অশোক দিন্দার অস্থাবর সম্পত্তি! ৯০০ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার দাম ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া তিন কেজি রুপোও রয়েছে তাঁর কাছে। তার দাম সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। পাঁচ বছর আগে যখন তিনি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তখনও তাঁর নিজের নামেই অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল এক কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া জমিজমা, বাড়ি এবং স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তিও ছিল। পাঁচ বছর পেরিয়ে অশোকের সম্পত্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাঁর নিজের নামে থাকা অস্থাবর সম্পত্তিই বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণের বেশি। তবে পাঁচ বছর আগে তাঁর তিনটি গাড়ি ছিল। এখন তা কমে দু’টি হয়েছে। যদিও বিএমডাব্লিউ গাড়িটি এখনও রয়েছে। পাঁচ বছর আগে পা রাখেন রাজনীতিতে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে যোগ দেন বিজেপিতে। বাইশ গজে তাঁর একদা সতীর্থ মনোজ তিওয়ারি যে দিন তৃণমূলে যোগ দেন, ঠিক সেই দিনেই পদ্ম-পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। গত বিধানসভা ভোটে তাঁকে ময়না থেকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। প্রথম বার ভোটে লড়েই জয়ী হন। ময়নার বিধায়ক অশোককে এ বার ফের সেই একই আসন থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন তিনি। ময়নার বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়কের সম্পত্তি, জমিজমা, আয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে তাঁর নির্বাচনী হলফনামায়। ২০২১ সালের ভোটের আগে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, অশোকের ১ কোটি ৯ লক্ষ ৮০ হাজার ১২৫ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল। এ ছাড়া তাঁর স্থাবর সম্পত্তি (জমিজমা, বাড়ি ইত্যাদি)-র সেই সময়ের বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ৬৭ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে কিছু স্থাবর সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রেও পেয়েছেন তিনি। পাঁচ বছর পেরিয়ে তাঁর স্থাবর এবং অস্থাবর উভয় সম্পত্তির পরিমাণই বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২ এপ্রিল জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, অশোকের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৪৩৭ টাকায়। ময়নার বিদায়ী বিধায়কের এখন যে পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, তার বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯৪ হাজার টাকা। সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অশোকের আয় ছিল ৩৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। আগের চার বছরে তাঁর আয়ের হিসাবনিকাশও উল্লেখ রয়েছে হলফনামায়। ২০২০-২১ সালে ৯ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা, ২০২১-২২ সালে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা, ২০২২-২৩ সালে ১৪ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ সালে ৭ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা আয় ছিল বিধায়কের। ২ এপ্রিলের হলফনামা অনুযায়ী, ওই সময়ে তাঁর কাছে নগদে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৫০০ টাকা ছিল। ছ’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁর। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে ৮,৭০,৫০০ টাকা, ৫০,৭৪৮ টাকা, ২,০০,০০০ টাকা, ১,৫০,০০০ টাকা এবং অপর দু’টিতে ৫০,০০০ টাকা করে রয়েছে। এ ছাড়া পোস্ট অফিসেও ৯ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা গচ্ছিত রেখেছেন অশোক।

ময়নার বিজেপি প্রার্থী হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ৯০০ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার দাম ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া তিন কেজি রুপোও রয়েছে তাঁর কাছে। তার দাম সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। পাঁচ বছর আগে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর কাছে তখন ১৬ গ্রাম সোনা ছিল। যার দাম সেই সময়ে ছিল ৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর নামেও সোনা রয়েছে। স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও অর্থ গচ্ছিত রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে অশোকের স্ত্রীর মোট ৩৪ লক্ষ ২৭ হাজার ১৫২ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। স্ত্রীর নামে যে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, তার বর্তমান মূল্য ১৫ লক্ষ টাকা। পাঁচ বছর আগে অশোকের নিজের নামে তিনটি গাড়ি ছিল। তার মধ্যে একটি বিএমডাব্লিউ। যার দাম ৫১ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া আরও দু’টি গাড়ি ছিল তাঁর। একটির দাম ছিল ১২ লক্ষ টাকা, অপরটির ১৩ লক্ষ টাকা। নতুন হলফনামা অনুযায়ী, পরের দু’টি গাড়ি এখন আর নেই তাঁর কাছে। পরিবর্তে অন্য একটি গাড়ি ব্যবহার করছেন তিনি। সেটির দাম সাড়ে ২১ লক্ষ টাকা। যদিও পুরনো বিএমডাব্লিউ গাড়িটি এখনও রয়েছে অশোকের। ব্যাঙ্ক থেকে ৫৬ লক্ষ ৫১ হাজার টাকার একটি গৃহঋণও নিয়েছেন।
পাঁচ বছর আগে যখন অশোক ময়না থেকে প্রথম বার নির্বাচনে লড়েন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর ছিল না। সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, অশোকের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি এফআইআর হয়েছে। এর মধ্যে ময়না থানায় দু’টি এবং তমলুক থানায় তিনটি এফআইআর রয়েছে। গত বছরে কলকাতায় নিউ মার্কেট থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর রুজু হয়েছে। তবে এর মধ্যে কোনও মামলাতেই এখনও চার্জগঠন হয়নি। নিউ মার্কেট থানার মামলাটি রয়েছে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। অন্য মামলাগুলিও ঝুলে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের আদালতে। হলফনামায় অশোক জানিয়েছেন, ‘নবান্ন অভিযান’ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক বাংলায় স্নাতক। সিকিমের ইস্টার্ন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১০ সালে স্নাতক হন তিনি। পেশাগত পরিচয়ে অশোক জানিয়েছেন, ময়নার বিধায়কপদের পাশাপাশি তিনি সিএবি-র ‘ভিশন কোচ’।





