RK NEWZ কিছু দিন আগে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেডারেশন বা গিল্ড-এর মতো কোনও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন বন্ধ হবে না। টলিউডে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর জমানা শেষ, অবশেষে স্বস্তিতে টলিউড। এমনই স্বপ্ন দেখেছিল ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত সবাই। কিন্তু তা হচ্ছে কই? খবর, সম্প্রতি ‘কনফেডারেশন’ নিয়ে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে টলিউডের অন্দরে। একাধিক সূত্রে খবর মিলেছে যে, সংগঠনের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য এবং রাজ্যের তথ্য সংস্কৃতি দফতর স্বীকার করছেন না, সেই সংগঠনের ফর্ম বিক্রি হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে! শুধু তাই নয়, বাংলা বিনোদন দুনিয়ার স্বার্থরক্ষার্থে একটি কমিটি গড়ার কথাও ঘোষণা করেছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। সেই কমিটির সম্ভাব্য সদস্যদের নামও ওই বিজ্ঞপ্তিতে ছিল। খবর, সেই কমিটি গঠনের আগেই নাকি টলিউডের কাজকর্ম চালাতে একটি ‘অস্থায়ী’ কমিটি গড়ার জন্য ফের বৈঠকের প্রস্তাব এসেছে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর কাছ থেকে। আরও জানা গেছে, সাপ্লায়ার সৈকতের মাধ্যমে বৈঠকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল প্রোডিউসার গিল্ড-এর অস্থায়ী সভাপতি নীতেশ শর্মা, সহ-সভাপতি সানি ঘোষ রায়, প্রযোজক-পরিচালক সৃজিৎ রায়-সহ অনেকের কাছে। এই জায়গা থেকেই টলিউডের অন্দরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এক, কনফেডারেশনের স্বীকৃতি না থাকার পরেও কেন অর্থের বিনিময়ে সংগঠনের সদস্যপদের ফর্ম বিক্রি হচ্ছে? দুই, একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব যখন ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ঘোষিত, তার পরেও কেন ফের ‘অস্থায়ী’ কমিটি গঠনের জন্য বৈঠকের কথা ভাবা হচ্ছে?
উত্তর খুঁজতে দ্য ওয়াল-এর তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ, সানি ঘোষ রায়, সৃজিৎ রায়ের সঙ্গে। কী বলছেন তাঁরা? পাপিয়ার সাফ দাবি, “অর্থের বিনিময়ে কোনও ফর্ম বিলি করা হয়নি। খেয়াল করলেই দেখা যাবে, ফর্মের মাথায় স্পষ্ট লেখা, এই ফর্ম অর্থের মিনিময়ে বিক্রি করা যাবে না।” এদিকে টলিপাড়ার খবর, ৭০০ টাকার বিনিময়ে ইতিমধ্যেই নাকি হাজার দেড়েক ফর্ম বিক্রি হয়েছে! এ প্রসঙ্গে পাপিয়ার বক্তব্য, “ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে। স্বরূপ বিশ্বাস হাজতে থাকলেও তাঁর দলবল বাইরে। তাঁরাই হয়তো মিথ্যা খবর রটাচ্ছেন।” একই সঙ্গে এও জানান, ফেডারেশনের কবল থেকে টলিউডকে মুক্ত করতেই তিনি কোনফেডারেশনের কথা বলেছেন। স্বীকার করে নেন, শমীকবাবুর বক্তব্যই সঠিক। এই সংগঠনের সঙ্গে রাজ্য সরকার বা বিজেপি জড়িত নয়। তবে কমিটি গড়ার বৈঠক প্রসঙ্গে পাপিয়া কিছু জানাননি।
এদিকে, তাঁরা সাপ্লায়ার সৈকতের মাধ্যমে পাপিয়ার তরফ থেকে বৈঠকের ডাক যে এসেছিল, সে কথা স্বীকার করেছেন প্রযোজক সানি এবং সৃজিৎ। উভয়েই জানিয়েছেন, তাঁরা বৈঠকের প্রস্তাব পেয়েওছিলেন। তবে, প্রস্তাব অনুযায়ী বৈঠক এখনও হয়নি। কেন বৈঠক ডাকা হয়েছিল? প্রশ্নের জবাবে সৃজিৎ বলেন, “সেটা জানানো হয়নি। অনুমান, টলিউডের উন্নতির জন্য পাপিয়াদি এর আগে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার একটি তালিকাও তৈরি করতে বলা হয়েছিল। আমরা সেটি জমা দিয়েছি। সে ব্যাপারেও দিদি আলোচনা করার জন্য ডাকতে পারেন।”
রাজ্য-রাজনীতিতে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টলিউডের উন্নতির দায়িত্ব দিয়েছেন বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের উপরে। তাঁদের অন্যতম রুদ্রনীল এ বিষয়ে কী বলছেন? এভাবে অস্তিত্বহীন সংগঠনের ফর্ম বিক্রি করা যায়? নাকি টলিউডের কাজকর্মের জন্য ‘অস্থায়ী’ কমিটি গঠনের বৈঠক ডাকা যেতে পারে? রুদ্রনীলের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের চার জনের উপরে দায়িত্ব দিলেও আমরা নিজেরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমাদের কাজ, টলিউড সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো। তার পর তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তা জানানো হবে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমে। শিবপুরের বিষয়কের মতে, রাজ্য সরকার দ্রুত কমিটি গড়ার পথে এগোচ্ছে। যাতে টলিউডকে আর অনিশ্চয়তায় ভুগতে না হয়। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী অন্যান্য রাজ্যের প্রযোজকদের বাংলায় এসে নিশ্চিন্তে কাজের অনুরোধ জানিয়েছেন। ফলাফল, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ফের বাংলা ছবি প্রযোজনা করছেন।” তিনি পাপিয়ার ডাকা বৈঠকের প্রস্তাব সম্পর্কে বলেন, “কী কারণে পাপিয়াদি বৈঠক ডাকবেন বলে ভেবেছিলেন, জানি না। হয়তো ব্যক্তিগত কোনও কারণে তিনি প্রযোজকদের মুখোমুখি হতেন।” সেই সঙ্গে একথাও স্পষ্ট করে দেন, রাজ্য সভাপতির বক্তব্যই সঠিক। কনফেডারেশনের কোনও জায়গা নেই। রুদ্রনীল আরও মনে করিয়ে দেন, “রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও একই বার্তা এর আগে জানানো হয়েছে। ফলে, নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরির কথা নয়।”



