রক্তচাঁদ দেখেছেন প্রায় গোটা দেশের মানুষ। পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদকে প্রবেশ করতে না দেখলেও বার হতে দেখেছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। দোল পূর্ণিমার দিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলল চন্দ্রগ্রহণ। বঞ্চিত থাকেননি ভারতবাসীও। পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ ভারতের মাত্র কয়েক জায়গায় মিলল। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। তার উপর সূর্যের আলো পড়ে। তার পরেই তাকে দেখা যায়। পৃথিবী চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে চলে এলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপরে। তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হয় লাল। সে কারণে তাকে ‘রক্ত চাঁদ’ (ব্লাড মুন)-ও বলা হয়ে থাকে। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি কালো কিন্তু হয় না। বদলে লাল হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো গ্রহণ করে (তার মধ্যে দিয়ে যখন সেই রশ্মি প্রতিসরিত হয়), তখন সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম পরিমাণে প্রতিসরিত হয় এবং তা চাঁদের উপরে গিয়ে পড়ে। অন্য দিকে, সূর্যরশ্মির নীল অংশটি চার দিকে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে। তাই চাঁদকে গ্রহণের সময়ে গাঢ় কালচে লাল দেখা যায়। কিন্তু কখনও কালো দেখায় না। কলকাতায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে চন্দ্রোদয় হয়। সেই সময় থেকেই দেখা যায় গ্রহণ। যদিও তত ক্ষণে শেষ হয়ে গিয়েছে পূর্ণগ্রাস। কলকাতার আকাশে প্রায় এক ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে ধরে দেখা গিয়েছে গ্রহণ। দার্জিলিঙে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় গ্রহণ। তা চলে এক ঘণ্টা ১১ মিনিট ধরে। কোচবিহারে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে দেখা যায় গ্রহণ। মেদিনীপুরে বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় গ্রহণ। চলে এক ঘণ্টা ৪ মিনিট ধরে। মুর্শিদাবাদে ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে আকাশে দেখা যায় গ্রহণ। ভারতীয় সময় অনুসারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ পর্যন্ত ছিল প্রচ্ছায়া। তখন মলিন দেখায় চাঁদকে। ৬টা ৪৭ নাগাদ প্রচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে যায় চাঁদ। তার পরে ধীরে ধীরে চাঁদের একটা দিক উজ্জ্বল হতে থাকে। এর পরে উপছায়া থেকে চাঁদ বেরিয়ে যায় সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে। তখন ঝলমলে দেখায় পূর্ণিমার চাঁদকে। ৭টা ৫৩ মিনিট নাগাদ উপছায়া থেকেও বেরিয়ে এল চাঁদ। পূর্ণিমার রাতে উজ্জ্বল পৃথিবীর উপগ্রহ।




