বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ফের দলবদল। তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগদান। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে দলে এলেন মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। এছাড়াও এদিন গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের রাজবংশী নেতা বংশীবদন বর্মন। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ফের দলবদল। তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগদান। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে দলে এলেন মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। এছাড়াও এদিন গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের রাজবংশী নেতা বংশীবদন বর্মন। এই দুই নেতা বিজেপিতে যোগদানের ফলে উত্তরবঙ্গে বিজেপির আরও শক্তি বাড়বে। ভোটব্যাঙ্কে সুফল মিলবে। এমনই মনে করছে বিজেপি। গতকাল, সোমবার কলকাতার হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতা সন্তোষ পাঠক বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। অর্ঘ্য রায় প্রধান কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বিধায়ক ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি মেখলিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে টিকিট পান। ওই কেন্দ্র থেকেও তিনি জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে পরেশচন্দ্র অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। দল অর্ঘ্যকে টিকিট না দিয়ে পরেশকে প্রার্থী করে। ভোটে জয়ীও হন তিনি। এবার অর্ঘ্য রায় প্রধান মনে করেছিলেন তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস টিকিটি দেবে। কিন্তু এবারও তিনি টিকিট পাননি। ফের দল ওই কেন্দ্রে পরেশচন্দ্র অধিকারীকে টিকিট দিয়েছে। এরপর থেকেই অর্ঘ্য বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। কলকাতায় বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এই দলবদল হয়। অর্ঘ্য রায় প্রধান ও বংশীবদন বর্মনের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেন শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধকারী। দলবদল করে অর্ঘ্য বলেন, “আজ এই দলের সঙ্গে যুক্ত হলাম। দুর্নীতির সঙ্গে সমঝোতা করে যে দল চলছে তাদের সঙ্গে থাকতে পারলাম না। এই দুর্নীতি করে কোনও রাজনৈতিক দলে কাজ করা সম্ভব নয়। মানুষের কাছে জবাবদিহি করা সম্ভব নয়। তাই এই দলে সম্পৃক্ত হলাম। আগামী দিনে বিজেপিতে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করব। গর্ববোধ করছি।” প্রসঙ্গত অর্ঘ্য রায় প্রধানের বাবা অমর রায় প্রধান ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা ছিলেন। তিনি পাঁচবারের সাংসদও ছিলেন। গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের নেতা বংশীবদন বর্মন গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে বলেন, “রাজবংশী সম্প্রদায়ের আলাদা সংস্কৃতি-ভাষা আছে। সেটির উন্নয়ন, বিকাশ এতদিন সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের রাজবংশী সম্প্রদায়ের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের নীতি-আদর্শ আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। তাই তাদের সমর্থন জানাচ্ছি।”
২৬-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সুর আরও চড়াল বিজেপি। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করলেন, আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য – পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিমবাংলাদেশ’ হতে না দেওয়া। তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে রাজ্য এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করা হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো হবে বলেও জানান। খিদিরপুর, মহেশতলা এবং মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে এবং বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগও ফের তোলেন। বিতর্ক উস্কে দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে কেউ এলে নিজের জমি নিয়েই আসুক। না হলে যাঁরা পাঠাচ্ছেন, তাঁদেরই যশোর-খুলনা ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া উচিত।” হুমায়ুন কবীরকে ঘিরেও আক্রমণ শানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, কিছু এলাকায় ‘মিনি পাকিস্তান’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রকাশ্যে ধর্মীয় প্রচার চলছে। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকেও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, বিজেপি কোনও ধর্মের বিরোধী নয়। তিনি বলেন, “ভারতীয় মুসলমানদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। আমরা এপিজে আব্দুল কালাম ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো ব্যক্তিত্বদের সম্মান করি।” বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ টেনেও মন্তব্য করে বক্তব্য, অতীতের ‘গোলামির প্রতীক’ আর ফিরতে দেওয়া হবে না এবং কেউ চেষ্টা করলে রাজ্যের সব সম্প্রদায় একসঙ্গে তার বিরোধিতা করবে।





