত্ব সামলেছেন সাউথগেট। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটটাও ভালোবাসেন। সস্ত্রীক ভারত সফরে সাউথগেট। রাজস্থান রয়্যালসের প্রতি ভালোবাসা ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইও জেক লাশ ম্যাকরামের সূত্রে। জেকের সঙ্গে আবার ফুটবলের যোগ রয়েছে। ১০০ বছরেরও বেশি আগে তাঁর পূর্বসূরি উইলিয়াম ম্যাকরাম পেনাল্টি কিকের উদ্ভাবন করেন। রবিবার ইডেনে থাকবেন।
অজিঙ্ক রাহানে বনাম যশস্বী জয়সওয়াল। দু’জনেই মুম্বইয়ের ক্রিকেটার। আইপিএলে কেউ মুম্বইয়ের নন। যশস্বী দীর্ঘ দিন ধরে খেলেন রাজস্থান রয়্যালসে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক রাহানে। ২০২২ সালের দলীপ ট্রফির ম্যাচে যশস্বীকে মাঠ থেকে বার করে দিয়েছিলেন রাহানে। সেই ম্যাচে বিপক্ষের ক্রিকেটার রবি তেজাকে কটূক্তি করেছিলেন যশস্বী, যা পছন্দ হয়নি রাহানের। সেই কারণেই তিনি যশস্বীকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। নিজের দলের ক্রিকেটারকে এই ভাবে মাঠ থেকে বার করে দেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। রাহানের সঙ্গে তার পর থেকেই যশস্বীর সম্পর্ক খারাপ। আইপিএলে যশস্বী ভাল খেললেও দল ভাল খেলতে পারেনি। রাজস্থানের প্লে-অফের দৌড় শেষ হয়ে গিয়েছে। রাহানে অবশ্য কমলা টুপির দৌড়ে চার নম্বরে রয়েছেন। ১১টি ম্যাচে ৪৩৯ রান করেছেন। পাঁচটি অর্ধশতরান। ৪৩.৯০ গড় ও ১৫৪.০৩ স্ট্রাইক রেট। রাজস্থানের হয়ে সর্বাধিক রানের মালিক। বাকি তিনটি ম্যাচ সম্মানরক্ষার লড়াই।
অন্য দিকে কেকেআরের হয়ে এ বার সর্বাধিক রান রাহানের। ১০টি ম্যাচে ২৯৭ রান। ৩৭.১৩ গড় ও ১৪৯.২৪ স্ট্রাইক রেটে রান। তিনটি অর্ধশতরান রাহানের। যশস্বীর থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ব্যাটার রাহানে। কেকেআরও খুব ভাল জায়গায় নেই। প্লে-অফের দৌড়ে বাকি চারটি ম্যাচই জিততে হবে। বদলার সুযোগ রয়েছে যশস্বীর কাছে। রাহানেদের আইপিএল থেকে ছিটকে দেওয়ার সুযোগ। এ বার প্রথম বারের সাক্ষাতে গুয়াহাটির মাঠে কলকাতার কাছে হারতে হয়েছিল রাজস্থানকে। সেই হারের বদলা নেওয়ারও সুযোগ যশস্বীদের।




