Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দীর্ঘ দিনের অনিয়মের কারণে হার্টের রোগ!‌ অজান্তেই রোজের অভ্যাসে ক্ষতি হচ্ছে শরীরের

দৈনন্দিন জীবনের আপাত নিরীহ কিছু রুটিনই হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই দ্রুত সতর্ক হওয়া উচিত প্রত্যেকের। হার্টের রোগ ধরতে পারে দীর্ঘ দিনের অনিয়মের কারণেও। রোজের কিছু অভ্যাস বা জীবনযাপন পদ্ধতি হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অনেকেই মনে করেন, বড়সড় কোনও ঘটনা বা কারণই হার্টের ক্ষতি করে, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের আপাত নিরীহ কিছু রুটিনই হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই দ্রুত সতর্ক হওয়া উচিত প্রত্যেকের। কিছু ক্ষতিকারক অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত তাড়াতাড়ি।

অপর্যাপ্ত ঘুম: গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা বা কম ঘুম হওয়া শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দকে বিঘ্নিত করে, যার ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং হার্টের উপর চাপ পড়ে। দীর্ঘ দিন ধরে যদি ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হয়, তা হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে হার্টে চাপ পড়ে।

অতিরিক্ত ব্যস্ততা ও মানসিক চাপ: সারা ক্ষণ সতর্ক থাকা, ব্যস্ত থাকা এবং নিজেকে বিশ্রাম না দেওয়ার মতো অভ্যাস হার্টের শত্রু। দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসল বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে ধীরে ধীরে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার: প্যাকেটজাত বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়া করা খাবার মানেই অতিরিক্ত নুন, চিনি, তেল এবং সংরক্ষণকারী রাসায়নিকের উপস্থিতি। ছাঁকা তেলে ভাজা খাবার বা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার অথবা কার্বোনেটেড পানীয় ধমনীতে প্লাক জমার প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে হার্টের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে।

ধূমপান: রক্তনালির ভিতরের স্তর, অর্থাৎ এন্ডোথেলিয়ামের সরাসরি ক্ষতি করে ধূমপানের অভ্যাস। পাশাপাশি নাইট্রিক অক্সাইডও কমিয়ে দেয়, যা রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে রক্তনালিতে প্রদাহ তৈরি হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ফলে হার্টের রোগের ঝুঁকি প্রবল ভাবে বেড়ে যায়।

কায়িক শ্রমহীন যাপন: সারা দিন বসে বসে কাজ করেন? কায়িক শ্রমহীন এই যাপন কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ হলেও তা শরীরের জন্য ক্ষতিরক। হার্টের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে এই ধরনের যাপন। হার্টের পেশিকে সক্রিয় বা সচল না রাখলে ক্ষয় হতে থাকে। পাশাপাশি শরীরে রক্ত চলাচল সুষ্ঠু ভাবে হতে পারে না। তাই রোজের শরীরচর্চা খুব প্রয়োজন। ব্যায়ামের সময় না থাকলেও ঘরের কাজ করে নিজেকে সক্রিয় রাখা যায়।

বুকে ব্যথা মানেই হৃদ্‌রোগ নয়, ফুসফুস ও পেটের রোগও হতে পারে, যন্ত্রণার ধরনই বলে দেবে। বুকে ব্যথা হলে হার্টের রোগের কথাই মাথায় আসে। চিনচিনে ব্যথা হোক বা বুকে চাপ অনুভব করা, সবের জন্য সেই হৃদ্‌যন্ত্রকেই দায়ী করা হয়। অথচ খলনায়ক হতে পারে ফুসফুস বা পাকস্থলী। বুকে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে সব সময়ে? না কি মাঝেমধ্যে চাপ চাপ ব্যথার অনুভূতি হচ্ছে? মনে হচ্ছে, কেউ যেন কয়েক মণ ভারী পাথর বসিয়ে দিয়েছে। বুকে ব্যথা হলেই হৃদ্‌রোগ বলে ভেবে নেন অনেকেই। আতঙ্কিতও হন। কিন্তু বুকে ব্যথার কারণ অনেক হতে পারে। হার্টের অসুখের প্রধান উপসর্গই হল বুকে ব্যথা, যার সঙ্গে বদহজম বা গ্যাসের ব্যথার মিল আছে। আবার ফুসফুসের রোগ হলেও তার পূর্বলক্ষণে বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকে চিনচিনে ব্যথা হোক বা চাপ চাপ ব্যথা, কোন ব্যথা কী কারণে হচ্ছে, তা বোঝা খুব জরুরি। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ তো নিতেই হবে, তা ছাড়া কিছু উপসর্গও চিনে রাখতে হবে। ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ হয় অনেকের। তখন মনে হয় গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে রয়েছে। খাদ্যনালি দিয়ে অ্যাসিড উঠে আসতে থাকে গলার কাছে। প্রচণ্ড জ্বালা হয়। সেই সঙ্গে বুকে-পিঠে ব্যথা করতে থাকে। যদি বুকে ব্যথার পাশাপাশি গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে আছে মনে হয়, তা হলে বুঝতে হবে তা অম্বলের জন্য হচ্ছে। আর আছে বুকের মাঝখানে বা নীচের দিকে জ্বালাপোড়া অনুভব হওয়া। শোয়ার সময় বা খাওয়ার পর এই ব্যথা বাড়তে পারে। ভারী খাবার খেয়ে শোয়ার পরেই চোঁয়া ঢেকুর উঠতে শুরু করে। এমন ব্যথার কারণ হতে পারে ‘জিইআরডি’, অর্থাৎ ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’। শ্বাস টানার সময়ে বা কাশতে গিয়ে যদি বুকের একপাশে তীব্র যন্ত্রণা বা চিনচিনে ব্যথার মতো অনুভূতি হয়, তা হলে সেটি ফুসফুসের সমস্যার কারণে হতে পারে।

বুকে সারা ক্ষণই যদি ব্যথা হতে থাকে, সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়, তা হলে বুঝতে হবে নিউমোনিয়া বাসা বাঁধছে। জল জমছে ফুসফুসে। ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলেও তীব্র ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথাকে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। এটি হয় পালমোনারি এমবলিজ়ম বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে। অনেক সময়ে যক্ষ্মা বা ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধলেও বুকে ব্যথার অনুভূতি হয়। তবে সে ক্ষেত্রে কফের সঙ্গে রক্ত উঠে আসতে পারে। হৃদ্‌রোগের কারণে ব্যথা হলে তার উপসর্গ কিছু আলাদা। তখন বুকের মাঝখানে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে বুকে চাপ ধরছে। এই ব্যথা যদি বুক থেকে ঠেলে গলার দিকে উঠতে শুরু করে, সেই সঙ্গে হাতেও ব্যথা শুরু হয় তা হলে সাবধান হতে হবে। ব্যথার সঙ্গেই দরদর করে ঘাম হতে পারে। ব্যথা ধীরে ধীরে পিঠের দিকেও যাবে। চোয়াল ও কাঁধেও ব্যথা শুরু হবে। তখন হাত-পা ঠান্ডা হতে শুরু করবে। হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যাবে। তখন এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে, কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles