Tuesday, June 30, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

একের পর এক ‘‌জোচ্চুরি’‌? ‌‘‌ধরা পড়ে গেছেন মমতা’!‌‌ রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হবেন চাকরিহারারা?‌ নিয়োগ দুর্নীতিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের দিনই জামিন প্রার্থণা পার্থ’‌র!‌ মমতা দোষ চাপালেন রাম বামের ঘাড়েই

‘‌ওই ভদ্রমহিলা আসলে জোচ্চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন। ব্যপক জোচ্চুরি করেছিলেন। ধরা পড়ে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টও বলেছে এখানে ব্যপক দুর্নীতি আছে। আমি তো মনে করি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ত্যাগ করা দরকার। আমাদের এক দফা এক দাবি এক মমতার পদত্যাগ। মমতা যদি তাড়াতাড়ি পদত্যাগ করেন তো ভালো নাহলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাড়াতাড়ি তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। এদের দুর্নীতির জন্য এত ছেলের সর্বনাশ হয়ে গেল। কিছু ছেলে যারা সঠিকভাবে চাকরি পেয়েছিল তাদেরটাও গেল। অথচ এটা আলাদা করা যেত। এটা আজও আলাদা করা যায়। আমরা ক্ষমতা পাই তাহলে আমরা করে দেখিয়ে দিতে পারি। এত বড় ধাক্কা এর আগে তিনি পাননি। তিনি বলতে চেয়েছিলেন কৌশল যেটা ছিল সাড়ে ৫ হাজার ৬ হাজারের মতো চাকরি কেনার বিষয়টি ধরতে পেরেছিলাম। আমার রায়ে তাদের বাদ দিয়েছিলাম। তারপর তাঁকে যারা অ্যাডভাইস দিলেন কিছু প্রাক্তন জজ আছেন আরও কয়েকজন আছেন তাদের নাম বলতে চাই না। অ্যাডভাইস করলেন আপনি যারা ঠিকভাবে চাকরি পেয়েছেন আর টাকা দিয়ে পেয়েছেন তাদের জটটা ছাড়াবেন না। এতে বাধ্য হবে সকলের চাকরি রেখে দিতে। কিন্তু তারা তো জানেন না যে কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে। আমাদের নেতা শুভেন্দু বাবু বলেছেন এদের এখনও ধরা যায়। কারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। এটা সুপ্রিম কোর্ট ধরা পড়েছেন।’‌ বিস্ফোরক প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

বহু সংসারে নেমে এসেছে অন্ধকার। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন অনেকেই। উত্তাল সৌস্যল মিডিয়া। আশঙ্কায় জনসাধারন। কেন কুমীরের কান্না করছেন! এতো চাকরি চুরি করে তৃণমূল এর নেতারা পকেট ভরল। সেটা নিয়ে চিন্তা তো হবেই। সামনে কঠিন দিন আসছে। নেতাদের চাকরি প্রার্থীরা রাস্তায় টেনে নামালো বলে। ভাবুন আপনার দল ও আপনার নেতানেত্রীরা কী করেছে। এই সব কিছুর জন্য দায়ী আপনিই। এত কষ্ট হলে রিজাইন দিন। মনোরঞ্জন ব্যাপারী। একদিকে তিনি বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক। অন্যদিকে তিনি সাহিত্যিক। তাঁর সাহিত্যের কদর রয়েছে দেশে বিদেশে। লড়াই করে বড় হওয়া মানুষ। সাদাকে সাদা কালো কালো বলেন এমনটাই সচরাচর দেখা যায়। এবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে বৃহস্পতিবার রাতে সোশ্য়াল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, এই রাতে ঘুম আমার ঘুম আসবে না। ২৬ হাজার মানুষ। ছাব্বিশ হাজার পরিবার। তাদের ভবিষ্যৎ ভেবে শিউরে উঠছি। আপনি মানুষ?‌ প্রশ্ন মানুষেরই!‌

‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে বড় সমস্যা, তিনি বলেন সিপিএম দোষী, বিজেপি দোষী, আদালত দোষী সবাইকে একটু একটু করে দোষের বোঝা ডিস্ট্রিবিউট করলেন। একবারও বলেন না, সরি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ ছিল। আমি ওঁনার থেকে একটা সরি আশা করেছিলাম। পরে বুঝলাম, ভুলের দায় স্বীকার করা ওঁনার রাজনীতির ডিকশনারিতে নেই। আর পার্থ। সরকারের ট্যাক্সের টাকায় জেলে বসে খাওয়া-দাওয়া করে চলেছেন এই কালপ্রিট। এক লাখ চার হাজার মানুষকে পথে বসিয়েছেন। কথায় কথায় তৃণমূলের লোকেরা রাজ্যে ক্রাইম হলেই এনকাউন্টারের দাবি তোলেন। আপনারা এক লক্ষ মানুষের আজকের এই অবস্থার জন্যে এই ব্যক্তির এনকাউন্টারের দাবি তুলবেন না?’ অভিনেতা তথা রাজনৈতিক বিশ্লেষক অরিত্র দত্ত বণিক স্পষ্ট বলেন।

নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল। ‘দায়’ পুরোপুরি বিজেপি এবং সিপিএমের উপরেই চাপিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়। নবান্নে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, শিক্ষাসচিব এবং রাজ্য সরকারের নিযুক্ত আইনজ্ঞদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে মমতা। বিরোধী দলের তিন সাংসদকে তোপ দাগলেন। একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপরেও। মমতার প্রশ্ন, কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাঁর ‘শাস্তি’ যদি বদলি হয়, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে এসএসএসি-র ক্ষেত্রেও সেই নীতি কেন নেওয়া হল না? আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি করিয়েছে! সিপিএম করিয়েছে। আমি অবাক হয়ে যাই! এখানে মামলাটা করেছিলেন কে? বিকাশবাবু সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি তো পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম আইনজীবী! তিনি কেন এখনও নোবেল পাচ্ছেন না আমি জানি না! পাওয়া উচিত। ভাবছি একটা সুপারিশ করব।’’ মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষের জবাব দিয়ে বিকাশ বলেন, ‘‘নোবেল দিলে দিক না! তবু তো একটা কিছু পেতে পারি। লোকে বিপদে পড়লে ঈশ্বরের নাম নেয়। তৃণমূল আমার নাম নিচ্ছে।’’ সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষিত হওয়ার পরেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে। সুকান্ত বলেছিলেন, ‘‘যোগ্য আর অযোগ্যদের মধ্যে ফারাক করা যায়নি বলেই সবার চাকরি চলে গেল। আদালত বার বার বলেছিল, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করে দিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কিছুতেই সেটা করেনি। সেই জন্যই চাকরি গিয়েছে। এত জনের চাকরি চলে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনারা প্রথমে যখন মামলা করলেন, তখন একবার ভেবে দেখলেন না, কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য? সেটা তো সরকারকে ভাবতেও দিলেন না। আপনারা নিজে যোগ্য তো?’’ সুকান্তের কথায়, ‘‘নিয়োগ দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে এর আগে একজন মুখ্যমন্ত্রী জেলে গিয়েছিলেন। তিনি হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, ওমপ্রকাশ চৌটালা। এ বার আরও একজন মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ দুর্নীতির দায়ে জেলে যাবেন। তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তাতে একা পার্থ চট্টোপাধ্যায় দায়ী হতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পুরো ক্যাবিনেটের জেলে থাকা উচিত।’’

তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কেও মুখ্যমন্ত্রী নিশানা করে বলেন, ‘‘হাই কোর্টে এই রায় প্রথম যিনি দিয়েছিলেন, তিনি এখন বিজেপির সাংসদ হয়েছেন। বিচারবিভাগ ছেড়ে দিয়ে বিজেপির সাংসদ হয়েছেন। গাঙ্গুলি না ডাঙ্গুলি! দুঃখিত, আমি ঠিক জানি না তাঁর আসল নামটা। পরে জেনে নেব। আজ তাঁরা কোন মুখে বড় বড় কথা বলেন? আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি করিয়েছে, সিপিএম করিয়েছে।আমার একটা প্রশ্ন আছে। আমি ভুল হতে পারি। কিন্তু আমার মনে এই প্রশ্নটা এসেছে। একজন বিচারকের বাড়ি থেকে যদি ১৫ কোটি টাকা পাওয়া যায়, যেটা জানতে পেরেছি এখনও, আর তার শাস্তি যদি বদলি হয়, তা হলে আমার এই ২৫ হাজার ভাইবোনকেও বদলি করতে পারত। আমি ভুল হতে পারি। কিন্তু এই দুটো বিষয়কে আমি মিলিয়েই দেখছি। যাঁদের (চাকরি) বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১১,৬১০ জন নবম এবং দশম শ্রেণিতে পড়াতেন। ৫,৫৯৬ জন একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াতেন। আপনারা জানেন, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা উচ্চশিক্ষার প্রবেশদ্বার (গেটওয়ে)। বাতিল হওয়া শিক্ষকদের অনেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখছিলেন। ২৫ হাজার শিক্ষককে বাদ দিয়ে দিলে পড়াবে কে? বিজেপি-সিপিএম কি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চাইছে? আপনাদের একবার লজ্জাও হল না? সিপিএম নিজের আমলে কী করতেন? চিরকুটে চাকরি দিতেন! কই তাদের তদন্ত তো হয় না! বিজেপির রাজ্যে তো তদন্ত হয় না! শুধু বাংলার ভাগ্যে দুর্ভোগ কেন থাকবে? বাংলায় জন্মানো কি অপরাধ? না কি বাংলার মেধাকে ওরা ভয় পায়?’’

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দাবি সিবিআইয়ের। ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট সেদিনই পার্থর জন্য আবার জামিনের আবেদন করলেন তাঁর আইনজীবী। পার্থর আইনজীবীর যুক্তি, ওএমআর শিট সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাই তাঁকে এবার জামিন দেওয়া হোক। যে কোন শর্তে জামিনের আর্জি জানিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী। ২৬ হাজারের চাকরি বাতিল হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের এসএসসি’‌র প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য তার পৃথকীকরণ সম্ভব নয় বলেই জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তার জেরেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চাকরিহারারা। এই রায় বের হওয়ার পরই আজ বিশেষ সিবিআই আদালতে জামিনের আবেদন করে বসেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর আইনজীবীর সওয়াল, ‘‌আমার মক্কেল নির্দোষ। যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়া হোক তাঁকে।’‌ যদিও আগে এই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ‘দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড’ বলেছিল সিবিআই। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর তৎকালীন অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি আদালতে দেওয়া গোপন জবানবন্দিতে বলেছিলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে তখন ওএমআর শিটের নথি নষ্ট করা হয়েছিল। আজ বিশেষ সিবিআই আদালতে পার্থর আইনজীবীর পাল্টা দাবি, এই বিষয়ে তাঁর মক্কেল কিছুই জানতেন না। আর ওএমআর শিটের বিষয়ে সিবিআই যে চার্জশিট দিয়েছিল তাতেও তাঁর মক্কেলের নাম ছিল না। তাই তাঁর দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই যে চার্জশিট দিয়েছে সেখানেও কোনও অভিযোগের উল্লেখ নেই। আজ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী আদালতে বলেন, ‘‌আমার মক্কেল ওএমআর শিট নষ্ট করেননি। ওএমআর শিট নষ্টের ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই।’‌

আগে একাধিকবার জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছেন। কিন্তু জামিন মেলেনি। এবার ওএমআর শিটকে হাতিয়ার করে পার্থর জামিনের পক্ষে সওয়াল করেছেন আইনজীবী। নিয়োগ মামলায় ইতিমধ্যেই অনেকে জামিন পেয়েছেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কেন এতদিনেও জামিন দেওয়া হচ্ছে না?‌ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামীর সওয়াল, ‘‌আমার মক্কেল আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। এই মামলায় পরে গ্রেফতার হয়েও অনেকে জামিন পেয়েছেন। সিবিআই আমার মক্কেলকে জেলে গিয়ে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। যে কোনও শর্তে তাই জামিন দেওয়া হোক।’‌ বিচারক শুভেন্দু সাহা প্রশ্ন করেন সিবিআইয়ের আইনজীবীকে, ‘‌আপনাদের নতুন করে কিছু বলার আছে?’‌ জবাবে সিবিআই আইনজীবীর বক্তব্য, ‘‌না আমাদের কিছু বলার নেই।’‌

স্কুল সার্ভিস কমিশনে এসএসসি ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা চাকরি পেয়েছিলেন। শুক্রবার থেকে স্কুলে যেতে পারবেন শুধু তাঁরাই। জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ। চাকরি গিয়েছে ২৫,৭৫২ জনের। প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের চাকরি অবশ্য থাকছে না। আদালত একমাত্র ক্যানসার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি বহাল রেখেছে। ‘বিশেষ ভাবে সক্ষম’ সকল প্রার্থীর চাকরিই বাতিল করা হয়েছে। চাকরি করতে পারবেন আগামী তিন মাস। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের চাকরি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা এই সময়ের বেতনও পাবেন। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলে তাঁদের চাকরি ‘বাতিল’ হিসাবে গণ্য হবে। প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা চাইলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন। আদালত বলেছে, ‘‘মানবিক কারণে সোমা দাসের চাকরি বহাল রাখা হচ্ছে। কিন্তু অন্য প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা এই সুবিধা পাবেন না। কারণ, তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। তবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং নিয়োগ সম্পূর্ণ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁদের চাকরি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই সময় পর্যন্ত তাঁরা বেতনও পাবেন। ওই প্রার্থীদের প্রতিবন্ধকতার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই প্রতিবন্ধী প্রার্থীরাও যোগ দিতে পারবেন। যদি প্রয়োজন হয়, তাঁরা বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন। অন্যান্য সুযোগসুবিধাও তাঁদের দেওয়া হবে।’’

এসএসসির নিয়োগে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে কলকাতা হাই কোর্ট আগেই ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের রায় দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়েছে, হাই কোর্টের সেই রায়ই বহাল রাখা হচ্ছে। তাতে সামান্য কিছু বদল আনা হচ্ছে মাত্র। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যথার্থ ভাবেই হাই কোর্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রশ্নাতীত ভাবে যাঁরা ‘অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত’ বা ‘দাগী’ (টেন্টেড), তাঁদের চাকরি বাতিলের সঙ্গে বেতনও ফেরত দিতে হবে। এই ধরনের প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। মূলত প্যানেল বহির্ভূত নিয়োগ, মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন যাঁরা, তাঁদের ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, সিবিআই যে সমস্ত সাদা খাতা উদ্ধার করেছে, তাঁরাও আদালতের চোখে ‘অযোগ্য’।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রশ্নাতীত ভাবে যাঁরা ‘অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত’ বা ‘দাগী’ (টেন্টেড), তাঁদের চাকরি বাতিলের সঙ্গে বেতনও ফেরত দিতে হবে। তাঁদের ক্ষেত্রে হাই কোর্টের রায় সম্পূর্ণ বহাল থাকছে। এই ধরনের প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে প্রচুর সাদা খাতা উদ্ধার করেছে সিবিআই। অর্থাৎ, কোনও প্রশ্নের উত্তর না-লিখে সাদা খাতা জমা দিয়েই তাঁরা পাশ করেছেন এবং চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা গিয়েছে। এসএসসির নিয়োগের জন্য যে প্যানেল গঠন করা হয়েছিল, চাকরিপ্রাপকদের অনেকের নামই ছিল না সেই প্যানেলে। অর্থাৎ, প্যানেলের বাইরে থেকে তাঁরা চাকরি পেয়েছেন। তাঁদেরও ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসএসসির নিয়োগ প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কেউ কেউ তার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। তাঁরাও আদালতের চোখে ‘অযোগ্য’ হিসাবে চিহ্নিত। মূলত এই তিন ধরনের চাকরিপ্রাপক ‘চিহ্নিত অযোগ্য’। তাঁদের চাকরি তো বাতিল হলই, সেই সঙ্গে বেতন ফেরতেরও নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।

২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলার অন্যতম প্রধান জটিলতা ছিল ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ বাছাই। আদালত জানিয়েছে, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কারচুপি নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। উদ্ধার করা যায়নি উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট। তার ফলে অধিকাংশ ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ প্রার্থীকে চিহ্নিতই করা সম্ভব না হওয়ায় সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা। আদালত জানিয়েছে, যাঁদের চিহ্নিত করা যায়নি, তাঁদের বেতন ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে তাঁদের চাকরি বাতিল হবে। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, ‘‘অবৈধতার জন্য সমগ্র নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্ত যথার্থ। এই নিয়োগ ভারতীয় সংবিধানের ১৪ এবং ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের বিরোধী। যে প্রার্থীদের অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা যায়নি, তাঁদের নিয়োগ বাতিল হবে। কিন্তু তাঁদের কোনও বেতন ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’’ এসএসসির দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পর অপেক্ষমাণ তালিকার প্রার্থীদের ওয়েটলিস্টেড ক্যান্ডিডেটস জন্য কিছু বাড়তি পদ সুপারনিউমেরি পোস্ট তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছিল সেই পদগুলির জন্য। এই সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। তা চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। বুধবার আদালত জানিয়েছে, ওই মামলা আলাদা করে শোনা হবে। আগামী ৮ এপ্রিল ওই মামলার পরবর্তী শুনানি। মূল মামলাকারীর আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘একটা বিশাল দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অতিরিক্ত পদ তৈরি করা হয়েছে অযোগ্যদের চাকরি বাঁচানোর জন্য। সেই শুনানি আগামী ৮ এপ্রিল হবে। এখানে দেখা যাবে কী ভাবে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বেআইনি নিয়োগের জন্য অতিরিক্ত পদ তৈরি করল।’’ মূল মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, ‘‘আদালত বলেছে, চিহ্নিত অযোগ্যদের বেতন ফেরত দিতে হবে। তিন মাসের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। যাদের চাকরি গেল, তারা তাতে যোগ দেবে এবং বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পাবে। অর্থাৎ, হাই কোর্টের রায় বহাল থাকল। যোগ্য-অযোগ্যদের চিহ্নিত করা যায়নি। আদালত তো চিহ্নিত করতেই চেয়েছিল। বার বার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তাঁদের বিষয়ে নানা রকমের তথ্য এসেছে। ফলে যা হওয়ার তা-ই হল।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles