মনে ভক্তি এবং বিশ্বাস নিয়ে যদি জগন্নাথদেবের দর্শন করা যায়, তা হলে নানা গ্রহের কুপ্রভাব থেকে মুক্তি মেলে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পুরীর জগন্নাথদেব এবং মন্দির দর্শন করলে পাপও দূর হয়। জগন্নাথ জগতের নাথ হিসাবে আমাদের কাছে পরিচিত। পুরীর জগন্নাথমন্দিরের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য প্রায় কোনও হিন্দুর কাছেই অজানা নয়। জগন্নাথের কৃপায় জীবনের নানা খারাপ অধ্যায় ভালয় পরিবর্তিত হয়। তবে জগন্নাথ দর্শনেও যে নানা সুফলপ্রাপ্তি ঘটে তা অনেকের কাছেই অজানা। শাস্ত্র জানাচ্ছে, মনে ভক্তি এবং বিশ্বাস নিয়ে যদি জগন্নাথদেবের দর্শন করা যায়, তা হলে নানা গ্রহের কুপ্রভাব থেকে মুক্তি মেলে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পুরীর জগন্নাথদেব এবং মন্দির দর্শন করলে পাপও লঙ্ঘন হয়। জগন্নাথদেবের শরীরের এক এক অংশের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বিভিন্ন গ্রহের। তাই গ্রহের দোষ মেনে জগন্নাথের শরীরের সেই অংশের দিকে তাকালে গ্রহদোষ থেকে মুক্তি মেলে। কোন গ্রহ দুর্বল থাকলে কোন অংশের দিকে তাকালে উপকৃত হবেন, জেনে নিন।
সূর্য-চন্দ্রের অশুভ দশা: জন্মছকে সূর্য বা চন্দ্র দুর্বল থাকলে বা তাদের দোষ থাকলে, জাতক-জাতিকার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়। কোনও কাজ করার শক্তি পাওয়া যায় না। দুর্বলতা গ্রাস করে। এমন হলে জগন্নাথদেবের চোখের দিকে তাকিয়ে মনোস্কামনা জানাতে হবে। তা হলে উপকার পাওয়া যাবে। পুরাণমতে, জগন্নাথদেবের চোখে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিহিত রয়েছে।
বুধ-মঙ্গলের অশুভ দশা: মঙ্গল এবং বুধ বিপরীতধর্মী হলেও তাদের দু’জনের সঙ্গেই জগন্নাথদেবের অসমাপ্ত হাতের সম্পর্ক রয়েছে। মঙ্গল দুর্বল হলে রাগের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। রক্তপাতের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। অন্য দিকে বুধের দোষে পেশাজীবনে উন্নতি আটকে যায়। প্রচুর পরিশ্রমের পরও ব্যবসা থেকে মনোমতো মুনাফা মেলে না। বুদ্ধি লোপ পায়। এমনটা হলে জগন্নাথদেবের হাতের দিকে তাকাতে হবে।
রাহু-কেতু এবং শনির অশুভ দশা: রাহু-কেতু এবং শনি, শাস্ত্রমতে এরা সকলেই অশুভ গ্রহ। এই তিন গ্রহ দুর্বল থাকলে বা এদের খারাপ নজরের কবলে পড়লে জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। জীবনে সঙ্কটের অভাব থাকে না। শাস্ত্র জানাচ্ছে এই তিন গ্রহের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে জগন্নাথদেবের পায়ের। এমনটা হলে তাঁর পায়ের দিকে তাকাতে হবে।
বৃহস্পতি-শুক্রের অশুভ দশা: বৃহস্পতির খারাপ প্রভাব থাকলে যে কোনও কাজে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। অন্য দিকে শুক্রের কুপ্রভাবে দাম্পত্যজীবনে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অর্থকষ্ট পিছু ছাড়তে চায় না। জগন্নাথদেবের নাভীকুণ্ডলীর দর্শনে এই দুই গ্রহের অশুভ প্রভাব থেকে রেহাই মেলে বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।
বাড়িতে যে তুলসীগাছ রাখা হয়, সেটা যদি শুকিয়ে যায় তা হলে তুলে জলে দিয়ে দিতে হয়। শুকনো তুলসীগাছ বাড়িতে রাখা উচিত নয় এটাই এত দিন জেনে এসেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুকনো তুলসীগাছ দেখতে নেই এই ভয় প্রায় সকলের মনেই থাকে। কিন্তু শুকনো তুলসীগাছ নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই বা তা বাইরে ফেলে দেওয়ারও দরকার নেই। জ্যোতিষমতে, শুকনো তুলসীগাছ দিয়ে বিশেষ এক ক্রিয়া করলে সংসারের খুবই মঙ্গল হয়। শুকনো তুলসীগাছের কাণ্ড ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে। তার পর সেই টুকরোগুলো একসঙ্গে একটা সুতির সুতো দিয়ে বেঁধে নিন। এর পর সেগুলি ঘি মাখিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে গেলে একটা মাটির প্রদীপে রেখে জ্বালতে হবে। যদি প্রতি দিন সম্ভব হয় তা হলে প্রতি দিনই জ্বালা যেতে পারে। আর যদি প্রতি দিন সম্ভব না হয়, তা হলে সপ্তাহে এক-দু’দিনও জ্বালানো যেতে পারে। শুকনো তুলসীগাছের কাণ্ডগুলি নারায়ণের সামনে জ্বালাতে হবে। এই ক্রিয়া বাড়িতে করতে পারলে নারায়ণের কৃপা পাওয়া যায় এবং সংসারে শ্রীবৃদ্ধি হয়। অশান্তি কমে গিয়ে বাড়িতে সুখ-শান্তি ফিরে আসবে।





