সিইও দফতরের কন্ট্রোল রুমে ৬৬০টি টিভি স্ক্রিন বসানো হয়েছে। প্রতিটি বড় স্ক্রিনে একই সঙ্গে ১২টি বুথের লাইভ ফিড দেখা যাবে। নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন ২৩৫২ জন মাইক্রো অবজার্ভার এবং ৯৬৫ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট অবজার্ভার। স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ঢাল তৈরি করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ওয়েবকাস্টিং এবং ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তাঁর দাবি, এবার কেবল বুথের ভেতর নয়, বুথের বাইরেও কড়া নজরদারি চালানো হবে এবং বুথ দখল বা ভোটারদের বাধা দেওয়ার সামান্যতম চেষ্টাকেও ‘বুথ ক্যাপচারিং’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
বুথে সিসিটিভি-র নতুন বিন্যাস
আগে বুথের ভেতর একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকত। সিইও জানিয়েছেন, এবার বুথের ভেতরে ও বাইরে— দু’জায়গাতেই ক্যামেরা বসানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ‘৩৬০ ডিগ্রি’ ভিউ নিশ্চিত করতে অনেক বুথে দু’টি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। এবারের লক্ষ্য ১০০ শতাংশ বুথকে ওয়েবকাস্টিংয়ের আওতায় আনা।
ত্রিস্তরীয় নজরদারি
পুরো ভোট প্রক্রিয়াটি তিনটি আলাদা স্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে
প্রথম স্তর: রিটার্নিং অফিসারের ঘরে থাকবে স্থানীয় কন্ট্রোল রুম।
দ্বিতীয় স্তর: জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও অফিসে থাকবে নজরদারি কেন্দ্র।
তৃতীয় স্তর: খোদ সিইও দফতরে বসানো হয়েছে মূল কন্ট্রোল রুম।
সিইও দফতরের কন্ট্রোল রুমে ৬৬০টি টিভি স্ক্রিন বসানো হয়েছে। প্রতিটি বড় স্ক্রিনে একই সঙ্গে ১২টি বুথের লাইভ ফিড দেখা যাবে। নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন ২৩৫২ জন মাইক্রো অবজার্ভার এবং ৯৬৫ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট অবজার্ভার। এমনকি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ক্যুইক রেসপন্স টিমের গাড়িতেও ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস থাকছে।
ইভিএম ও গণনাকেন্দ্র
ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়েও বড় তথ্য দিয়েছেন সিইও। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ ইউনিটের ‘ফার্স্ট লেভেল চেকিং’ সম্পন্ন হয়েছে। ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট বহনকারী গাড়িতে থাকছে জিপিএস ট্র্যাকিং। ভোটের দিন বুথের লাইভ ফিড যেমন আসবে, তেমনই গণনাকেন্দ্রের সরাসরি ছবিও সিইও দফতরের কন্ট্রোল রুমে ধরা পড়বে।
কড়া হুঁশিয়ারি
এদিন সিইও স্পষ্ট করে দেন যে, বুথের ভেতর গোলমাল না হলেও যদি দেখা যায় বুথ থেকে কিছুটা দূরে ভোটারদের বাধা দেওয়া হচ্ছে বা কেউ আসতে পারছে না, তবে তাকেও ‘বুথ ক্যাপচারিং’ হিসেবেই ধরা হবে। স্বচ্ছতা রক্ষায় ২ লক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে গোটা নির্বাচনকে মুড়ে ফেলা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সব মিলিয়ে, প্রযুক্তির ব্যবহারে বিন্দুমাত্র খামতি না রেখে ছাব্বিশের নির্বাচনকে ‘১০০ শতাংশ স্বচ্ছ’ করতে মরিয়া জাতীয় নির্বাচন কমিশন।





